13.1 C
Toronto
মঙ্গলবার, মে ২৪, ২০২২

কমিটি যেভাবে চাঁদ দেখে

- Advertisement -

কমিটি যেভাবে চাঁদ দেখে - The Bengali Times

মুসলমানরা ধর্মীয় আচার-আচরণ পালন করে হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুসারে। আর এই বর্ষপঞ্জি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। এ কারণে মুসলিম দেশগুলোতে চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে নামাজ, রোজা, ঈদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় বিধিবিধান পালন করা হয়। এ কারণে বাংলাদেশে রয়েছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। এই কমিটি প্রতি হিজরি মাসের ২৯ তারিখ সভা করে। চাঁদ দেখা না দেখার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী মাসের তারিখ ঘোষণা করে।

- Advertisement -

শাওয়াল মাস আরবি বর্ষপঞ্জির দশম মাস। শাওয়ালের প্রথম দিনটি ঈদুল ফিতর হিসেবে পালিত হয়। রমজান মাসের ২৯ তারিখ চাঁদ দেখা না গেলে, সেদিনও তারাবির নামাজ পরে পরের দিন রোজা রাখতে হবে। ৩০ দিনে মাস পূর্ণ হওয়ার পর শাওয়াল মাসের শুরু হবে। আর ২৯ তারিখ চাঁদ দেখা গেলে পরের দিন শাওয়াল মাসের শুরু হবে এবং ঈদ পালিত হবে। ফলে এশার নামাজের আগে চাঁদ দেখার খবর না পেলে বিভ্রান্তিতে পড়েন মানুষজন।

চাঁদ দেখা কমিটিতে কারা আছেন?

বাংলাদেশে চাঁদ দেখার জন্য রয়েছে ‘জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।’ সারা বছর চাঁদ দেখা কমিটি নিয়ে তেমন কোনও আলোচনা না থাকলেও ঈদুল ফিতরের আগে আলোচনার কেন্দ্রে থাকে এই কমিটি। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী কিংবা প্রতিমন্ত্রী এই কমিটির সভাপতি। আর এই কমিটির সদস্য সচিব ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক। এই কমিটিতে আছেন ১৮ জন সদস্য। মূলত সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রধানরা পদাধিকার বলে এই কমিটির সদস্য। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কমিটির সদস্যরা চাঁদ দেখার সভায় আসেন না। তাদের পরিবর্তে সংস্থার মনোনীত প্রতিনিধিরা সভায় আসেন।

চাঁদ দেখা কমিটিতে রয়েছেন—ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসনের প্রশাসক, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক, ঢাকার জেলা প্রশাসক, সরকারি মাদ্রাসা-ই আলিয়ার অধ্যক্ষ, বায়তুল মোকাররম মসজিদের খতিব ও সিনিয়র পেশ ইমাম, লালবাগ শাহী জামে মসজিদের খতিব, চকবাজার শাহী জামে মসজিদের খতিব।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, প্রতিটি জেলায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অফিসে রয়েছে। স্থানীয় জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জেলা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটিও চাঁদ দেখার তথ্য সংগ্রহ করে।

চাঁদ দেখার বিষয়টি কীভাবে চূড়ান্ত হয়?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন-বায়তুল মোকাররমের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কমিটির সদস্য কিংবা মনোনীত প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকেন। কমিটির সদস্যরা সভায় এলেও কেউই সরাসরি চাঁদ দেখেন না। বিগত বছরগুলোতে ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখা নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা গেলে চাঁদ দেখতে যন্ত্র কেনার সিদ্ধান্ত নেয় ইসলামিক ফাউন্ডেশন। ২০১৯ সালে অপটিক্যাল থিওডোলাইট যন্ত্র কেনে ইফা। সেই যন্ত্র দিয়ে ঢাকার বায়তুল মোকাররমের পাশে বহুতল ভবনের ছাদে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও আবহাওয়া অধিদফতরের কর্মীরা চাঁদ দেখেন। আকাশে মেঘ না থাকলে এই যন্ত্র দিয়ে চাঁদ দেখে কমিটিকে অবহিত করা হয়। পরে কমিটি সংবাদ সম্মেলন করে চাঁদ দেখার ঘোষণা দেয়।

বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান পদাধিকার বলে চাঁদ দেখা কমিটির সদস্য। তবে তিনি সভায় উপস্থিত হতে না পারলে সংস্থার মনোনীত প্রতিনিধি সভায় যোগ দেন। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম চাঁদ দেখা কমিটির সভায় উপস্থিত ছিলেন। চাঁদ দেখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সারা বিশ্বে চাঁদের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার দুটো পদ্ধতি। একটি পদ্ধতি হচ্ছে—বৈজ্ঞানিক ক্যালকুলেশন। এ পদ্ধতিতে বৈজ্ঞানিকভাবে হিসাব-নিকাশ করে আগেই চাঁদের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। ইউরোপ, চীনসহ অনেক দেশে এই পদ্ধতিতে চাঁদের বিষয়টি নির্ণয় করা হয়।’

মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশে চাঁদের তথ্য নিশ্চিত করা হয় অবজারভেশন পদ্ধতিতে। অর্থাৎ, চোখে দেখার মাধ্যমে। দেশের কোনও স্থানে চাঁদ দেখা গেলে সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়।’

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। সংস্থাটির দ্বিনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক আনিছুর রহমান সরকার সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন।

আনিছুর রহমান বলেন, ‘দেশের যেকোনও জায়গায় চাঁদ দেখা গেলে জেলা কমিটি কিংবা জাতীয় কমিটিকে জানানো হয়। শরিয়ত মোতাবেক নির্ভরযোগ্য যেকোনও ব্যক্তি চাঁদ দেখলেই গ্রহণযোগ্য হবে। জেলা পর্যায়ে কেউ চাঁদ দেখলে জেলা কমিটি ওই ব্যক্তির চাঁদ দেখার তথ্য যাচাই-বাছাই করেন। সেটি নিশ্চিত হলে জাতীয় কমিটি ঘোষণা দেয়।’

সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles