1 C
Toronto
বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১, ২০২২

ক্ষুদ্র স্বপ্ন

ক্ষুদ্র স্বপ্ন - the Bengali Times
ছবি/নিক ফিউয়িংস

সৃষ্টিকর্তার কাছে বহু অভিযোগ আছে আমার। কোনোদিন যদি সৃষ্টিকর্তার সাথে দেখা হবার সুযোগ ঘটে তাহলে আমার প্রথম প্রশ্ন থাকবে, ‘হে ঈশ্বর আমি কি তোমার এতই অপ্রিয় বান্দা যে আমার ছোট-ছোট স্বপ্নগুলিও তুমি কখনো পূরণ করলে না? মানুষ কত বড় বড় স্বপ্ন দেখে আর তুমি কত সহজে তাদের স্বপ্নগুলো পূরণ করে দাও। আমার অপরাধটা কি একটু আমাকে খুলে বলবে ঈশ্বর?’

আজ মনে বড় কষ্ট নিয়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে নানা অভিযোগ উত্থাপন করছি, কারণ এবারের স্বপ্নটা ছিল ক্ষুদ্র থেকেও ক্ষুদ্রতম। স্বামী গেছে চারদিনের জন্য আমেরিকাতে কনফারেন্সে। এই চারদিনের স্বাধীন জীবন যাপনের মহা আনন্দের একটা খসড়া মনে মনে তৈরি করে ফেললাম। প্রথমটি হলো, রাত দুইটা পর্যন্ত টিভিতে মুভি দেখব।
দ্বিতীয়টি হলো রাত তিনটা পর্যন্ত ফেসবুকে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেবো।

- Advertisement -

তৃতীয়টি ছিল সারাদিন চই চই করে ঘুরে বেড়াবো। বাড়িতে রান্না খাবারের কোনো ঝামেলা রাখবো না। কিছু বন্ধুকে কতবার কথা দিয়েছিলাম আড্ডা দিতে আসবো। কিন্তু নানা ব্যস্ততা ও কিছুটা অলসতার দরুণ আমার কথা রাখা হয়নি। আমার চারদিনের স্বপ্ন তালিকাতে বন্ধুদের বাড়িতে আড্ডা দেবার ব্যাপারটাও যোগ করলাম।
আপনারা হয়তো ভাবছেন এগুলো কি কোনো স্বপ্ন দেখার জিনিস? কিন্তু আমার কারণ আছে। সেটা হলো, আমি রাত জাগতে পারি না। আমার শৃঙ্খলায় আবদ্ধ স্বামী অনেক রাত জেগে থাকেন না। রাত জেগে বসে থাকাটা তার কাছে বেশ অপছন্দের। রাত জাগলে শরীর খারাপ করবে সে চিন্তাধারাতে বিশ্বাসী হয়ে তিনি আমাকে রাত বারটার বেশি জাগার অনুমতি প্রদান করেন না। আমিও বাধ্য স্ত্রীর মতো তার নির্দেশ পালন করি। মাঝে মাঝে অবাধ্য স্ত্রী হয়ে রাত সাড়ে বারটা পর্যন্ত কম্পিউটারে বসে থাকি, লেখালেখি করি কিংবা বন্ধুদের সাথে চ্যাট করি। কদাচিৎ কখনো যদি রাত একটা বেজে যায় ঘুমাতে যেতে, স্বামী কুঞ্চিত কপালে আমার দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘এতক্ষণে তোমার সময় হলো ঘুমাবার’? আমি অপরাধী আসামীর মতো কাচুমাচু মুখ করে চোখ বন্ধ করে বিছানাতে শুয়ে পড়ি, ঘুম আসুক বা না আসুক।

এখন আপনারাই বলুন আমার এ স্বপ্নগুলো কি খুবই অহেতুক ছিল? মাত্র চারদিন চারমাসও না চারবছরও না। কিন্তু হলো না, কিছুই হলো না। স্বামী যেদিন সকালে গেলেন সেদিন বিকেলে এক বন্ধুর ছেলের বিয়ের নিমন্ত্রণে যেতে হলো। স্বামীকে ছাড়া বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়াটা আমার কাছে মোটেও আনন্দের ব্যাপার ছিল না। কিন্তু দায়িত্ব পালনের জন্য যেতে হলো। বাড়ি ফিরে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। সে রাতে আমার আর রাত জাগা হলো না।
পরদিন সকালে মুক্ত বিহঙ্গ হবার পরিকল্পনা নিয়ে বসলাম। হায় আমার কপাল, পরিকল্পনা শেষ করে সেটা বাস্তবায়িত করার উদ্দেশে উঠে দাঁড়াবার সময় মাসল পুল করে সরাসরি বিছানাতে পড়ে গেলাম। বিছানা থেকে উঠে বসার কোনো শক্তি আমার রইলো না। কোথায় গেলো আমার রাত জেগে থাকা, কোথায় গেলো সারাদিন চই চই করে ঘুরে বেড়ানো? ছেলে-মেয়েরা ছুটি নিয়ে পালা করে আমার সেবা করে যাচ্ছে। এখন আপনারাই বলুন সৃষ্টিকর্তার কাছে আমার অভিযোগটা কি অহেতুক?

ম্যাল্টন, অন্টারিও, কানাডা

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles