মিরপুরের ১০ নারীকে যাত্রাবাড়ীতে এনে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেল, গ্রেপ্তার রাব্বি

মিরপুরের ১০ নারীকে যাত্রাবাড়ীতে এনে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেল, গ্রেপ্তার রাব্বি - the Bengali Times
গ্রেপ্তার রাশিদুল ইসলাম রাব্বি

রাজধানীর মিরপুর এলাকার অন্তত ১০ জন নারীকে কৌশলে ফাঁদে ফেলে যাত্রাবাড়ী এলাকায় এনে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেলের অভিযোগে রাশিদুল ইসলাম রাব্বি (৩০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দেড় মাসে একই কায়দায় একাধিক নারীর সঙ্গে প্রতারণার তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বুধবার মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী।

- Advertisement -

পুলিশ জানায়, গত ৪ মার্চ যাত্রাবাড়ী থানায় এক তরুণী ব্যক্তিগত ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ করলে তদন্ত শুরু হয়। প্রথমে একজনকে গ্রেপ্তারের পর তদন্তে বেরিয়ে আসে রাব্বির নাম। পরে গত সোমবার যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী জানান, এখন পর্যন্ত ১০টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত নিজেই ১৩টি ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে তিনটি মামলা হয়েছে এবং আরও কয়েকটি জিডি তদন্তাধীন রয়েছে।

তদন্তে জানা গেছে, রাব্বি প্রথমে এক নারীকে টার্গেট করে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। পরে তার মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতেন। সেই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ওই নারীর বন্ধুতালিকার অন্যান্য নারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে একইভাবে ফাঁদে ফেলতেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের যাত্রাবাড়ীর দনিয়া কলেজ-সংলগ্ন দুটি বাসায় নিয়ে যাওয়া হতো—দিন ও রাত অনুযায়ী আলাদা স্থানে। সেখানে কখনো ধর্ষণ, কখনো গোপনে ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেল করা হতো। এভাবে স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও ব্যাংক থেকে অর্থ আদায় করা হয়েছে।

সামাজিক সম্মানের ভয়ে অনেক ভুক্তভোগী সরাসরি অভিযোগ না করে ‘মোবাইল হারানো’ উল্লেখ করে সাধারণ ডায়েরি করেছেন বলেও জানায় পুলিশ। পরে এসব জিডির সূত্র ধরে তাদের শনাক্ত করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, রাব্বি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন এবং কোনো পেশায় যুক্ত ছিলেন না। প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেলের মাধ্যমেই তিনি চলতেন। এমনকি যাকে তিনি বিয়ে করেছেন, তাকেও একই কৌশলে ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ হওয়ায় তাকে গ্রেপ্তারে বেগ পেতে হয়েছে। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের ছদ্মবেশে রিকশা চালিয়েও অভিযান পরিচালনা করতে হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আরও ভুক্তভোগী থাকতে পারেন। তাই যেসব নারী এখনো সামনে আসেননি, তাদের দ্রুত অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles