একের পর এক মার্কিন পারমাণবিক বিজ্ঞানী নিখোঁজ-মৃত্যু!

একের পর এক মার্কিন পারমাণবিক বিজ্ঞানী নিখোঁজ-মৃত্যু! - the Bengali Times
যুক্তরাষ্ট্রে মহাকাশ ও পারমাণবিক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত একাধিক বিজ্ঞানীর রহস্যজনক মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রে মহাকাশ ও পারমাণবিক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত একাধিক বিজ্ঞানীর রহস্যজনক মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, শিগগিরই এ রহস্যের স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যেতে পারে।

মার্কিন গণমাধ্যম ফক্স নিউজের বরাতে জানা গেছে, ২০২৩ সাল থেকে অন্তত ৯ থেকে ১০ জন বিজ্ঞানী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। এদের অধিকাংশই মহাকাশ প্রযুক্তি, পারমাণবিক গবেষণা এবং উচ্চমাত্রার গোপন প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন।

- Advertisement -

এ ঘটনাগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত কিনা—এ প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, “আমি আশা করি এটি কাকতালীয়। তবে আমরা আগামী এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যেই বিষয়টি জানতে পারব।” তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি ইতোমধ্যে একটি বৈঠক করেছেন এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “বিজ্ঞানীদের বিষয়ে আমরা সম্ভবত আগামী সপ্তাহের মধ্যেই একটি ভালো উত্তর পেয়ে যাব।”

বার্তাসংস্থা Anadolu Agency-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিখোঁজ বা মৃতদের মধ্যে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এর মধ্যে রয়েছে লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি, নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি এবং এমআইটির প্লাজমা সায়েন্স অ্যান্ড ফিউশন সেন্টার —যেগুলো পারমাণবিক অস্ত্র, উন্নত মহাকাশ প্রযুক্তি এবং ভবিষ্যৎ জ্বালানি গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের অনেকেই এখনো ঘটনাগুলোর মধ্যে সংগঠিত কোনো যোগসূত্র খুঁজে পাননি। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানী অ্যাভি লোয়েব বলেন, প্রতিটি ঘটনাই আলাদাভাবে তদন্ত করা উচিত এবং এগুলোকে সমন্বিত কোনো ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখার আগে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

এদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, তিনি এখনো সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেননি। তবে প্রয়োজন হলে দ্রুতই তা করা হবে।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নিখোঁজদের কেউ কেউ ঘর থেকে বের হওয়ার সময় তাদের মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রেখে গিয়েছিলেন—যা ঘটনাগুলোকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। অন্যদিকে কয়েকজন বিজ্ঞানীর মৃত্যু সহিংস বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ঘটেছে বলেও জানা গেছে।

সাবেক এফবিআই কর্মকর্তা ক্রিস সুইকার সতর্ক করে বলেছেন, এসব ঘটনায় গুপ্তচরবৃত্তি বা লক্ষ্যভিত্তিক অপহরণের সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট মহলে বিষয়টি নিয়ে বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles