12.7 C
Toronto
বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২২

ক্রিকেটার আল-আমিনের পরকীয়া নিয়ে মুখ খুললেন স্ত্রী

- Advertisement -

২০১২ সালে বিয়ের পর জাতীয় দলের ক্রিকেটার আল আমিনের সঙ্গে সংসার জীবন ভালোই কাটছিল স্ত্রী ইসরাত জাহানের। তবে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার পর থেকে একটু একটু করে বদলাতে থাকে সে। ২০১৬ সাল থেকে আল আমিনের ‘বদলে যাওয়া’ রূপ সামনে আসে ইসরাতের।

স্ত্রীর অভিযোগ, ‘আল আমিন বাসায় নিয়মিত আসত না। বাসায় থাকলেও নানা অজুহাতে দীর্ঘ সময় ফোনে কথা বলত। এসব বিষয়ে প্রশ্ন করলে সে বলত— আমি এখন জাতীয় দলের খেলোয়াড়। আমার অনেক ভক্ত, তাদের সঙ্গে দেখা করতে হয়, কথা বলতে হয়।’ ॥

গতকাল সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) আল আমিনের মিরপুরের বাসায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে কাছে এভাবে কথাগুলো বলেন তার স্ত্রী ইসরাত জাহান। শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিরপুর মডেল থানায় পেসার আল আমিনের বিরুদ্ধে তার স্ত্রী ইসরাত জাহান যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও মারধরের অভিযোগ এনে একটি মামলা করেন। মামলার পর আল আমিনকে গ্রেপ্তারে ঢাকাসহ একাধিক স্থানে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। কিন্তু তাকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টে উপস্থিত হয়ে আট সপ্তাহের আগাম জামিন নেন আল আমিন।

স্ত্রীকে সবার সামনে আসতে দিত না আল আমিন
ইসরাত জাহান বলেন, আমার এবং আল আমিনের বাড়ি ঝিনাইদহে। ২০১২ সালে পারিবারিকভাবে আমাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর ২০১৬ সালে আমাদের প্রথম পুত্র সন্তান এবং ২০১৯ সালে দ্বিতীয় পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। বিয়ের পর থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত আমাদের দাম্পত্য জীবন সুখেই কাটছিল। বিয়ের পর থেকে সে আমাকে সবার সামনে নিয়ে আসতে চাইত না। জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার পর কখনও আমাকে মিডিয়ার সামনে নিয়ে যেত না। এমনকি, আমাকে সঙ্গে নিয়ে শপিংমল থেকে শুরু করে তার বন্ধুদের সামনেও নিয়ে যেত না। বলত, মেয়েদের বাইরে যেতে হয় না। আমিও বিশ্বাস করে আল আমিনের কথা মতো থাকতাম। প্রথমে বিয়ের কথাও কাউকে জানাতে চায়নি আল আমিন। পরে আমার বড় ছেলে হওয়ার পর একপ্রকার বাধ্য হয়ে সে বিয়ের কথা সবাইকে জানায়।

২০১৬ সাল থেকে বদলে যায় আল আমিন
ইসরাত জাহান বলেন, বিয়ের পর বেশ কয়েক বছর সবকিছু ঠিক ছিল। কিন্তু জাতীয় ক্রিকেট দলে খেলার সুযোগ পাওয়ার পর সে একটু একটু করে বদলাতে থাকে। প্রায় সময় বাসায় দেরি করে আসত। আমি তাকে দেরিতে আসার কারণ জানতে চাইলে বলত, ‘আমি এখন জাতীয় ক্রিকেট দলের পেসার, আমার অনেক ব্যস্ততা।’ আমি আর কথা না বাড়িয়ে তার কথা মেনে নিতাম। ২০১৬ সাল, আমরা কল্যাণপুরে বাসা নিয়ে থাকি। তখন থেকে সে পুরো বদলে যায়। কখনও কখনও ২-৩ দিন বাসায় কারণ ছাড়া আসত না। বাসায় থাকলেও নানা অজুহাতে দীর্ঘসময় অনেক মেয়ের সঙ্গে কথা বলত। আমি তখন তাকে জিজ্ঞাসা করতাম, মেয়েগুলো কারা এবং কেনই-বা সে তাদের সঙ্গে এত কথা বলে। তখন আল আমিন আমাকে বলত, ‘আমি এখন জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়, আমার অনেক ভক্ত আছে। তাদের সঙ্গে আমার কথা বলতে হয়, দেখা করতে হয়।’ আমিও তখন বিষয়টা সহজভাবে মেনে নিয়েছিলাম। কারণ, দেশের মানুষ ক্রিকেট পাগল। খেলোয়াড়দের প্রতি তাদের অনেক ভালোবাসা ও সম্মান রয়েছে। সেই কারণে হয়ত তার অনেক ভক্ত হয়েছে, তারা আল আমিনের সঙ্গে কথা বলতে চায়।

ভুল ভাঙে ২০১৯ সালে
ক্রিকেটার আল আমিনের স্ত্রী বলেন, ২০১৬ সাল থেকে আমি ভাবতাম, সে বুঝি খেলার কারণে অনেক ব্যস্ত থাকে। ভক্তদের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে হয়। কিন্তু ২০১৯ সালে এসে আমার সব ভুল ভাঙে। ২২ ডিসেম্বর (২০১৯ সাল) রাতে হঠাৎ করে আমি আল আমিনের মোবাইল ফোন হাতে নিই। হাতে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার মেসেঞ্জারে একটি বার্তা আসে। আমি সেটিতে ক্লিক করতে দেখি আল আমিনকে একটি মেয়ে ছবি পাঠিয়েছে। কোথাও তারা একসঙ্গে ঘুরতে গিয়েছিল। সেখানে ছবিটি তোলা। মেসেঞ্জারে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা কথোপকথন আমার চোখে পড়ে। সেগুলো দেখে বোঝা যায় তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্ক চলছে। তারা একে-অপরকে বিয়ে করতে চায়।

মেসেঞ্জারে আল আমিনের সঙ্গে ওই মেয়ের একাধিক অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও দেখা যায়। এসব দেখে আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। আমি নিজেকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যে এগুলো আমি কী দেখছি!

সম্পর্কের কথা অকপটে স্বীকার
ইসরাত জাহান বলেন, মেসেঞ্জারের এসব কথোপকথনের কথা জিজ্ঞাসা করতেই সাবলীল ভাষায় আল আমিন তা স্বীকার করে। বলে, সে ওই মেয়েকে ভালোবাসে এবং তাকে বিয়ে করতে চায়। আমি তখনও আল আমিনের কথা বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। আমি তাকে পুনরায় জিজ্ঞাসা করি, ওই মেয়েকে তুমি যদি ভালোবাসো তাহলে আমি কে? তখন আল আমিন বলে, সে নাকি আমাকে কোনো দিন ভালোবাসেনি। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তাহলে আমাকে কেন বিয়ে করেছ এবং বাবুদের জন্ম দিয়েছ? তখন সে বলে, তার নাকি কিছুই করার ছিল না।

শুরু হয় অমানুষিক নির্যাতন
ইসরাত জাহান বলেন, ওই মেয়ের সঙ্গে আল আমিনের সম্পর্কের বিষয়ে জানার পর সে আরও বেপরোয়া হয়ে পড়ে। প্রায় দিনই বাসায় আসত না, বাজার করত না। ওই মেয়েকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যেত। এরই মধ্যে আমাদের ছোট সন্তানের জন্ম হয়। আমি তখন তাকে বললাম, ‘দুই বাচ্চা নিয়ে আমি কীভাবে একা থাকব। তুমি বাসায়ও আস না; আমাদের খোঁজও নাও না।’ আমার কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গে আল আমিন রেগে আগুন হয়ে যেত। আমার বাচ্চাদের সামনে আমাকে প্রচণ্ড মারধর করত। বাসায় এলেই সে আমাকে মারত এবং বলত, ‘তুই চলে যা, আমার জীবনে তোর আর কোনো স্থান নেই। আমি ওই মেয়েকে ছাড়া বাঁচব না, তাকে বিয়ে করব।’ এসব কথা আমি আমার মা-বাবা এবং আল আমিনের মা-বাবাকে জানাই। কিন্তু তার মা-বাবা এ বিষয়ে কোনো কিছুই করেনি। পরে আল আমিনের নির্যাতন এবং একা থাকার ভয়ে আমি আমার মাকে ঢাকায় নিয়ে আসি।

তোদের যেন ঢাকায় না দেখি
জাতীয় দলের পেসার আল আমিনের স্ত্রী বলেন, ২০২০ সালের শুরুর দিকে আল আমিন নিউজিল্যান্ডে যায় জাতীয় দলের সঙ্গে। যাওয়ার আগে আমাকে এবং মাকে বলে যায়, ‘তোদের যেন নিউজিল্যান্ড থেকে ফিরে ঢাকায় না দেখি।’ সে যাওয়ার আগে বাসার মালিককে বলে যায়, জানুয়ারি মাস থেকে এ বাসায় আর থাকবে না, মালিক যেন অন্য ভাড়াটিয়া খোঁজে। পরে আমি আর মা বাধ্য হয়ে ওই বাসা ছেড়ে গ্রামের বাড়ি চলে যাই।

নিউজিল্যান্ড থেকে ফিরে মিরপুরের ফ্ল্যাটে ওঠে আল আমিন
ইসরাত জাহান বলেন, নিউজিল্যান্ড থেকে ফিরে মিরপুর-২ নম্বর সেকশনের ডি ব্লকের ১০ নম্বর রোডে অবস্থিত আমাদের ফ্ল্যাটে ওঠে আল আমিন। কল্যাণপুরে থাকতে আমরা দুজন মিলে ফ্ল্যাটটি পছন্দ করি। ২০২০ সালের শুরুর দিকে আমাদের সেখানে ওঠার কথা ছিল। আমি তখন আল আমিনকে ফোন দিয়ে বলি, তুমি তো ফ্ল্যাটে উঠেছ, আমিও এখন ঢাকায় চলে আসি। তখন সে আমাকে বলে, না তুমি এখন ঢাকায় আসবে না, গ্রামে থাক। বড় ছেলের ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির সময় যখন আসবে তখন আমি তোমাদের ঢাকায় নিয়ে আসব। আর ফ্ল্যাটের কাজও শেষ হয়নি— সে আমাকে বলে।

পরে আমি রোজার ঈদের পর তাকে না জানিয়ে ঢাকায় চলে আসি। এসে দেখি ওই মেয়ের সঙ্গে আল আমিন ফ্ল্যাটে বসবাস করছে। আমাকে দেখে ওই মেয়ে চলে যায়। কিন্তু আমি কেন না জানিয়ে চলে এলাম, সেই কারণে প্রায় ১৫ দিন আমাকে মারধর করে সে। একাধিক দিন মারতে মারতে সে আমাকে ফ্ল্যাট থেকে বের করে দিয়েছে। আমার চিৎকারে আশপাশের ফ্ল্যাটের মানুষ জড়ো হতো, তারপরও সে থামত না। পরে আমি মার সহ্য করতে না পেরে বাধ্য হয়ে বাড়ি চলে যাই। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তাকে না জানিয়ে আবারও ঢাকায় আসি। তখন বাসার দারোয়ান থেকে শুরু করে আশপাশের ফ্ল্যাটের ভাবীরা বলেন, ‘আপনি বাসায় না থাকার সুযোগে আপনার স্বামী আরেক মেয়ে নিয়ে এখানে থাকে।’ আমি আসার পর সেই মেয়ে আবার তার জিনিসপত্র নিয়ে চলে যায়। তখনও আল আমিন মেরে আবারও আমাকে বের করে দেয়। বলে, কেন ঢাকায় এসেছি? পরে ঢাকা থেকে শ্বশুর বাড়ি চলে আসি আমি।

যেহেতু তোমাকে মারে, তুমি গ্রামে থাক
জাতীয় দলের ক্রিকেটারের এই স্ত্রী বলেন, শুরু থেকেই আল আমিনের মা-বাবা বিষয়গুলো জানতেন। কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তারা উল্টো আমাকে বলে, আল আমিন যেহেতু ঢাকায় গেলে তোমাকে মারে তুমি তাহলে গ্রামেই থাক। তাদের এসব কথা শুনে আমি অবাক হয়ে যাই। পরে আমি চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে আবারও ঢাকায় চলে আসি। এরপর থেকে আগস্টের ২৫ তারিখ পর্যন্ত বিভিন্ন সময় আমাকে অমানুষিকভাবে নির্যাতন করে সে এবং একাধিকবার বাসা থেকে বের করে দেয়। কিন্তু আমি আবারও বাসায় ফিরে আসি। সর্বশেষ আর সহ্য করতে না পেরে পরিবারের পরামর্শে আল আমিনের বিরুদ্ধে মামলা করতে বাধ্য হই।

আন্টি মাকে মেরে ফেলছে, বাঁচান
ইসরাত জাহান বলেন, প্রায় প্রতিদিন বাচ্চা দুটার সামনে সে আমাকে মারধর করত। বাচ্চারা ভয়ে চিৎকার করে কান্না করত। তারা বলত, মাকে মের না, মা মরে যাবে। তাদের চিৎকারেও দয়া হতো না আল আমিনের। সে মারতেই থাকত। তখন বড় ছেলেটা গিয়ে পাশের ফ্ল্যাটের ভাবীদের বলত, আন্টি আমার মাকে বাবা মেরে ফেলছে, আপনারা বাঁচান। তখন ভাবীরা আমাকে বাঁচাতে আসত। কিন্তু আল আমিন তাদের ভেতরে ঢুকতে দিত না। তাদের সে বলত, ‘আমার বউকে আমি মারি, তাতে আপনাদের কী?’ বাবার (আল আমিন) পশুর মতো আচরণ দেখে বাচ্চাগুলো তাকে দেখলে এখন ভয় পায়, কাছে যেতে চায় না।

গত ২৫ আগস্ট সে আমাকে মেরে প্রায় অজ্ঞান করে ফেলেছিল। আমাকে বলে, তুই চলে না গেলে তোকে মারতেই থাকব। আর যদি থাকতে চাস তাহলে তোর বাবার কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা এনে দে। তখন আমার চিৎকার শুনে আশপাশের সব ফ্ল্যাটের লোকজন চলে আসে এবং পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে।

সূত্র : ঢাকাপোস্ট

Related Articles

Latest Articles