
প্রথম দেখায় প্রেম—রোমান্টিক গল্প কিংবা সিনেমায় বিষয়টি বেশ পরিচিত। তবে বাস্তব জীবনেও কি কাউকে প্রথম দেখেই ভালো লেগে যেতে পারে? বিজ্ঞান বলছে, অবশ্যই পারে। কখনো কখনো প্রথম দেখার তীব্র আকর্ষণ পরবর্তী সময়ে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কেও রূপ নিতে পারে।
বিষয়টি আসলে শুধু মনের নয়, এর পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে মস্তিষ্কের। স্নায়ুবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান ও আচরণবিষয়ক গবেষণায় দেখা গেছে, কাউকে প্রথম দেখার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই মস্তিষ্ক তার প্রতি আকর্ষণ বা ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি করতে পারে।
প্রেমে পড়লে শরীরে কী ঘটে?
কাউকে দেখে হঠাৎ ভালো লাগার সময় শরীরে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে। এ ক্ষেত্রে অ্যাড্রেনালিন ও ডোপামিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রথম দেখায় আকর্ষণ তৈরি হলে শরীরের সিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। ফলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, ঘাম হওয়া, দ্রুত শ্বাস নেওয়া কিংবা মুখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো শারীরিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস এ সময় অ্যাড্রেনালিন নিঃসরণে ভূমিকা রাখে। এর প্রভাবেই শরীর উত্তেজনা বা আকর্ষণের মুহূর্তে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায়।
ডোপামিনের ভূমিকা
প্রেমের শুরুর পর্যায়ে ডোপামিনও গুরুত্বপূর্ণ। নৃতত্ত্ববিদ হেলেন ফিশারের গবেষণায় দেখা গেছে, পছন্দের কাউকে দেখলে মস্তিষ্কের আনন্দ ও পুরস্কার-সম্পর্কিত অংশগুলো বেশি সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।
ডোপামিন আনন্দ ও ভালো লাগার অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি কোনো ঘটনা মনে গেঁথে রাখার ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা রয়েছে। এ কারণেই প্রথম দেখার বিশেষ মুহূর্ত অনেকের স্মৃতিতে দীর্ঘদিন থেকে যায়।
মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই কেন আকর্ষণ?
মানুষের মস্তিষ্ক খুব দ্রুত অন্য একজন সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা তৈরি করতে পারে। নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক মনোবিজ্ঞানী ওয়েন্ডি গার্ডনারের মতে, সাত সেকেন্ডেরও কম সময়ে একজন মানুষ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা তৈরি হয়ে যেতে পারে।
অবশ্য এত অল্প সময়ে একজন মানুষের পুরো ব্যক্তিত্ব বোঝা সম্ভব নয়। তবে মস্তিষ্ক খুব দ্রুত কিছু বাহ্যিক সংকেত বিশ্লেষণ করে নেয়।
কারও চোখের দৃষ্টি, হাসি, হাঁটার ধরন, পোশাক, মুখের গঠন এবং শরীরের অঙ্গভঙ্গি—এসব বিষয় সচেতনভাবে খেয়াল না করলেও মস্তিষ্ক তা গ্রহণ করে। বিশেষ করে চোখে চোখ রাখা, হাসি ও স্বাভাবিক অঙ্গভঙ্গি কারও প্রতি আকর্ষণ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
অর্থাৎ, প্রথম দেখায় প্রেমকে শুধু রোমান্টিক কল্পনা হিসেবে দেখার কারণ নেই। এর পেছনে মানুষের মস্তিষ্ক, শরীরের রাসায়নিক পরিবর্তন এবং অন্য ব্যক্তির বিভিন্ন দৃশ্যমান সংকেত দ্রুত বিশ্লেষণের প্রক্রিয়াও কাজ করে।

