22 C
Toronto
বুধবার, আগস্ট ১০, ২০২২

আমার কথা : টরন্টোর বাঙালিদের কথা

- Advertisement -

প্রিয় সুব্রত দাদা, আদাব। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ অসিত কুমার দত্ত রচিত “আমার কথা টরেন্টোর বাঙালিদের কথা ” বইটির মোড়ক উন্মোচনের মূল্যবান একটি অনুষ্ঠানে আমার মতো নগন্য একজন মানুষকে এতো গুণী সমাবেশে আমন্ত্রণ জানিয়ে সম্মানিত করার জন্য। আপনি বা আপনারা ক’জন মিলে অসামান্য একটি কাজ করে ফেলেছেন। একজন ৮৪ বছরের বটবৃক্ষ তথা হৃদয়বান লেখক অসিত কুমার দত্তের (ক্যান্সার আক্রান্ত) হৃদয়ের চাওয়াকে মুল্য দিয়ে।

অসিত দাদা, ছন্দা বৌদি এবং আপনার কথা জেনে অসম্ভব ভাল লাগায় মন ভরে গেছে। টরন্টোতে নানা বিয়ে, পিকনিক, ঘরোয়া আয়োজন সভা সমাবেশ হর হামেশা হয়েই থাকে। তবে বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করাকে কেন্দ্র করে সব দিক দিয়েই প্রাণোজ্বল ও জমকালো এমন কোন উৎসব আমার ২২ বছরের কানাডা জীবনে আমি অন্তত দেখিনি এবং আর কেউ দেখেছেন কিনা তাও আমার জানা নেই। এটি সত্য, গতকালকের অনুষ্ঠানে না গেলে জীবনের কিছু গভীর সত্যকে অতি আপন আলোয় অনুধাবন করা থেকে ব্যর্থ হতাম চরমভাবে।
লেখক অসিত দত্ত ব্যবসায়ী, সংগঠক, ভ্রমণ পিপাসু ৭০ টির মতো দেশ ভ্রমণ করা ব্যস্ত একজন মানুষ। ৫০ বছরের কানাডা জীবনে পার করেছেন কত চড়াই উৎরাই। টরোন্টোর বাঙালি কমিউনিটির জন্য অকাতরে করেছেন দান। বাংলাকে ভালোবেসে প্রবাসে তাঁর যাপিত জীবনে রেখেছেন হাজারো অবদান।

উত্তম কুমার সুপ্রিয়া দেবী, প্রখ্যাত লেখক শংকরসহ কত শত জনা তাঁর বাড়ীতে অতিথি হয়েছেন। কত আনন্দ বেদনার কাব্য কথা জানলাম কিছু অংশ বই থেকে পাঠ হওয়ার কারণেই। শ্রদ্ধায় অবনত হলাম বার বার। অশ্রুসজল হলাম সুব্রত দাদা আপনার অনুভূতি প্রকাশে এই মহান মানুষকে ঘিরে এবং আপনার নিজের অভিজ্ঞতার কথা জেনেও।

আমি ও খুব আবেগপ্রবণ মানুষ। চোখে জল চলে আসছিল বার বার কথাগুলো যখন শুনছিলাম। আনন্দ ও বেদনার অশ্রু। আর তাই, হয়ত সম্পূর্ণ একজন অপরিচিত নমস্য মানুষ লেখক অসিত দাদাকে শ্রদ্ধায় আমি জড়িয়ে ধরে ফেলেছি চির আপনের মতো। তাঁর বইটি শুধু আমার কাছে একটি বই নয় এটি অন্যরকম পবিত্র একটি সম্পদ।
বইটি উপহার হিসাবে পেলাম।

উৎসর্গ পত্রে লেখক অসিত দাদা লিখেছেন, তাঁর স্ত্রী ছন্দা দত্ত বৌদিকে-
” পাঁচ দশকের বেশি কাল ধরে আমার প্রাচুর্যে যে মানুষটি ক্যডিল্যাক গাড়ীতে আমার সঙ্গী হয়েছেন আমার দারিদ্র্যে মানুষের বাড়ি বাড়ি চপ সমুসা বিক্রি করে আমার ছেলে মেয়ের মুখের অন্ন নিশ্চিত করেছেন।”

একজন কৃতজ্ঞ এবং প্রেমিক স্বামী সেই সাথে অকপট সত্য কথক। এতো দিনের জমানো কথা। ৮৪ বছরের এই মহান মানুষের একমাত্র বই “আমার কথা টরেন্টোর বাঙালিদের কথা “। কত ছবি, কালের সাক্ষী সেই সাথে। অনুপ্রাণীত হচ্ছি বার বার।
প্রিয় সুব্রত দাদা আমি এখনো ঘোরের মধ্যে ই আছি। কত কিছু লিখে ফেলছি।কত কিছু জমা মনের গভীরে এখনো। এই বইটি সম্পাদনা করতে গিয়ে নানা স্তরে আপনার অভিজ্ঞতা এবং উদারতা আমাকে অভিভূত করেছে।

বইটির প্রকাশক সন্জয় মজুমদার, প্রচ্ছদ শিল্পী মোস্তাফিজ কারিগর, মধর্ন্য গ্রাফিক্সের প্রতি ধন্যবাদ।
সেই সাথে, বইটি প্রকাশে এবং মোড়ক উন্মোচন পর্যন্ত যেই সব গুনীজনরা আপনাকে সহযোগিতা করেছেন প্রত্যেকের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি আমার ও টরন্টো শহরের বাঙালিদের পক্ষ থেকে। শহিদুল ইসলাম মিন্টু ভাই ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা আপনার প্রতিও।
প্রিয় দাদা, আপনার কাছে খোলা এই চিঠির মাধ্যমে

আমার সকল Face book বন্ধু বা আলোকধারায় মিলি পেইজের সকল বন্ধুদের ও আহ্বান করব আপনারা “আমার কথা বইটি সংগ্রহ করুন, পড়ুন, এবং জানুন প্রবাসী জীবনের দিনরাত্রির অজানা গল্প যা তথ্য ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করবে নানা
আলোক কিরণে। বইটি সব বাঙালির ঘরে ঘরে স্হান পাক আমি এই প্রত্যাশা করি। প্রিয় অসিত দাদার সুস্থতা কামনা করি সেই সাথে তাঁর শেষ জীবনের মুল্যবান আরো একটি ইচ্ছে তাঁর জন্মভূমি ভ্রমন যেন অতিসত্বর ও আনন্দময় হয় সেই কামনা করি।
প্রিয় সুব্রত দাদা, আমার আর আমাদের ভালোবাসা শ্রদ্ধা আর প্রত্যাশা গুলো আপনি এই মহান মানুষটিকে দয়া করে পৌঁছে দিবেন।
আমার ভুল ত্রুটি হলে নিজগুনে বোন হিসাবে মার্জনা করবেন।

আশীর্বাদ করবেন এই মহান মানুষটির ও আপনাদের মতো উদার মানুষের পথ ও মত অনুসরণ করে আমিও যেনো আলোর মশাল নিয়ে আরো এগিয়ে যেতে পারি সামনের পথ পাড়ি দিতে পারি, প্রিয় জন্মভুমি বাংলা এবং বাঙালি মানুষকে ভালোবেসে।।
কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা আপনার প্রতি।

স্কারবোরো, অন্টারিও, কানাডা

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles