
টাঙ্গাইলের গোপালপুরে ৮০ বছর বয়সি এক বৃদ্ধাকে ঝাড়ফুঁক দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে নির্জন পরিত্যক্ত বাড়িতে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ৭০ বছর বয়সি এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে। ঘটনার বিচার দাবিতে অভিযুক্তের বাড়ির আঙিনায় অনশনে বসেছেন ভুক্তভোগী।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তের নাম আরশেদ আলী।
ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, গত রোববার রাত ৮টার দিকে ঝাড়ফুঁক দেওয়ার কথা বলে ওই বৃদ্ধাকে বাড়ির বাইরে ডেকে নেন আরশেদ আলী। পরে তাকে টেনে-হিঁচড়ে বাড়ির পেছনের একটি নির্জন পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যান তিনি। সেখানে বৃদ্ধার মুখ চেপে ধরে যৌন নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, এ সময় বৃদ্ধার চিৎকার শুনে তার এক নাতি ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে আটক করেন। পরে আরশেদ আলীর পরিবারের ১৫ থেকে ২০ জন সদস্য লাঠিসোঁটা নিয়ে ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে তার ছেলে ও নাতিদের মারধর করে অভিযুক্তকে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন। তবে কয়েক দিন ধরে দফায় দফায় চেষ্টা করেও অভিযুক্তের পরিবারের অসহযোগিতার কারণে কোনো সমাধান হয়নি বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, তারা আর্থিকভাবে অসচ্ছল। ফলে আইনি লড়াই চালানোর সামর্থ্য তাদের নেই। এ অবস্থায় বিচার দাবিতে বৃহস্পতিবার অভিযুক্তের বাড়ির আঙিনায় অনশনে বসেন বৃদ্ধা। বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেখান থেকে যাবেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তের ছেলে আসলাম। তার দাবি, তার বাবা ওই বৃদ্ধার বাড়িতে ঝাড়ফুঁক দিতে গিয়েছিলেন। পরে পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করে তাকে ফাঁসানো হয়েছে।
আসলাম আরও দাবি করেন, বিষয়টি ঘরোয়াভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগীর পরিবারের লোকজন তাদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করে ঘরে থাকা দুই লাখ টাকা নিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযুক্ত আরশেদ আলীকে বাড়িতে পাওয়া না যাওয়ায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

