18.7 C
Toronto
রবিবার, জুন ২৬, ২০২২

ভুল বোঝাবুঝিতে’ ভেঙেছিল ঘর, আদালতের মাধ্যমে ফের এক হলো চার হাত

- Advertisement -
ভুল বোঝাবুঝিতে’ ভেঙেছিল ঘর, আদালতের মাধ্যমে ফের এক হলো চার হাত
ছবি সংগৃহীত

পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিলো মাহমুদা আক্তার ও মেহেদি হাসানের। সুখেই ছিলেন দুজনে; স্বপ্ন বুনছিলেন নতুন দিনের। হঠাৎ ছোট একটি ভুলে ছারখার হয় দুজনার সাজানো সংসার। পারিবারিক দ্বন্দ্ব গড়ায় আদালতে। সম্পর্ক এতটাই তিক্ত হয়েছিল যে পরিবারের কেউ এগিয়ে আসেনি দ্বন্দ্ব মেটাতে।

শেষতক দ্বন্দ্ব গড়ায় মামলায়। মামলার জট যত বাড়ে দুজনার দূরত্ব তত বাড়ে। পরিবারের সদস্যরাও ভেবে নেন, মাহমুদা আর মেহেদির স্থায়ী বিচ্ছেদ হচ্ছে।

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার রাজগাঁওয়ের বাসিন্দা মাহমুদা ও মেহেদির মতো এমন অনেক দম্পতিই পারিবারিক দ্বন্দ্ব নিয়ে দ্বারস্থ হন সুনামগঞ্জ আদালতের।

ওদিকে যৌতুক, নারীও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার জটিলতায় স্বামীরা রীতিমতো দিশেহারা। মামলার দীর্ঘসূত্রিতায় অনেকেই আর্থিক বিপর্যয়ে পড়েন।

সুখের সংসারের ভাঙনের এমন দৃশ্য মেনে নিতে পারছিলেন না সুনামগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের বিচারক মো. জাকির হোসেন।

তিনি উদ্যোগ নেন এই দম্পতিদের চার হাত আবার এক করে দেওয়ার। সন্তানদের ভবিষ্যত এবং নিজেদের মঙ্গলের জন্য স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন এঁটে দিলেন বিচারক মো. জাকির হোসেন।

বুধবার সুনামগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণে ৪৫ দম্পতির প্রত্যেককে মিষ্টিমুখ করিয়ে চার হাত এক করে দেন তিনি।

ছাতকের আলমপুরের হোছনা বেগম ও তার স্বামী সিলেটের বিশ্বনাথের চাঁনপুরের রহিম আলী দম্পতি সমকালকে বলেন, মামলা-মোকদ্দমায় আমাদের জীবন তছনছ হয়ে গেছিল প্রায়। বিচারকের উদ্যোগে আজ আমাদের চার হাত এক হল। আমরা খুব খুশি। এবার যতই ঝামেলা আসুক, নিজেরা মিটিয়ে নেব। ছেলেমেয়েরাও বড় হচ্ছে। সবার কথা ভেবে আমরা সুখে-শান্তিতে ঘর করবো।

সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট এনাম আহমদ বললেন, সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণের প্রথম ইউনিট পরিবারই যদি বিশৃঙ্খলার বেড়াজালে ধ্বংস হয়, পারিবারিক কলহের কারণে ছোট ছোট শিশুরা যদি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অযত্ন অবহেলায় বেড়ে ওঠে, তাহলে ভবিষ্যৎ অন্ধকারে নিপতিত হবে। আদালতের উদ্যোগের ফলে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি হবে। সন্তানরা তাদের বাবা-মা উভয়ের সান্নিধ্য পাবে। শান্তি ও সম্প্রীতির বন্ধন তৈরি হবে পরিবারে।

একই আদালতের বিচারক এর আগে ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর ৪৭, ২০২১ সালের ১৯ জানুয়ারি ৩৫, ২১ ফেব্রুয়ারি ৬৫ এবং ২০২২ সালের ১৪ মার্চ ৫০ দম্পতির বিরোধ নিষ্পত্তি করেন।

 

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles