
কানাডার লং-টার্ম কেয়ার (এলটিসি) হোমগুলোতে দ্রুত রোগ নির্ণয়ের ব্যবস্থা বা পয়েন্ট-অব-কেয়ার টেস্টিং ব্যাপকভাবে চালু করা গেলে জরুরি বিভাগে রোগী পাঠানোর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফলে এমনই সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। গবেষকদের হিসাব, এই পদ্ধতি সারা দেশে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা গেলে প্রতি বছর প্রায় ৮ হাজার জরুরি বিভাগে ভিজিট এড়ানো যেতে পারে।
গবেষণার অন্যতম সহ-মুখ্য তদন্তকারী এবং সানিব্রুক হেলথ সায়েন্সেস সেন্টারের ইনফেকশন প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোলের মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. জেরোম লেইস জানান, লং-টার্ম কেয়ার হোমগুলিতে কোভিড-১৯, ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং আরএসভির মতো শ্বাসযন্ত্রের ভাইরাস শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এখনও বড় ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে শরতের শেষ থেকে শীতকাল পর্যন্ত ফ্লু মরসুমে এই সংক্রমণগুলি বয়স্ক নিবাসীদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই পরীক্ষার নমুনা আঞ্চলিক ল্যাবরেটরিতে পাঠাতে হয়। ফলে রিপোর্ট হাতে পেতে গড়ে তিন থেকে সাত দিন পর্যন্ত সময় লেগে যায়। পরীক্ষার চাহিদা বেশি থাকা এবং লং-টার্ম কেয়ার হোম থেকে ল্যাবরেটরির দূরত্ব এই দেরির অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
অন্যদিকে, এলটিসি হোমেই দ্রুত পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলাতে পারে। র্যাপিড টেস্টিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ৩৫ মিনিটের মধ্যেই ফলাফল পাওয়া সম্ভব। ফলে সংক্রমণ দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। ‘প্রম্পট-এলটিসি’ নামে পরিচিত এই ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফল ১৬ জুলাই প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৪ সালের ১২ নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২ মে পর্যন্ত চলা গবেষণায় কানাডার ২০টি লং-টার্ম কেয়ার হোমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
গবেষণায় দেখা যায়, এলটিসি হোমে দ্রুত শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ শনাক্ত করার ব্যবস্থা চালু করলে সংক্রমণের কারণে বাসিন্দাদের জরুরি বিভাগে পাঠানোর হার প্রায় ১১ শতাংশ কমানো সম্ভব। গবেষকদের মতে, এই মডেলটি বৃহৎ পরিসরে বাস্তবায়ন করা গেলে নভেম্বর থেকে মার্চ অর্থাৎ কানাডার শীতকালীন সংক্রমণের মরসুমে দেশজুড়ে জরুরি বিভাগে পাঠানো রোগীর সংখ্যা বছরে প্রায় ৮ হাজার কমতে পারে।
গবেষকরা বিশেষভাবে আরএসভি-র কথাও উল্লেখ করেছেন। এই ভাইরাস মূলত ফুসফুস ও শ্বাসনালীতে সংক্রমণ ঘটায় এবং গলা ব্যথা, নাক দিয়ে পানি পড়া-সহ নানা উপসর্গ তৈরি করতে পারে। বয়স্ক ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার প্রয়োজন থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এ ধরনের সংক্রমণ দ্রুত জটিল আকার নিতে পারে।
লং-টার্ম কেয়ার হোমেই দ্রুত পরীক্ষার সুযোগ থাকলে শুধু রোগ শনাক্তকরণ ত্বরান্বিত হবে না, অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাসিন্দাদের হাসপাতালে পাঠানোর প্রবণতাও কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে জরুরি বিভাগগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতেও এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

