12.7 C
Toronto
বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২২

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কিশোরীদের নেতৃত্বে জলবায়ু আন্দোলন

- Advertisement -

বৈশ্বিক জলবায়ু সংকটে কিশোরীরা শুধু বিপদাপন্নই নন, নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকায় থেকে তারাও অবদান রেখে চলছেন। সুইডিশ জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ কিংবা আফ্রিকার কন্ঠস্বর ভানেসা নাকাতে। পিছিয়ে নেই বাংলাদেশি জলবায়ু কর্মী আরুবা ফারুকরা। জলবায়ু সংকট মানেই শিশু অধিকার সংকট: উত্তরণে আন্ত:প্রজন্ম সংহতি- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যাতিক্রমধর্মী কর্মসূচি। বিভিন্ন বর্ণিল আয়োজনে আর শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। যার পুরো নেতৃত্বেই ছিলেন এক দল কিশোরী।

বুধবার সাবেরা সোবহান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় দিনব্যাপি এ কর্মসূচিতে ছিল জলবায়ু অলিম্পিয়াড, রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা। জলবায়ু বিষয়ক দেয়ালিকা উন্মোচন ও আলোচনা সভা ছাড়াও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দিনভর মুখরিত ছিল বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। বিদ্যালয়টির দশম শ্রেণির প্রভাতি শাখার শিক্ষার্থী ও জলবায়ু কন্যা খ্যাত আরুবা ফারুকের পরিকল্পনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিসের নির্বাহী সমন্বয়ক সোহানুর রহমান। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সাবেরা সোবহান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বদিউজ্জামান ভূঞা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক মো. নিজাম উদ্দিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তরুণ জলবায়ু কর্মী সোহানুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন অস্তিস্তের সংকট। অধিক কার্বন নিঃসরণকারী শিল্পোন্নত দেশগুলো মূলত এর জন্য দায়ী। বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ধরে রাখার লক্ষ্য অর্জন করতে হলে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী কার্বন নিঃসরণ ২০১০ সালের তুলনায় ৪৫% কমানোর কোন বিকল্প নেই। বাংলাদেশের মত ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোর পাশে দাঁড়াতেই লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড গঠন করা জরুরী। তাই বিশ^ সম্প্রদায়কে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তারুণ্যের শক্তিই পারে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি থেকে দেশকে রক্ষা করতে, পৃথিবীকে বাঁচাতে। ঝুঁকি মোকাবিলায় কিশোরী ও তরুণদের সম্পৃক্ত করা গেলে এই কাজ আরও সহজ হবে। তারাই হতে পারে এই সংকটের সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু। শিক্ষার মাধ্যমে এসব কিশোরীর ক্ষমতায়ন করা গেলে সংকট সমাধানের অংশ হতে পারে তারা। এসময় তিনি কিশোরীদের টেকসই জীবনশৈলী গ্রহণ এবং প্রতিদিন ব্যাক্তি জীবনে জলবায়ু উদ্যোগ গ্রহণের আহবান জানান।

আসন্ন জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন (কপ২৭)-কে সামনে রেখে বৈশি^ক অভিযোজন উদ্যোগের বাস্তবায়ন, উন্নত দেশগুলোকে অবশ্যই প্রতিশ্রুত ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রতিবছর প্রদান করে জলবায়ু প্রশমন ও অভিযোজনের মধ্যে ৫০: ৫০ ভারসাম্য নিশ্চিত করার দাবি তোলেন সোহানুর রহমান।

সভাপতির বক্তব্যে সাবেরা সোবহান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বদিউজ্জামান ভূঞা বলেন, শিক্ষা হলো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও করনীয় বুঝানোর জন্য একটি সফল কার্যকরী উপায়। কিশোরী ও তরুণদের মধ্যে পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক শিক্ষা বৃদ্ধি করতে পারলে তাদের মনোভাব ও প্রয়োজনীয় ইতিবাচক আচরণের যেমনি পরিবর্তন ঘটবে, অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে শিক্ষার্থীরা তাদের জীবনের সাথে মানিয়ে নিতে সক্ষম হবে।

স্কুল শিক্ষার্থী আরুবা ফারুক বলেন, ‘আমরা অন্ধ হয়ে বসে থাকলে কি এ সংকটের সমাধান বা প্রলয় বন্ধ হবে? প্রতিনিয়ত আমাদের বেঁচে থাকার লড়াই কঠিনতর হচ্ছে। তাই আমরা জলবায়ুকর্মীরা সময় অপচয় করছি না বরং মানবসভ্যতাকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে বাকি সময়টুকুর সদ্যবহার করছি।”

বিদ্যালয়ের শিক্ষক পরিষদ সম্পাদক ও সিনিয়র শিক্ষক মোঃ শফিকুর রহমান বলেন, ‘গণিত অলিম্পিয়াড ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড হলেও জলবায়ু অলিম্পিয়াড বাহ্মণবাড়িয়াতে এই প্রথম। এতে শিক্ষার্থীদের জলবায়ু সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।”

তরুণদের জলবায়ু শিক্ষার ওপর গুরাত্বারোপ করে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো: খায়রুজ্জামান, ইংরেজি শিক্ষক সামিয়া আক্তার, সিনিয়র শিক্ষক মো: আলাউদ্দিন, সিনিয়র শিক্ষক আব্দুর রহিম প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শেষে দিনব্যাপি বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথিরা।

Related Articles

Latest Articles