চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধকরণ

চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধকরণ - the Bengali Times
প্রস্তাবিত আইনটি সংসদে পাস হয়ে কার্যকর হলে তা দেশের নাগরিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতা নিয়ে সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা

কানাডায় ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। প্রস্তাবিত আইনটি সংসদে পাস হয়ে কার্যকর হলে তা দেশের নাগরিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতা নিয়ে সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

লিবারেল সরকার গত জুনে শিশুদের অনলাইনে সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিল সি-৩৪ হাউজ অব কমন্সে উত্থাপন করে। তবে আইনটি এখনও চূড়ান্তভাবে পাস হয়নি। সংসদীয় প্রক্রিয়ার আরও কয়েকটি ধাপ পার হওয়ার পরই এটি আইনে পরিণত হতে পারে।

- Advertisement -

একজন আইন বিশেষজ্ঞ জানান, আইনটি কার্যকর হলে এর বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট বেশি। তাঁর মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশের ক্ষেত্রে এত বড় ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে তা কানাডার চার্টার অব রাইটস অ্যান্ড ফ্রিডমস-এর অধীনে আইনি প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। কারানিকোলাসের ভাষায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন গুরুত্বপূর্ণ হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো সংগঠন ও বিশেষজ্ঞ কানাডায় রয়েছেন। ফলে আইনটি পাস হলে আদালতে এর বৈধতা নিয়ে মামলা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফরমকে একইভাবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার পরিবর্তে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো প্ল্যাটফরম যদি শিশুদের সুরক্ষায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে, তাহলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তারা এই বিধিনিষেধ থেকে অব্যাহতি পেতে পারে। সরকারের যুক্তি, শিশুদের অনলাইনে বিভিন্ন ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বয়সভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, বয়সের ভিত্তিতে সম্পূর্ণ প্রবেশাধিকার সীমিত করা হলে তা ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের সঙ্গে সংঘাত তৈরি করতে পারে।

কানাডার প্রস্তাবের মধ্যেই ফ্রান্সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে আদালতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আলোচনায় এসেছে। দেশটির সর্বোচ্চ আদালত শুক্রবার ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার একটি উদ্যোগ আটকে দিয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত ব্যাপক এবং এর ফলে বাকস্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে কানাডার প্রস্তাবিত আইন নিয়েও একই ধরনের সাংবিধানিক প্রশ্ন উঠতে পারে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের পথে শুধু কানাডাই এগোচ্ছে না। অস্ট্রেলিয়া ইতিমধ্যেই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া দেশগুলোর একটি। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দেশটিতে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। কানাডার প্রস্তাবও সেই আন্তর্জাতিক প্রবণতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কীভাবে সুরক্ষিত রাখা হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

বিল সি-৩৪ নিয়ে কানাডার প্রধান বিরোধী দল কনজার্ভেটিভ পার্টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের চূড়ান্ত অবস্থান জানায়নি। কনজার্ভেটিভদের জাস্টিস ক্রিটিক অর্পণ খান্না জানিয়েছেন, শিশুদের সুরক্ষায় প্রস্তাবিত বিলটি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা তারা খতিয়ে দেখছেন। তবে একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন শিশুদের সুরক্ষার নামে যদি সাধারণ মানুষের নাগরিক অধিকার খর্ব হয়, তাহলে সেটি তাদের জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হবে। ফলে কানাডার সংসদে বিলটির ভবিষ্যৎ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে এর সম্ভাব্য সাংবিধানিক পরিণতি। আইনটি শেষ পর্যন্ত পাস হলে আদালতে এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে কি না, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

সোহেলি আহমেদ সুইটি : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles