19.3 C
Toronto
সোমবার, জুন ২৭, ২০২২

স্ত্রীকে ফিরে পেতে আদালতে স্বামী

- Advertisement -
স্ত্রীকে ফিরে পেতে আদালতে স্বামী
ছবি সংগৃহীত

দীর্ঘ ৮ বছরের সংসার। হঠাৎ একদিন কাজ শেষে ঘরে ফিরে দেখেন স্ত্রী নেই, নেই স্ত্রীর কোনো জামা কাপড় ও গহনা, এমনকী ঘরে নেই স্বামীর কষ্টে অর্জিত জমানো টাকাও। অনেক খোঁজাখুঁজির পর জানতে পারেন অপর এক পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক করে পালিয়েছেন তিনি।

ফরিদপুর সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের ভাবুকদিয়া গ্রামের ঘটনা এটি।

উপায়ন্ত না পেয়ে স্ত্রীকে ফিরে পেতে ফরিদপুর জজ কোর্টের ৬নং আমলী আদালতে মামলা করেছেন স্বামী মো. সুজন সিকদার (৩০)। মামলার আসামিরা হলেন- আলামিন শেখ (৩১) ও সুজনের স্ত্রী লাভলী আক্তার সুমাইয়া (২৪)।

ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় মামলাটি আমলে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তরুণ বাশার।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ৮ বছর আগে পারিবারিকভাবে ভাবুকদিয়া গ্রামের মান্নান মোল্লার মেয়ে লাভলী আক্তার সুমাইয়ার সঙ্গে টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর গ্রামের নয়ন সিকদারের ছেলে মো. সুজন সিকদারের বিয়ে হয়।

বিয়ে করে স্ত্রী সুমাইয়াকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ভাবুকদিয়া গ্রামে বসবাস করতেন সুজন। সুজন মাঝখানে কিছুদিন কাতারে প্রবাস জীবন পার করে দেশে ফিরে এসে ফরিদপুর শহরে একটি রডের কোম্পানিতে ফোরম্যানের কাজ শুরু করেন। এভাবে ভালোই চলছিল সুজনের সংসার।

কিন্তু হঠাৎ তাদের সংসারে নেমে আসে ঝড়। ফরিদপুর সদরের কানাইপুর ইউনিয়নের শোলাকুন্ডু গ্রামের মৃত কলিমদ্দিন শেখের ছেলে মো. আলামিন শেখের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন সুমাইয়া। গত ২৬ মে (বৃহস্পতিবার) সুমাইয়াকে নিয়ে পালিয়ে যান আলামিন। বিবাহিত জীবনে আলামিনের ৩ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

সুজন সিকদার খুব ভালোবাসতেন তার স্ত্রীকে। ৮ বছরের সংসারে এ দম্পতির কোনো সন্তান না থাকলেও ভরণপোষণে কোনো কমতি রাখেননি তিনি।

এ বিষয়ে সুজন সিকদার বলেন, আমার স্ত্রী (সুমাইয়া) কয়েক মাস ধরে গোপনে মোবাইলে একটি ছেলের সঙ্গে কথা বলতেন। গত রোজার মধ্যে আমি স্ত্রীর সম্পর্কের বিষয়ে হাতেনাতে ধরে শ্বশুরকে জানাই। তখন আমার স্ত্রী আর কথা বলবে না বলে ওয়াদা করেন।

তিনি বলেন, আলামিন আমাদের আত্মীয় হওয়ার সুবাদে আমাদের বাড়িতে যাতায়াত করত। এ সুযোগে আমার স্ত্রীকে সে প্রেমের ফাঁদে ফেলে। স্ত্রী সুমাইয়াকে নানাভাবে ফুঁসলিয়ে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে গেছে।

সুজন সিকদার বলেন, গত ২৬ মে আমি কাজে বের হলে আলামিন আমার বাড়িতে গিয়ে আমার স্ত্রীকে প্ররোচনায় ফেলে বাড়ি থেকে নিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় আমার ঘরের আলমারি ভেঙে নগদ ৩ লাখ টাকা ও ২ ভরি গহনা নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, আমি ও আমার শ্বশুর মান্নান মোল্লা ওই ছেলে আলামিনের বাড়িতে গিয়ে আমার স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি। আমরা ওই ছেলের বাড়িতে যাওয়ার আগে আমার স্ত্রী ও আলামিন বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। সুজন জানান, ফরিদপুর জজ কোর্টের ৬ নং আমলী আদালতে এ বিষয়ে মামলা দায়ের করেছি।

সুজন সিকদার বলেন, আমি আমার স্ত্রীকে অনেক ভালোবাসি। আমি আমার স্ত্রীকে ফিরে পেতে চাই।

ওই গৃহবধূর বাবা মান্নান মোল্লা বলেন, আমার মেয়েকে ফিরে পেতে চাই। আলামিনের পরিবারকে বারবার অনুরোধ করেছি। তারা কোনো প্রকার সহযোগিতা করছে না।

পলাতক আলামিনের বড় ভাই দুলাল শেখ বলেন, আমার সৎ ভাই আলামিনকে ৫ বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে দেই। তাদের ৩ বছরের একটি কন্যা সন্তান আছে। তবে আলামিনের সেই স্ত্রীর করা নারী নির্যাতন ও যৌতুকের মামলা নারী ও শিশু কোর্টে চলমান রয়েছে। এরইমধ্যে সে অন্যের স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়েছে। সুজনের স্ত্রীকে ফিরিয়ে দিতে আমি আমার ভাইকে অনুরোধ করেছি।

মামলার কৌঁসুলী অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম স্টালিন বলেন, সুজন ও সুমাইয়া এখনও তারা স্বামী-স্ত্রী। এদিকে আলামিনও বিবাহিত। তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু আদালতে তার স্ত্রীর দায়ের করা নির্যাতন মামলা চলমান রয়েছে। এমন অবস্থায় আলামিন সুজনের স্ত্রী সুমাইয়াকে নিয়ে পালিয়ে যায়। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে মামলা দায়ের করে আলামিন ও সুমাইয়ার বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন।

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles