একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক পুলিশ কর্মকর্তার, বিচার দাবি স্ত্রীর

একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক পুলিশ কর্মকর্তার, বিচার দাবি স্ত্রীর - the Bengali Times
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো আরিফ হোসেন সংগৃহীত ছবি

জয়পুরহাটে কর্মরত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে যৌতুক দাবি, একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন তার স্ত্রী শামিয়া খান এশা। রোববার রাজধানীর বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরে নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

লিখিত বক্তব্যে শামিয়া জানান, ২০১৯ সালের ১৯ জুলাই ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় তার পরিবার প্রায় ২০ লাখ টাকার আসবাবপত্র, ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার, হীরার আংটি ও মূল্যবান ঘড়িসহ বিভিন্ন উপহার দেয়। তবে বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই স্বামীর আচরণে পরিবর্তন আসে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

- Advertisement -

তার দাবি, আরিফ হোসেন নিয়মিত মদ্যপান ও মাদক সেবনের পাশাপাশি একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এসবের প্রতিবাদ করলে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। একপর্যায়ে তার পরিবারের কাছে ৪০ লাখ টাকা এবং পরে আরও ৫০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

শামিয়া আরও অভিযোগ করেন, চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি যৌতুকের দাবিতে জয়পুরহাটের বাসায় তাকে মারধর করা হয় এবং তাদের সাড়ে পাঁচ বছর বয়সী কন্যাশিশুও নির্যাতনের শিকার হয়। পরে গভীর রাতে মা-মেয়েকে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হলে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও দাবি করেন, গত ৩০ মে ঢাকায় স্বামীকে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে প্রতিবাদ করলে তার ওপর হামলা চালানো হয়। পরবর্তীতে তিনি পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি এবং জয়পুরহাটের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে যৌতুক নিরোধ আইনে আদালতে মামলাও দায়ের করেছেন বলে জানান।

শামিয়ার অভিযোগ, আদালতের সমনের পর অভিযুক্ত কর্মকর্তা প্রভাব খাটিয়ে তার ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেছেন এবং সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এমনকি তাকে প্রাণনাশ ও এসিড হামলার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ অবস্থায় নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে জয়পুরহাট থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করার আহ্বান জানান শামিয়া খান এশা। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফ হোসেনের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে আইনগত প্রক্রিয়ায় বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles