11.2 C
Toronto
বুধবার, অক্টোবর ৫, ২০২২

‘ওভাই’ অ্যাপের বেতনে চালকদের ‘সংসার চলে না’

- Advertisement -

‘ওভাই’ অ্যাপের বেতনে চালকদের ‘সংসার চলে না’

গাড়ি, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল সেবা দেওয়ার দেশীয় রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘ওভাই’। প্রতিষ্ঠানটির সহায়তা নিয়ে এখন রাজধানীতে নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে যাতায়াত করা যাচ্ছে। তবে বিপত্তি বেধেছে ‘ওভাই’ সিএনজি চালকদের বেতনে।

জানা গেছে, ‘ওভাই’ অ্যাপে যে সিএনজিচালকরা রেজিস্ট্রারভুক্ত, তাদের দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা অনলাইনে থাকতে হয়। অর্থ্যাৎ এই ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা অবশ্যই রাইড শেয়ার দিতে হবে একজন সিএনজিচালককে। এভাবে মাসের ২৬ দিন রাইড শেয়ার করলে তাদের বেতন দেওয়া হয় ৮ হাজার ৫৮০ টাকা থেকে ১০ হাজার ৪০০ টাকা।

ওই বেতন নির্ধারণ করা হয় চালকদের প্রতিদিনের কর্ম ঘণ্টা হিসেবে। একজন চালক দিনে ১০ ঘণ্টা অনলাইনে থেকে রাইড শেয়ার দিলে এক দিনের আয় ধরা হয় ৩৩০ টাকা। এই হিসেবে তার মাসিক বেতন হয় ৮ হাজার ৫৮০ টাকা। আবার তিনি দিনে ১২ ঘণ্টা অনলাইনে থেকে রাইড শেয়ার করলে দিনে ৪০০ টাকা হারে মাসিক বেতন পাবেন ১০ হাজার ৪০০ টাকা।

আরও পড়ুন :: দিনাজপুরে ব্যতিক্রম পেশায় লক্ষাধিক নারী

চালকদের অসন্তোষ
বেতন নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ‘ওভাই’ অ্যাপের সিএনজিচালকরা। তারা জানান, দুর্মূল্যের বাজারে এই বেতন দিয়ে পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে জীবন কাটছে তাদের।

রাইড শেয়ারিং অ্যাপে সিএনজি চালালে জমার টাকা নিয়ে চিন্তা করতে হয় না জানিয়ে চালকরা বলেন, অন্তত সিএনজির জমার টাকা নিয়ে চিন্তা করতে হয় না। সিএনজি প্রতি সরকার থেকে ৯০০ টাকা জমা নির্ধারণ করা হলেও তাদের গুনতে হয় ১২০০ টাকা। ওভাই অ্যাপ চালককে দেয় ১১০০ টাকা। বাকি ১০০ টাকা চালকদের দিতে হয়।

অভিযোগের শেষ নেই চালকদের
চালকরা বলছেন, গ্যাসের দাম বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন একজন সিএনজিচালককে কমপক্ষে ২২০ থেকে ৩০০ টাকা গ্যাস নিতে হয়। এখানে প্রতিষ্ঠান প্রতি কিলোমিটার ৩ টাকা ৫০ পয়সা হিসেবে দিচ্ছে। তবে সেটা প্রদান করা হয় যাত্রীকে তোলা থেকে নির্দিষ্ট গন্তব্য পর্যন্ত কিলোমিটার হিসাব করে। দেওয়া হয় না যাত্রীকে নিতে যাওয়ার সময় খরচ হওয়া গ্যাসের টাকা। যদিও প্রতিদিনের হিসাবে ৫-৭ কিলোমিটার গ্যাসের টাকা বাড়তি দেওয়া হয় তাদের।

তবে চালকরা বলছেন, এটা খুবই নগণ্য। কারণ তাদের আরও বেশি গ্যাস খরচ হয় একজন যাত্রীকে নিতে যাওয়ার সময় এবং যাত্রীকে নামিয়ে গ্যাস নিতে যাওয়া বা পরবর্তী যাত্রী তোলা পর্যন্ত। এ ছাড়া যাত্রীকে নামানোর পর একজন চালককে ওই স্থানের আশেপাশের ১-২ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থান করতে হয়। অন্যথায় প্রতিষ্ঠানের কাছে তাদের জবাবদিহি করতে হয়।

চালকদের একাংশের দাবি, তারা চান তাদের জায়গায় থেকে যাত্রী পাওয়ার আশায় হলেও ২ কিলোমিটারের বেশি যেতে। অনেক সময় যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছানোর পর সেখানে ২ কিলোমিটারের মধ্যে থাকে না কোনো গ্যাস পাম্প। এ জন্য হলেও তারা বেশি দূরত্বে যেতে চান।

ট্রিপ বাতিল নিয়ে বিভ্রাট
রাইড বাতিল হওয়ার বিষয়ে চালকরা বলেন, সিএনজিচালকরা চাইলেও ট্রিপ বাতিল করতে পারেন না। একটা ট্রিপ বাতিল করলে জরিমানা দিতে হয় ৩০ টাকা। দ্বিতীয় ট্রিপ বাতিল করলে ৮০ টাকা। এভাবে বাড়তে থাকে জরিমানার পরিমাণ। কোনো যাত্রী চালকদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করলেও তারা ট্রিপ বাতিল করতে পারেন না। তবে অফিসকে জানানোর অপশন রয়েছে। যাত্রী ট্রিপ বাতিল করলে বা কল না ধরলে অফিসকে জানাতে হয়। অফিস পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়।

স্বাভাবিক দিনগুলোতে দিনে ৫টা থেকে ৬টা ট্রিপ দিতে পারেন একজন চালক। আবার বৃষ্টির দিনে এই ট্রিপ বেড়ে ১০ থেকে ১২টাও হয়ে যায়। প্রতি ট্রিপে গড়ে ২০০ থেকে ২২০ টাকা আসে। সর্বনিম্ন ১৫২ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা প্রতি ট্রিপে আয় করতে পারেন একজন চালক।

বেতনে চলে না সংসার
যাত্রীরা চাইলে তাদের ভাড়া বিকাশে, ভিসা কার্ডের মাধ্যমে বা ক্যাশেও দিতে পারেন। এই টাকা থেকেই মাস শেষে বেতন দেওয়া হয় চালকদের। বিকাশে পেমেন্ট হলে সেটা মাসে শেষে হাতে আসে। তবে ক্যাশে ভাড়া দিলে সেটি চালকদের মূল বেতন থেকে কেটে রাখা হয়।

প্রতিদিন বেলা ১২টার আগে চালকদের অ্যাপে উপস্থিত থাকতে হয়। এই সময় থেকে রাত ১২টার মধ্যে চালকদের ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা অনলাইনে রাইড শেয়ার করতে হয়।

সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর দুপুরের খাবার ও চা-নাস্তাসহ সারা দিনে একজন সিএনজিচালকের খরচ আসে ২০০-২৫০ টাকা। অথচ তারা বেতন পান ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। সেই বেতন দিয়ে সম্ভব হয় না তাদের ছেলেমেয়েকে পড়ানো বা ন্যূনতম পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ করার।

রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় বিএসটিআই’র প্রধান কার্যালয়ের সামনের সড়কে কথা হয় সিএনজিচালক ফারুক হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘গ্যাসের টাকা দিয়ে কোম্পানি যদি দুই কিলোমিটারের বেশি ঘোরার সিস্টেম করত, তাহলে হয়তো আমাদের একই জায়গায় বসে থাকতে হতো না। বিভিন্ন মোড়ে গিয়ে যাত্রী পেতাম, আমাদের ট্রিপের সংখ্যা বাড়ত। আমরাও খুশি হয়ে রাইড শেয়ার করতে পারতাম। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে একই জায়গায় অনেক সময় আমাদের বসে থাকতে হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কোনো ট্রিপ পাই না।’

‘ওভাই’ অ্যাপের আরেক সিএনজিচালক নবাব মিঞা বলেন, ‘২ থেকে ৪ কিলোমিটারের মধ্যে গ্যাস পাম্প থাকে না বেশিরভাগ সময়। অনেক সময় গ্যাসের লাইনে দীর্ঘ ভিড় থাকে। যাত্রীদের নিয়ে তো গ্যাস নেওয়া সম্ভব নয়। এই সময়ে কোম্পানি গ্যাসের কোনো খরচ দেয় না। অন্যদিকে গ্যাস বা যাত্রীদের জন্য হলেও নির্দিষ্ট সীমানার বাইরে গেলে জবাবদিহি করতে হয়। কোম্পানি ভাবে আমরা চুক্তিভিত্তিক ভাড়া মারছি।’

এ বিষয়ে জানতে ‘ওভাই’ অ্যাপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আনিস আহমেদের মুঠোফোনে কল করা হয়। ফোন ধরে তার সহকারী পরিচয় দিয়ে জানানো হয়, তিনি কথা বলতে ইচ্ছুক নন।

পরে যোগাযোগ করা হয় ‘ওভাই’ অ্যাপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাহিদ ইশতিয়াক চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আপনাদের তথ্যে কিছুটা গ্যাপ আছে।’ ব্যস্ত আছেন জানিয়ে আগামীকাল সোমবার তাদের অফিসে দেখা করতে বলেন।

সূত্র : আমাদের সময়

Related Articles

Latest Articles