15.7 C
Toronto
শুক্রবার, আগস্ট ১২, ২০২২

ভালোবাসা

- Advertisement -
ছবি/মাইকেল ফ্যান্টন

তোমরা যে বলো দিবস রজনী , ভালোবাসা ভালোবাসো
সখী ভালোবাসা কারে কয়?
কবি গুরুর ভালবাবাসার প্রশ্ন নিয়েই আজকে ভালোবাসা লেখাটা শুরু করলাম। “ভালোবাসা” শব্দটার মাঝে লুকিয়ে আছে এক গভীর ভালোবাসা । ভালোবাসার অনেক রুপ অনেক রং । সন্তানের প্রতি পিতামাতার ভালোবাসা , ভাই বোনের ভালোবাসা , বন্ধুর প্রতি বন্ধুর ভালোবাসা , প্রেমিক প্রেমিকার ভালোবাসা , স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসা । আরো কতো কতো জিনিষ আছে মানুষের ভালোবাসার । সে ভালোবাসা নিয়েই সে তার জীবনটাকে সমৃদ্ধ করে তুলে। তাছাড়া জীবনে একেকজন মানুষ একেকটা জিনিষ করতে ভালোবাসে ।

একেক মানুষের একেক রকমের ভালোবাসা । কেউ গান গাইতে বা শুনতে ভালোবাসে । কেউ বই পড়তে ভালোবাসে , বইয়ের ভেতরে মুখ ডুবিয়ে রাখাটাই তার জীবনের আনন্দ। কেউ কেউ সংসারকে ভালোবেসে সারাটা জীবন সুখে দুঃখে কাটিয়ে দেয়। তাদের যেনো অন্য কিছুর দিকে তাকিয়ে দেখার সময়ও নেই। অথচ অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় তার এই সংসারের প্রতি ভালোবাসার মূল্য সংসারের মানুষদের কাছেই পায় না। আসলে প্রতিটি মানুষের চিন্তাধারা অনুভূতি বিভিন্ন রকমের।

এখানে এখন সামার। বাগান করার ধুম বাড়ীর আঙ্গিনাতে বাড়ীর লোকদের । মাত্রতো কয়েকটি মাস। এই কয়েক মাসে বাড়ীর বাগানটিকে সুন্দর করে সাজিয়ে তোলার প্রচেষ্টা সকলের । আমি নিজেও এখন মহাব্যস্থ আমার বাগান সাজানোর কাজে। আমি কখনো নিজ হাতে এই কাজটি করতাম না । বাগানের কাজ করতো বাড়ীর অন্য মানুষটি । গত কয়েক বছর কোভিডে ঘর বন্ধী হয়ে থেকে বাগান করাটা আমার ভালোবাসার তালিকাতে যোগ হয়েছে । ভালোবাসার তালিকা এই কারণে বললাম কারণ আমার ভালোবাসার ভাণ্ডারটা বিশাল । তার ভেতর আছে অনেক কিছু অনেক মানুষ । কেঊ কেউ আমার ভালোবাসার ভাণ্ডারে বছর বছর থেকে যায় । কেউ কেউ আবার এতো ভালোবাসা হজম করতে না পেরে অন্য রকম ভালোবাসার খুঁজে ছূটে পালায়।

মানুষকে ভালবাসতে আমি বড্ড ভালোবাসি , যদি তারা ভালোবাসার যোগ্য হয় । মানুষকে অতিরিক্ত ভালবাসতে গিয়ে যে ধোঁকা খাইনি সে কথাটা বূকে হাত দিয়ে বলতে পারবো না । পৃথিবীতে অনেক মানুষ যারা ভালোবাসার মর্যাদা দিতে পারে না । তারা অনবরত ভালোবাসা বা ঘৃনা কিংবা প্রতিযোগিতার ঘোরপাকে ঘুরতে থাকে । ভালোবাসা ও ঘৃণা দুটি একেবারেই বিপরীত মুখী শব্দ । ভালোবাসা ও ঘৃণা কোন অবস্থাতেই একসাথে বাস করতে পারে না ।

কোথায় যেনো কবি রবীন্দ্রনাথের একটি উক্তি পড়েছিলাম ,” ভালোবাসা হোলো একমাত্র বাস্তবতা । এটি শুধুমাত্র আবেগ দিয়ে নিয়ন্ত্রিত নয় । এটি হোলো একটি চিরন্তন সত্য ।যা যে হৃদয়ে সৃষ্টি হয় সে হৃদয়ে থাকে “
ভালোবাসি কথাটা অনেকেই বলে দিতে পারে, কিন্তু কজন মানুষ আছে যে সত্যিকার ভাবে অন্তর থেকে ভালবাসতে পারে কিংবা অন্যকে ভালো রাখতে পারে ? জীবনটা বড্ড বেশী ছোট আর এই ছোট জীবনে আমাদের কতো চাওয়া, কতো না পাওয়ার বেদনা , কতো প্রতিযোগিতা । আমরা এসেছি এক অন্ধকার থেকে চলেও যাবো আরেক অন্ধকারে । মাঝখানের আলোর সময়টা খুবই ছোট খুবই সামান্য ।

মাঝে মাঝে ভাবি পৃথিবীতে কি কারো সত্যিকারের বন্ধু আছে ? যাকে ভেবেছেন আপনার খূব কাছের বন্ধু । কোন অবস্থাতেই আপনার কোন ক্ষতি কিংবা আপনার সাথে কোন প্রতিযোগিতায় নামবে না। যাকে না জানিয়ে আপনি কখনো কিছু করেন নি । কিন্তু কোন এক সকালে আপনি জানতে পারবেন আপনাকে না জানিয়ে সে এমন কিছু করে ফেলেছে যা কিনা আপনাকে শুধু বিস্মিত করে নি তার প্রতি আপনার হৃদয়ে অবিশ্বাসের বীজ রোপণ হয়ে গেছে। আপনার সারাক্ষণ মনে হতে থাকবে , যাকে আপনি এতোটা বন্ধু ভেবেছেন সে কি করে করলো কাজটা? আসলে জীবনে কিছু কিছু প্রশ্ন থাকে যার উত্তর হাজার খুঁজেও পাওয়া যায় না। আমরা জীবনে না বুঝে এমন কিছু ভুল করে ফেলি যা শুধরানো যায় না । সবার জীবনেই অল্প বিস্তর কিছু কষ্ট থাকে যা একান্ত নিজের । কারো কাছে সেটা বলা যায়না বা বলতে ইচ্ছে করে না। বাস্তব কথা এটাই বিশ্বাসটা সবার কাছে জমা রাখা যায় না। যে আপনার বিশ্বাসের মর্যাদা দিবে সেই আপনার সত্যিকারের বন্ধু ।

সত্যি কথা বললে বলতে হবে প্রথমে নিজেকে নিজে ভালবাসুন । নিজেকে ভালোবাসা অত্যান্ত জরুরী । নিজের হৃদয়ে যদি কেউ ভালোবাসা জমাতে না পারে তাহলে অন্যকে কি করে সে তার ভালোবাসা বিলিয়ে দেবে ?

ম্যাল্টন, অন্টারিও

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles