
কানাডার ফার্স্ট নেশনস নেতাদের সঙ্গে সোমবার এক বৈঠকে বসেছেন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, বিভিন্ন প্রদেশের প্রিমিয়ার এবং আঞ্চলিক নেতারা। বৈঠকটিকে ঐতিহাসিক হিসেবে বর্ণনা করা হলেও, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে পুনর্মিলন প্রক্রিয়ায় ফেডারেল সরকারের ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং সেই অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বৈঠকে কার্নি সরকারের বৃহৎ অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক প্রকল্প, সেসব উদ্যোগের ওপর ফার্স্ট নেশনস সম্প্রদায়ের সম্ভাব্য প্রভাব এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। তবে পুনর্মিলনের উদ্যোগের পাশাপাশি গত কয়েক দশকে এ খাতে সরকারের বিপুল ব্যয়ের হিসাবও আলোচনায় এসেছে।
গত ৫০ বছরে বিভিন্ন মামলা এবং ক্লাস অ্যাকশন নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে ফেডারেল সরকার ফার্স্ট নেশনস সম্প্রদায়কে ১১ হাজার কোটি ডলারের বেশি পরিশোধ করেছে। ২০১৭ সালের পর থেকে এ ধরনের অর্থ পরিশোধের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে আদিবাসী-সম্পর্কিত কর্মসূচিতে কানাডার ফেডারেল সরকারের মূল্যস্ফীতি-সমন্বিত বার্ষিক ব্যয় ১ হাজার ৩০ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ৪ হাজার ৮০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর শাসনামলে এ খাতে ব্যয় প্রায় চার গুণ হয়েছে। প্রতিবেদনের দাবি, একই সময়ে সরকারের সামগ্রিক ব্যয় বৃদ্ধির তুলনায় এই প্রবৃদ্ধির হার ছিল প্রায় সাত গুণ বেশি। তবে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়েছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।
ফেডারেল সরকারের কমিউনিটি ওয়েলবিয়িং ইনডেক্সে শিক্ষা, কর্মসংস্থানে অংশগ্রহণ, আয় এবং আবাসন পরিস্থিতির মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট হিসাব অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আদিবাসী সম্প্রদায়ের জীবনমানের উন্নতি তুলনামূলকভাবে সীমিত।
কানাডার প্রায় ১৫ লাখ ফার্স্ট নেশনস, মেটিস ও ইনুইট জনগোষ্ঠীর সামগ্রিক জীবনমানও জাতীয় গড়ের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আয়ুষ্কাল, কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য এবং আবাসনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি আত্মহত্যা, মাদকাসক্তি ও মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার মতো সামাজিক সংকটও আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগের বিষয়।
এ পরিস্থিতিতে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার ও জীবনমান উন্নয়নে সরকারের বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। ফ্রেজার ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদনে এ বিষয়ে দুটি পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সরকারকে ফার্স্ট নেশনস ফাইন্যান্সিয়াল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট প্রণয়নের উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য বরাদ্দ অর্থের ব্যবহার ও আর্থিক কার্যক্রম সম্পর্কে আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়।
দ্বিতীয়ত, আদিবাসী বিষয়ক কর্মসূচিতে গত কয়েক দশকে ফেডারেল সরকারের ব্যয়ের একটি পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক অডিট পরিচালনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি অর্থ কোথায়, কীভাবে এবং কতটা কার্যকরভাবে ব্যয় হয়েছে, তা পর্যালোচনা করা সম্ভব হবে। কানাডার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে ঐতিহাসিক বৈষম্য দূর করা এবং দীর্ঘদিনের সম্পর্ক পুনর্গঠনে সরকারি বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেই বিনিয়োগের প্রকৃত সুফল সম্প্রদায়গুলোর জীবনযাত্রায় প্রতিফলিত হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করাও সরকারের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
সোহেলি আহমেদ সুইটি : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

