গ্রাফিক ডিজাইনের ‘মুকুটহীন রানী’ হয়ে ওঠার গল্প

গ্রাফিক ডিজাইনের ‘মুকুটহীন রানী’ হয়ে ওঠার গল্প - the Bengali Times
অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোক্তা মেলানি পারকিন্স

একসময় গ্রাফিক ডিজাইন ছিল দক্ষ পেশাদারদের জন্য সীমাবদ্ধ একটি ক্ষেত্র। জটিল সফটওয়্যার ও ব্যয়বহুল লাইসেন্সের কারণে সাধারণ মানুষের জন্য ডিজাইন শেখা ও ব্যবহার করা সহজ ছিল না। সেই ধারণা বদলে দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোক্তা মেলানি পারকিন্স। তাঁর সহপ্রতিষ্ঠিত ক্যানভা আজ বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের জন্য ডিজাইনকে সহজ, দ্রুত ও সবার নাগালের মধ্যে নিয়ে এসেছে।

১৯৮৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার পার্থে জন্ম নেওয়া মেলানি ছোটবেলা থেকেই পরিশ্রম ও শৃঙ্খলার পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। মাত্র ১৪ বছর বয়সে নিজ হাতে তৈরি স্কার্ফ বিক্রি করে উদ্যোক্তা জীবনের সূচনা করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় শিক্ষার্থীদের ফটোশপ ও ইনডিজাইনের মতো সফটওয়্যার শেখাতে গিয়ে তিনি উপলব্ধি করেন, প্রচলিত ডিজাইন সফটওয়্যার সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত জটিল।

- Advertisement -

এই উপলব্ধি থেকেই ২০০৭ সালে স্বামী ক্লিফ ওব্রেখটকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ফিউশন বুকস নামে একটি অনলাইন ইয়ারবুক ডিজাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করেন। উদ্যোগটি সফল হলেও আরও বড় স্বপ্ন ছিল সবার জন্য সহজ একটি ডিজাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা।

তবে সেই পথ মোটেও সহজ ছিল না। শতাধিক বিনিয়োগকারী তাঁর প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। তবুও তিনি হাল ছাড়েননি। অবশেষে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করে গুগলের সাবেক প্রকৌশলী ক্যামেরন অ্যাডামসকে সঙ্গে নিয়ে ২০১৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ক্যানভা।

সহজ ড্র্যাগ-অ্যান্ড-ড্রপ সুবিধা ও ব্যবহারবান্ধব নকশার কারণে অল্প সময়েই ক্যানভা বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে ১৯০টিরও বেশি দেশে প্রতি মাসে ১৭০ মিলিয়নের বেশি মানুষ এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছেন এবং প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য পৌঁছেছে কয়েক দশক বিলিয়ন ডলারে।

ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন মেলানি পারকিন্স। ক্যানভা ফর এডুকেশন কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্বের অসংখ্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনামূল্যে প্রিমিয়াম সুবিধা ব্যবহার করার সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি ২০২১ সালে তিনি ও ক্লিফ ওব্রেখট দ্য গিভিং প্লেজ-এ স্বাক্ষর করে নিজেদের সম্পদের বড় অংশ মানবকল্যাণে দান করার অঙ্গীকার করেন।

বাংলাদেশেও ক্যানভার জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট নির্মাতারা প্রতিদিন বিভিন্ন কাজে এটি ব্যবহার করছেন। বাংলা ফন্ট, স্থানীয় টেমপ্লেট এবং সহজ ব্যবহারের সুবিধা ক্যানভাকে নতুন প্রজন্মের অন্যতম জনপ্রিয় সৃজনশীল প্ল্যাটফর্মে পরিণত করেছে।

মেলানি পারকিন্সের যাত্রা প্রমাণ করে, একটি ছোট সমস্যার কার্যকর সমাধানই কখনো কখনো বিশ্বের কোটি মানুষের জীবন ও কাজের ধরন বদলে দিতে পারে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles