আইভী রহমানকে নিয়ে কিছু কথা

আইভী রহমানকে নিয়ে কিছু কথা - the Bengali Times
আব্দুল হালিম মিয়া

নারায়ণগন্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী জেল থেকে মুক্তি পেয়েই আবারও মেয়র নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন। পরে নবগঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের একটানা তিনটি নিবার্চনে জয়ী হন সেলিনা হায়াৎ আইভী। সরকার এ বছরের শেষের দিকে স্হানীয় সরকার সুমহের নির্বাচনের ঘোষণা দেয়ায় অনেকেই নড়ে চড়ে বসেছেন। প্রশ্ন হলো এবারও কি আগের মতই চেয়ারম‍্যান মেয়র কাউন্সিলর নির্বাচিত হবেন এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিতা ছাড়াই যা খুশী তা করে যাবেন নাকি মানুষ সামান‍্যতম কোন পরিবর্তন দেখতে পাবেন? এই প্রশ্নের জবাব পেতে হলে আমাদেরকে আগে প্রশ্নগুলো জানতে হবে তারপর জবাব খুঁজতে হবে। আমার মনে যেসব প্রশ্নের উদয় হয়েছে তা আমি লিপিবদ্ধ করে উত্তরগুলো খুঁজতে পারি।

১। নির্বাচনে কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন, যোগ‍্যতা কী হবে? আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে আগেরমতই অযোগ্যরা কি পার পেয়ে যাবেন, নির্বাচনের নামে কিছু আনুষ্ঠানিকতা দেখিয়ে চেয়ারগুলো দখল করে ফেলবেন? মুলত এই প্রশ্নটা একটা ব‍্যপক ওপেন এন্ডেড কোশ্চেন যার মধ‍্যে রয়েছে ছোট ছোট অনেকগুলো প্রশ্ন।

- Advertisement -

২। একটা মেয়র বা কাউন্সিলর নির্বাচিত হবার জন‍্যে যে টাকা খরচ করা হবে তার উৎস এবং ব‍্যায়ের হিসাব কে নিবে, কিভাবে নিবে, কতটুকু স্বচ্ছতা থাকবে এবং কতটুকু আইওয়াশ হবে?

৩। নির্বাচনের পরপরই অতীতের মত এবারও কি কাউন্সিলর বা স্বয়ং মেয়ররা অনেকেই নামে বা বেনামে ঠিকাদারী কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে পড়বেন? এই বিষয়টার সাথে অনেকগুলো আইন ভংগ এবং অপরাধ সংঘটিত হয় যার প্রতিকার হিসেবে জনগণ কখনোই কোন পদক্ষেপ দেখে নি।

৪। একটা সিটিতে বা পৌরসভায় কত টাকা ফান্ডে রয়েছে, কত টাকা দেনা রয়েছে, কত টাকা সরকারের কাছ থেকে বা বিদেশী অনুদান পেয়েছে এবং কতগুলো প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে, সেগুলোর একটা বর্ণনামূলক ঢাউস সাইনবোর্ড জনগণের জ্ঞাতার্থে সিটি মেয়রের অফিসের সামনে টাঙানো হবে কিনা? সেগুলোর শুরু কবে, শেষ হবে কবে, বরাদ্দ কত, ঠিকাদার কে ইত‍্যাদি লেখা থাকবে, যে কেউ ইচ্ছা করলেই দেখতে পাবে।

৫। নির্বাচনের আগে এবং মেয়াদ শেষে মেয়র/চেয়ারম‍্যান/কমিশনার বা কাউন্সিলররা কি তাদের সম্পদের বিশ্বাসযোগ্য হিসাব জনসম্মুখে দিবেন? দিতে বাধ‍্য করা হবে? না দিলে বা ভুয়া হিসাব দিলে তার পরিণাম কী হবে সেটা কি জনগণ জানতে পারবে?

৬। প্রতি তিন বা ছয়মাস পরপর টাউনহলের মাধ‍্যমে জনগনকে সার্বিক কার্যক্রম অবহিত করা হবে কিনা? হলে কারা কারা এইসব টাউনহলে যোগ দিতে পারবে? সর্বস্তরের জনগণের একটা প্রতিনিধিত্বমুলক তালিকা সক্রিয় ও সার্বজনীন নাগরিক কমিটির মাধ্যমে করা সম্ভব কিনা?

৭। স্বচ্ছতার স্বার্থে, যে কোন সরকারী সাহায‍্য বা ত্রাণ যাদেরকে দেয়া হবে তার তালিকা ও বিতরণ দলীয় লোকজনের পরিবর্তে নির্বাচিত এইসব জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে করা হবে কিনা? যাদের মধ‍্যে ত্রাণ/রিলিফ বা নানা ধরণের কার্ড বিতরণ করা হয় তাদের ঠিকানাসহ তালিকা পৌর/সিটি বা উপজেলায় প্রকাশ‍্য জনসম্মুখে নির্ধারিত বের্ডে একটা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন‍্যে টাঙিয়ে রাখা হবে কিনা?

৮। সর্বোপরি জনগণের কষ্টার্জিত ট‍্যাক্সের টাকা যারা খরচ করেন তাদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে সচেতন জনগণের মধ‍্য থেকে দেশের প্রতিটি পৌরসভায়, সিটি কিংবা উপজেলায় একটা নির্দিষ্ট মেয়াদের নির্দলীয় কিংবা সর্বদলীয় নাগরিক কমিটি গঠন করা যায় কিনা এবং সেই কমিটিও একটা রেগুলেশনর মাধ‍্যমে মনিটর করা সম্ভব কিনা?

আপাতত এগুলোই মনে আসলো। আপনাদের মনে ক্রিয়েটিভ কোন প্রশ্ন থাকলে আপনারাও এখানে বা নিজের ওয়ালে পোষ্ট করতে পারেন।

 

স্কারবোরো, কানাডা

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles