টিকটক করার অভিযোগে নারীর মরদেহ দাফনে বাধা

টিকটক করার অভিযোগে নারীর মরদেহ দাফনে বাধা - the Bengali Times
সুবর্ণা আক্তার

চুয়াডাঙ্গা শহরতলীতে নাচ-গান ও টিকটক করায় সুবর্ণা আক্তার (৩৫) নামে এক নারীর মরদেহ দাফনে বাধা দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে মরদেহটি দাফনের জন্য কবরস্থানে নেওয়া হলে একদল গ্রামবাসীর বাধার মুখে পড়ে পরিবারটি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাতে ঝিনাইদহ শহরের একটি ভাড়া বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল বিকেলে তাঁর মরদেহ চুয়াডাঙ্গার দৌলতদিয়াড় এলাকার নিজ বাড়িতে আনা হয়। মরদেহ পৌঁছানোর পরপরই স্থানীয়দের একটি অংশ দাফন কার্যক্রমে আপত্তি তোলে।

- Advertisement -

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সুবর্ণা ছোটবেলা থেকেই নাচ-গানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত ভিডিও (টিকটক) আপলোড করতেন। তাঁর এই জীবনযাপন ও পারিবারিক কিছু বিষয় নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আগে থেকেই অসন্তোষ ছিল। এসব কারণ দেখিয়ে তাঁকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করতে দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়।

আসাদুজ্জামান নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘তাঁর চলাফেরা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকাবাসীর ঘোর আপত্তি ছিল। সে কারণে এখানে দাফন করতে আমরা সম্মত নই।’ আরেক বাসিন্দা মিনারুল ইসলামের দাবি, এই কবরস্থানটি তাঁদের নিজস্ব এবং সুবর্ণার পরিবার এর সদস্যভুক্ত নয়।

তবে এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও অমানবিক বলে দাবি করেছেন সুবর্ণার পরিবারের সদস্যরা। তাঁর সৎ বাবা ইসরাইল হোসেন বলেন, ‘আমাদের পরিবারের অন্য সদস্যদের এখানেই দাফন করা হয়েছে। এখন হঠাৎ কেন বাধা দেওয়া হচ্ছে, তা বুঝতে পারছি না। এমনকি আমাদের কবরও খুঁড়তে দেওয়া হচ্ছে না।’

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে ঝিনাইদহের শৈলকুপার এক ব্যক্তির সঙ্গে সুবর্ণার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। দাম্পত্য কলহের জেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, মরদেহ দাফনে বাধার বিষয়টি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে দাফন সম্পন্ন করার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles