
চট্টগ্রামের পটিয়ায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছেন মিজানুর রহমান কফিল (৩৭) নামে যুবদলের এক কর্মী। রবিবার (৩১ মে) দুপুরে উপজেলার কোলাগাঁও ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। আটক মিজানুর রহমান কফিল কোলাগাঁও ইউনিয়নের মৃত সোলায়মান মেম্বারের ছেলে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে তার পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। রবিবার দুপুরে ওই নারীর বাড়িতে গেলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
পরে কিছু লোক তাকে মারধরও করে বলে ভিডিওতে দেখা যায়। এ ঘটনায় একাধিক ভিডিও ফুটেজ ও ছবি হাতে এসেছে কালের কণ্ঠের এ প্রতিবেদকের হাতে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি কফিলকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এসময় উপস্থিত লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওর একপর্যায়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় এক নারীকে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে এলাকাবাসী কফিলকে আটক করে। পরে তার পরিবারের সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং এলাকার মুরব্বিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে একটি লিখিত মুচলেকা নেওয়ার পর প্রায় তিন ঘণ্টা পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই।
তখন এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং শান্তিপূর্ণভাবে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করা হয়।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন যুবদল নেতা মিজানুর রহমান কফিল। তিনি বলেন, আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। আমি আমার এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিলাম। সেখানে কিছু লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলতে গিয়েছিলাম। আমাকে পরিকল্পিতভাবে হেনস্তা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশ তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
পটিয়া উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব ওয়াহিদুল আলম চৌধুরী পিবলু বলেন, মিজানুর রহমান কপিলের বর্তমানে যুবদলের কোনো সাংগঠনিক পদ নেই। তবে তিনি দলের একজন কর্মী হিসেবে পরিচিত। অভিযোগের বিষয়ে আমরা খোঁজ-খবর নিচ্ছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে থানায় কোনো অভিযোগ হয়নি বলে জানিয়েছেন পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক। তিনি বলেন, কোলাগাঁও ইউনিয়নে এ ধরনের কোনো ঘটনার বিষয়ে থানায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

