
ফুসফুসের ক্যানসারের প্রধান ঝুঁকিগুলোর একটি ধূমপান। তবে শুধু ধূমপানই নয়, প্রতিদিনের কিছু অভ্যাসের কারণেও দীর্ঘ সময় ধরে ফুসফুস ক্ষতিকর ধোঁয়া, ধুলা ও রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসতে পারে। এতে ফুসফুসের বিভিন্ন সমস্যার পাশাপাশি ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
পরোক্ষ ধূমপান
নিজে ধূমপান না করলেও অন্যের সিগারেট বা বিড়ির ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এ ধোঁয়ার ক্ষতিকর রাসায়নিক ফুসফুসের কোষের ক্ষতি করতে পারে। তাই ধূমপানের পরিবেশ এড়িয়ে চলা জরুরি।
রান্নার ধোঁয়া
বদ্ধ রান্নাঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা না থাকলে গ্যাস বা অন্যান্য জ্বালানি থেকে উৎপন্ন ধোঁয়া দীর্ঘ সময় শ্বাসের সঙ্গে শরীরে ঢুকতে পারে। তেল ও মশলা পোড়ার ধোঁয়াতেও বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকতে পারে। তাই রান্নাঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন।
ধুলোবালিতে সুরক্ষা ছাড়া চলাফেরা
শিল্পাঞ্চল, নির্মাণস্থল বা অতিরিক্ত ধুলাবালির এলাকায় দীর্ঘ সময় অবস্থান করলে ক্ষুদ্র কণা ও রাসায়নিক পদার্থ ফুসফুসে প্রবেশ করতে পারে। এমন পরিবেশে কাজ বা চলাচলের সময় উপযুক্ত মাস্ক ব্যবহার করা উপকারী।
দীর্ঘদিনের কাশি অবহেলা করা
দীর্ঘদিন ধরে কাশি, বিশেষ করে শুকনো কাশি বা শ্বাসকষ্ট থাকলেও অনেকে তা সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। এসব উপসর্গের পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। তাই দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা শ্বাসকষ্ট হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মশার কয়েল ও ধূপের ধোঁয়া
বদ্ধ ঘরে দীর্ঘ সময় মশার কয়েল বা ধূপ জ্বালালে ধোঁয়া ও বিভিন্ন ক্ষতিকর কণা বাতাসে জমতে পারে। নিয়মিত এমন পরিবেশে থাকলে শ্বাসতন্ত্রের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তাই ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা এবং এসব ধোঁয়ার সংস্পর্শ কমানো জরুরি।
ফুসফুস সুস্থ রাখতে ধূমপান ও পরোক্ষ ধূমপান এড়িয়ে চলার পাশাপাশি ধোঁয়া, ধুলা ও ক্ষতিকর রাসায়নিকের সংস্পর্শ যতটা সম্ভব কমানো প্রয়োজন। দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

