‘ওরা আমাকে মেরে ফেলবে মা’ বলা বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রীর লাশ উদ্ধার

‘ওরা আমাকে মেরে ফেলবে মা’ বলা বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রীর লাশ উদ্ধার - the Bengali Times
বন্ধুর সঙ্গে ভাড়া করা আবাসনে থাকাকালীন মারা যান তরুণী

বন্ধুর সঙ্গে ভাড়া করা আবাসনে থাকাকালীন মারা যান তরুণী। ছবি: এনডিটিভি
ভারতের আসামের গুয়াহাটিতে একটি ভাড়া করা আবাসনের কক্ষে ২২ বছর বয়সী এক বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা ২৬ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মৃত্যুর আগে ওই তরুণী মাকে ফোন করে বলেছিলেন, ‘মা, ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।’ তবে ফোনে এমন কথা বলার দাবিটি এখনো তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

- Advertisement -

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত নিমিষা ঠাকুরিয়া গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে তিনি আসিফ আলি নামের ওই যুবকের সঙ্গে গারাল এলাকার একটি ভাড়া করা আবাসনের কক্ষে ছিলেন।

‘ওরা আমাকে মেরে ফেলবে মা’ বলা বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রীর লাশ উদ্ধার
ইউটিউবে স্বর্ণ ও টাকার ভিডিও প্রচার, রাতে সব নিয়ে গেল চোর
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে সেখান থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, আসিফ দাবি করেছেন নিমিষা আত্মহত্যা করেছেন। তবে তার বক্তব্য নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। গুয়াহাটি পশ্চিমের ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ বলিন দেওরি বলেন, ঘটনাটি এখনো তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং পুলিশ এটিকে হত্যাকাণ্ডের সন্দেহে তদন্ত করছে। মরদেহ বা মেঝেতে কোনো রক্তের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।

নিমিষার পরিবারের এক বন্ধু গৌতম দাসের দাবি, ঘটনার রাতে প্রায় ২টার দিকে নিমিষা তার মাকে ফোন করেছিলেন। তখন তিনি কাঁদছিলেন এবং বারবার বলছিলেন, ‘ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।’ এরপর তার ফোন কেড়ে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে দাবি করেন দাস।

আবাসনের রাঁধুনী ও তত্ত্বাবধায়ক বিপুল বৈলুং জানান, রাতের কোনো একসময় তিনি একজন পুরুষের চিৎকার শুনেছিলেন। পরে কান্নার শব্দ পেয়ে একটি কক্ষে গিয়ে একজন যুবককে তরুণীকে ধরে থাকা অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করেন তিনি।

এ ঘটনায় পুলিশ হোমস্টের মালিক, কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিমিষা হিন্দু এবং আসিফ মুসলিম হওয়ায় ঘটনাটি ঘিরে কয়েকটি সংগঠন বিক্ষোভ করেছে। তারা ‘লাভ জিহাদ’-এর অভিযোগ তুলেছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে পুলিশ এখনো কোনো প্রমাণের কথা জানায়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। সূত্র: এনডিটিভি

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles