
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক শামীমা সুলতানা বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ও হত্যার ঘটনার প্রতিবাদ হিসেবে তিনি তার কার্যালয় থেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সরিয়ে ফেলেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল তার নৈতিক অবস্থান থেকে নেওয়া একটি ব্যক্তিগত প্রতিবাদ। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর সহিংসতার ঘটনা তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। তিনি মনে করেছিলেন, সে পরিস্থিতিতে ওই ছবি তার কার্যালয়ে রাখা উচিত নয়।
শামীমা সুলতানা জানান, আন্দোলনের সময় তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য নিজের কার্যালয় উন্মুক্ত রেখেছিলেন এবং যোগাযোগের সুবিধার্থে অফিসের ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগও দিয়েছিলেন। তার দাবি, ১৫ জুলাইয়ের ঘটনাবলি এবং পরে রংপুরে শিক্ষার্থী আবু সাঈদের মৃত্যুর খবর তার অবস্থানকে আরও দৃঢ় করে।
তিনি আরও বলেন, ছবি সরানোর পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে বাড়ি ফিরে তার ছেলে তাকে জড়িয়ে ধরে বলেছিল, “মা, আমি তোমাকে নিয়ে গর্বিত।” তিনি এটিকে নিজের জীবনের একটি স্মরণীয় মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেন।
অধ্যাপক শামীমা সুলতানার দাবি, ওই ঘটনার পর তিনি হুমকি, কটূক্তি ও ব্যক্তিগত আক্রমণের মুখে পড়েন। এমনকি তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর (শোকজ) সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল, যদিও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নোটিশ পাননি। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পরিবর্তনের পর সেই সিদ্ধান্ত বাতিল হয় বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, নিজের সিদ্ধান্তের জন্য তিনি অনুতপ্ত নন এবং এটিকে ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং একজন শিক্ষকের দায়িত্ববোধ থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে দেখেন।

