4.9 C
Toronto
মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৬, ২০২১

মহামারির তৃতীয় ঢেউ প্রতিরোধে কানাডা ভ্রমণে নতুন বিধিনিষেধ

ছবি/এয়ার কানাডা

কানাডায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। কানাডার প্রধান চারটি প্রদেশ ব্রিটিশ কলাম্বিয়া, অন্টারিও, কুইবেক এবং আলবার্টায় করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে যা জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি করছে। প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েই চলেছে। এরই প্রেক্ষিতে কানাডার অন্টারিও প্রদেশে ভ্রমণ সীমাবদ্ধ করা হয়েছে, জরুরি অবস্থা এবং স্টে হোম অর্ডার দুই সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। এছাড়াও করোনা সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় বিনোদনমূলক সব কাজে নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

কানাডায় প্রবেশ ও দেশের অভ্যন্তরে ভ্রমণকে নতুন করে সীমিত করার কথা ভাবছে সরকার। মহামারির তৃতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণের নতুন নতুন রেকর্ড তৈরি অব্যাহত থাকায় এ উদ্যোগের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মধ্যেও আশার কথা হলো ভ্যাকসিনেশনে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে কানাডা। মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত কানাডার ২৫ শতাংশ নাগরিক অন্তত এক ডোজ করে ভ্যাকসিন পেয়েছেন। সব মিলিয়ে ভ্যাকসিন পেয়েছেন ৯৫ লাখ কানাডিয়ান। বেশ কিছু প্রদেশ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন নিতে বয়সসীমা কমিয়ে আনায় জেনারেশন-এক্স কানাডিয়ানরা ভ্যাকসিনটি নিতে চাইছেন। প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, উপ-প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড, কনজার্ভেটিভ নেতা এরিন ও’টুল ও এনডিপি নেতা জাগমিত সিংও রয়েছেন তাদের মধ্যে।

ভ্যাকসিনেশনে গতি বাড়লেও প্রদেশের হাসপাতাল ও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রগুলো রোগীতে ভরে উঠছে বলে সতর্ক করেছে অন্টারিওর সায়েন্স অ্যাডভাইজরি টেবিল। সমগ্র কানাডায় রেকর্ড সংখ্যক সক্রিয় রোগী, হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও আইসিইউতে ভর্তি রোগীর তথ্য দিয়েছেন কানাডার প্রধান জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তেরেসা ট্যাম।

কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন আইসিইউতে ভর্তি হচ্ছেন। তাদের অর্ধেককে ভেন্টিলেটরের সাহায্যে অক্সিজেন দিতে হচ্ছে। ১২ এপ্রিলও রেকর্ড ৫৯৯ জনকে ভেন্টিলেটরের মাধ্যমে অক্সিজেন দিতে হয়েছিল। কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুও গত সপ্তাহে বেড়ে গেছে। গত দুই মাসে প্রতিদিন গড়ে ৩০ জন রোগী মারা গেলেও এখন তা গড়ে ৪৪ জনে পৌঁছেছে। এর জন্য দায়ী মূলত করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট। কানাডায় বর্তমানে সক্রিয় রোগী রয়েছেন ৬৬ হাজারের কিছু বেশি। এর ৯৬ শতাংশই যুক্তরাজ্যে সনাক্ত ভ্যারিয়েন্ট বি.১.১.৭ দ্বারা আক্রান্ত। তুলনায় নতুন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত এ রোগীর সংখ্যা এক সপ্তাহ আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুন।

নতুন নতুন ভ্যারিয়েন্টের কানাডায় প্রবেশ বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের হোটেলে কোয়ারেন্টিন ২১ মে পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। পাশাপাশি আকাশ ও স্থলপথে কানাডায় প্রবেশকারীদের কোভিড-১৯ পরীক্ষাও চলবে।

সেই সাথে বাড়তি পদক্ষেপের কথাও ভাবছে সরকার। জাস্টিন ট্রুডো এ প্রসঙ্গে বলেন, আরও কি করা যায় সেটি আমরা সার্বক্ষণিক বিবেচনার মধ্যে রেখেছি। উদাহরণ হিসেবে ভারত থেকে সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের ফ্লাইট বন্ধের মতো পদক্ষেপ নেওয়া যায় কিনা সেটা আমি কর্মকর্তাদের সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়েছি।

- Advertisement - Visit the MDN site

Related Articles

- Advertisement - Visit the MDN site

Latest Articles