17.5 C
Toronto
রবিবার, মে ২৯, ২০২২

ওসি প্রদীপের স্ত্রী চুমকি কোথায়, দুদকের মামলা হাজির হয়েছিলেন কী?

- Advertisement -

ওসি প্রদীপের স্ত্রী চুমকি কোথায়, দুদকের মামলা হাজির হয়েছিলেন কী? - The Bengali Times

সেনাবাহিনীর মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় মৃত্যু পরোয়ানা নিয়ে কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে রয়েছেন একসময়ের দাপুটে পুলিশ কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাশ। পুলিশে চাকরিরত অবস্থায় স্ত্রী-সন্তানের জন্য অপকর্ম করে গড়েছিলেন সম্পদের পাহাড়।

- Advertisement -

টেকনাফ থানার সাবেক (বরখাস্ত) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমারের গ্রেপ্তারের পর থেকেই লাপাত্তা তার স্ত্রী চুমকি কারণ। অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলার পরপরই আত্মগোপনে চলে যান তিনি। দুদক এই দম্পতির নামে একাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাট, ব্যবসাসহ বিপুল অবৈধ সম্পদের তথ্য পায়।

প্রদীপপত্নী চুমকি দেশেই কোথাও লুকিয়ে আছেন, না কি পালিয়ে বিদেশে গেছেন তা বলতে নারাজ স্বজনরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও চুমকির অবস্থানের সঠিক কোনো তথ্য স্পষ্ট করতে পারছে না।

কথিত আছে, অস্ট্রেলিয়া, ভারতের আগরতলা, বারাসাত, গৌহাটিতে প্রদীপ দম্পতির নামে একাধিক বাড়ি রয়েছে। বিদেশে পাচার করেছেন অঢেল অর্থ। রয়েছে ভারতীয় পাসপোর্ট। প্রদীপ ও তার স্ত্রী-সন্তান সেখানকার নাগরিকত্ব নিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা ঢাকা জানান, প্রদীপপত্নীকে গ্রেপ্তারের পরোয়ানা তাদের কাছে এসেছে। তাকে খুঁজছেন তারা। বিভিন্ন সংস্থার কাছেও এই পরোয়ানা পাঠানো হয়েছে। দেশে থাকলে তাকে অবশ্যই গ্রেপ্তার হতে হবে।

অন্য একটি সূত্র জানায়, প্রদীপ গ্রেপ্তারের পর চুমকি কারণ প্রথমে চট্টগ্রাম শহরের সদরঘাটে এক স্বজনের বাসায় কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন। এরপর থেকে তার আর হদিস মিলছে না। অনেকে ধারণা করছেন, তিনি সীমান্ত পাড়ি দিয়ে অবৈধ পথে ভারতে পালিয়েছেন।

এদিকে গত ২৭ এপ্রিল চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মুন্সী আবদুল মজিদের আদালতে প্রদীপের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। এ নিয়ে মামলাটিতে মোট ২০ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হলো। এদিন প্রদীপ কুমারকে আদালতে হাজির করা হলেও তার স্ত্রী চুমকি কারণ গরহাজির ছিলেন। প্রদীপের বিরুদ্ধে দুর্নীতির এই মামলার অভিযোগপত্রে সাক্ষী রাখা হয়েছে ২৯ জনকে।

২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদ। প্রদীপের পরিকল্পনায় সিনহাকে হত্যা করেন বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ লিয়াকত আলী। এ বছরের ৩১ জানুয়ারি এই হত্যা মামলায় প্রদীপ-লিয়াকতকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে ছয়জনের।

দুদকের মামলা ও আদালতে বিচারকাজ
গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর প্রদীপ ও তার স্ত্রী চুমকির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে আসামি উচ্চ আদালতে আবেদন করে মামলা থেকে অব্যাহতি চান। কিন্তু হাইকোর্ট তা খারিজ করে দেন।

এর আগে ২০২০ সালের ২৩ আগস্ট দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রম-২ এর তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে প্রদীপের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেন। পরের বছরের ২৬ জুলাই প্রদীপ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। ১ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন আদালত।

দুদকের দেয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়, চট্টগ্রামের পাথরঘাটায় ছয়তলা বাড়ি, ষোলশহরে বাড়ি, ৪৫ ভরি সোনা, একটি ব্যক্তিগত গাড়ি, একটি মাইক্রোবাস, ব্যাংক হিসাব ও কক্সবাজারে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে চুমকির নামে। মামলায় তাকেও আসামি করা হয়। এই দম্পতির বিরুদ্ধে তিন কোটি ৯৫ লাখ পাঁচ হাজার ৬৩৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়। এছাড়া অভিযোগপত্রে বলা হয়, চুমকি নিজেকে মৎস্য ব্যবসায়ী বলে দাবি করলেও তার এমন কোনো ব্যবসার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

প্রদীপ ও তার স্ত্রীর সম্পত্তি ক্রোক, রিসিভার নিয়োগ
২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এক আদেশে প্রদীপ ও তার স্ত্রী চুমকী কারণের নামে থাকা চট্টগ্রাম নগরীর পাথরঘাটা এলাকায় ছয়তলা বাড়িসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেয় আদালত। এরপর দুদকের পক্ষ থেকে সম্পত্তি দেখভাল করতে রিসিভার নিয়োগ করার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। ২০২১ সালের ২৯ জুন প্রদীপ দম্পতির নামে থাকা চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সম্পত্তি দেখভালের জন্য দুই জেলার ডিসিকে রিসিভার নিয়োগ করা হয়।

চুমকির অবস্থান সম্পর্কে বাবার ভাষ্য
চুমকি কারণ কোথায় আছেন সে সম্পর্কে জানতে চাইলে তার বাবা অজিত কুমার কারণ বলেন, ‘মেয়ে কোথায় আছে সে ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না।’ এ বিষয়ে তিনি অন্য কোনো কথা বলতেও নারাজ। চুমকি কারণের ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বর সম্পর্কেও কিছুই জানেন না বলে জানান তিনি।

বোনের বাড়ি দখল
প্রদীপ ও তার স্ত্রীর নামে থাকা চট্টগ্রামের পাথরঘাটা ও মুরাদপুরে সৎবোন রত্না বালা প্রজাপতির কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হয় চারতলা বাড়ি। ওসি থাকাকালে প্রদীপ ক্ষমতার জোরে বাড়িটি দখল করেন। রত্না বালা প্রজাপতি বলেন, ‘দুদকের মামলার পর হদিস মিলছে না চুমকি ও তাদের সন্তানের। এর আগে তিনি প্রদীপের অবৈধ উপার্জনের অর্থে নগরীর পাথরঘাটায় গড়ে তোলা লক্ষ্মীকুঞ্জ ভবনে থাকতেন।’

দুদকের আইনজীবী যা বললেন
দুদকের আইনজীবী মাহমুদুল হক ঢাকা বলেন, ‘অধিকাংশ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। আগামী ১১ মে কয়েকজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী তারিখ আছে। প্রদীপ হাজির থাকলেও তার স্ত্রী চুমকি কারণ আদালতে আসেননি। তিনি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি আছে।’

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যা বলেছে
চুমকি যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে পুলিশ সদরদপ্তরে চিঠি দেয় দুদক। তবে এর আগেই তিনি দেশ ছেড়েছেন- এমনই ধারণা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, অনেক অনুসন্ধানের পর মনে হচ্ছে, প্রদীপের স্ত্রী চুমকি সন্তানসহ ভারতে পালিয়ে গেছেন।

সূত্র : ঢাকাটাইমস

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles