৩০০ কিলোমিটার হেঁটে টিপিএলের ১০০ শাখায় যাবেন টরন্টোর এক নারী

৩০০ কিলোমিটার হেঁটে টিপিএলের ১০০ শাখায় যাবেন টরন্টোর এক নারী - the Bengali Times
আগামী ৭ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত স্টেপাক টরন্টো পাবলিক লাইব্রেরির টিপিএল ১০০টি শাখা পরিদর্শন করবেন পায়ে হেঁটে

ভালোবাসার প্রকাশ সবসময় শব্দে হয় না, কখনও তা হয়ে ওঠে এক দীর্ঘ পথচলা। ঠিক এমনই এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন মার্সি স্টেপাক, যিনি তার প্রয়াত মা এবং লাইব্রেরির প্রতি গভীর ভালোবাসাকে স্মরণীয় করে রাখতে ৩০০ কিলোমিটার হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আগামী ৭ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত স্টেপাক টরন্টো পাবলিক লাইব্রেরির (টিপিএল) ১০০টি শাখা পরিদর্শন করবেন পায়ে হেঁটে। এই যাত্রা শুধুমাত্র শারীরিক সহনশীলতার পরীক্ষা নয়, বরং এটি তার মায়ের প্রতি এক আবেগঘন শ্রদ্ধাঞ্জলি।

- Advertisement -

স্টেপাকের মা ইউনিচ ২০২৫ সালের ৭ এপ্রিল, ৮৮তম জন্মদিনের ঠিক আগেই মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত তার বই এবং লাইব্রেরির প্রতি ভালোবাসা ছিল অটুট। মৃত্যুশয্যায় তিনি তার ৫৫ বছর বয়সী মেয়েকে বলে যান, তার বইগুলো যেন লাইব্রেরিতে ফেরত দেওয়া হয় যাতে অন্যরাও সেগুলো পড়ে আনন্দ পেতে পারে। এই ঘটনাই স্টেপাককে গভীরভাবে নাড়া দেয় এবং অনুপ্রাণিত করে এমন একটি অনন্য উদ্যোগ নিতে।

স্টেপাক স্মৃতিচারণ করে বলেন, তাদের শৈশব কেটেছে জেন অ্যান্ড ফিঞ্চ এলাকায়, যেখানে তাদের স্থানীয় লাইব্রেরি ছিল ইয়র্ক উডস ব্র্যাঞ্চ। প্রতি সপ্তাহেই তার মা তাকে সেখানে নিয়ে যেতেন। সেই সময় থেকেই বই আর লাইব্রেরির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

তিনি আরও বলেন, “সম্ভবত আমাকে লাইব্রেরিতে নেওয়ার অজুহাতে মা পার্কিং লটে গিয়ে রথম্যান্স সিগারেট খেতেন। কিন্তু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি আমাকে টরন্টোর পুরোনো বইয়ের দোকান আর বিভিন্ন লাইব্রেরি শাখায় নিয়ে যেতেন। বই পড়া আর একে অপরের সঙ্গে বই বিনিময় করাই ছিল আমাদের ভালোবাসার ভাষা।”

কুইবেকে প্রায় দুই দশক কাটানোর পর স্টেপাক মায়ের দেখাশোনার জন্য আবার টরন্টোতে ফিরে আসেন। সেই সময়টুকুই তাদের সম্পর্ককে আরও গভীর করে তোলে।

এই দীর্ঘ যাত্রায় স্টেপাক একা নন। তাকে সমর্থন দিতে কুইবেক থেকে আসছেন তার ২৩ ও ২৫ বছর বয়সী দুই সন্তান। এছাড়াও থাকবেন তার ভাই-বোনরা। তার জীবনসঙ্গী পুরো যাত্রায় ‘ক্রু’ হিসেবে কাজ করবেন খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থা করা, স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করা এবং বিভিন্ন লাইব্রেরিতে পৌঁছে দেওয়া ও সেখান থেকে তুলে আনার দায়িত্ব নেবেন। এই যাত্রায় মাঝে মধ্যেই তাদের সঙ্গে যোগ দেবে তার প্রিয় পোষা কুকুর ‘টেস’, যা একটি হাস্কি-ল্যাব্রাডর মিশ্র প্রজাতির।

স্টেপাকের এই উদ্যোগ শুধুমাত্র ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ নয়, এটি লাইব্রেরির গুরুত্ব ও বইয়ের প্রতি ভালোবাসার একটি শক্তিশালী বার্তাও বহন করে। তার এই পদযাত্রা প্রমাণ করে একটি লাইব্রেরি কেবল বইয়ের ভাণ্ডার নয়, এটি স্মৃতি, সম্পর্ক এবং ভালোবাসারও এক অমূল্য কেন্দ্র। এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতিমধ্যেই অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং বইপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে অনুপ্রেরণা জাগিয়েছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles