18.7 C
Toronto
রবিবার, জুন ২৬, ২০২২

নরবলি দিলেই মিলবে গুপ্তধন! অমাবস্যার রাতে সঙ্গীকেই খুন

- Advertisement -
নরবলি দিলেই মিলবে গুপ্তধন! অমাবস্যার রাতে সঙ্গীকেই খুন
ছবি: সংগৃহীত

নরবলি দিলেই মিলবে গুপ্তধন! এমন কুসংস্কার থেকে নিজেদের এক সঙ্গীকেই কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের ছত্তিসগড়ে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

খবরে বলা হয়, গত বছরের ১৩ এপ্রিল অন্য গ্রামে ছোটভাই সুরেশের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছিলেন ছত্তিসগড়ের বিলাসপুর জেলার রামপ্রসাদ সাউ। তখন রামপ্রসাদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে হিরী থানার পুলিশ।

তদন্তকারীদের দাবি ছিল, সুরেশের মতো একমুখী, নিরীহ ব্যক্তিকে খুনের পিছনে ভাইয়ে-ভাইয়ে সম্পর্কের টানাপড়েন, সম্পত্তি নিয়ে রেষারেষি, ত্রিকোণ প্রেম বা পরকীয়ার মতো কোনো কারণ ছিল না। বরং এই খুনের সঙ্গে জড়িত রয়েছে কুসংস্কার, তন্ত্রমন্ত্র এবং গুপ্তধনের সন্ধান। রামপ্রসাদের অভিযোগ পাওয়ার পর সুরেশের সম্পর্কে খোঁজখবর শুরু করেন তারা। বিলাসপুর জেলার খারকেনা গ্রামে রামপ্রসাদের সঙ্গেই থাকতেন সুরেশ। তার ঝোঁক ছিল ইউটিউব দেখে তন্ত্রমন্ত্র শেখা, এবং মাটির তলায় লুকোনো গুপ্তধনের খোঁজ করা।

তদন্তকারীরা জানতে পারেন, সুরেশকে খুনের দিন থেকেই গায়েব হয়ে গিয়েছেন তাদের প্রতিবেশী মাখন দাস। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায় মাখনও সুরেশের মতো তন্ত্রসাধনা করতো। খুনের দিন থেকে ‘নিখোঁজ’ ছিলেন মাখনের এক পরিচিত সুভাষ দাস মানিকপুরীও। সুরেশ এবং মাখনের মতো সুভাষও তন্ত্রমন্ত্র-জাদুটোনা করতো বলে দাবি করা হয়।

পুলিশ জানায়, প্রায় ন’বছর ধরে গুপ্তধনের সন্ধান চালাচ্ছিল সুভাষ। গুপ্তধনের সন্ধান পেতেই তন্ত্রমন্ত্রের সাধনা করতো সে। এক সময় তার সঙ্গে মাখনের পরিচয় হয়। তন্ত্রমন্ত্রের সাহায্যে পারিবারিক সমস্যার সুরাহা করে দেয়ার নামে লোকজনের কাছ থেকে টাকা আদায় করতো সুভাষরা। সেজন্য তার কাছে লোকজনদের ধরে আনতো মাখন।

তদন্তকারীরা আরও জানান, তিনজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা থাকলেও এক সময় সুভাষ এবং মাখনের ধারণা হয়েছিল যে গুপ্তধনের সন্ধান পেতে হলে নরবলি দিতে হবে। এরপরই সুরেশকে বলি দেয়ার ছক কষে বাকি দু’জন। নবরাত্রির প্রথম অমাবস্যায় সুরেশকে বলি দেয়া হবে বলে ঠিক করেছিল সুভাষরা। তন্ত্রসাধনার অজুহাতে সুরেশকে গ্রামের বাইরে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে যায় তারা। অমাবস্যার রাতে পাথরালি এবং খার এলাকার মাঝামাঝি একটি নির্জন জায়গায় সুরেশকে নিয়ে পৌঁছায় দু’জন। সেখানে তন্ত্রচর্চা করার পর কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে সুরেশকে খুন করে পালিয়ে যায় তারা।

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles