১২ হাজার পূর্ণকালীন পদ ছেঁটে ফেলছে ফেডারেল বিভাগ ও সংস্থাগুলো

১২ হাজার পূর্ণকালীন পদ ছেঁটে ফেলছে ফেডারেল বিভাগ ও সংস্থাগুলো - the Bengali Times
ট্রেজারি বোর্ড নির্ধারিত নীতিমালার আলোকে তাদের সুবিধা নিশ্চিত করা হবে

কানাডার ফেডারেল সরকার আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রায় ১২ হাজার পূর্ণকালীন সমতুল্য পদ কমানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও বাজেট ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যে গৃহীত এই পদক্ষেপটি কার্নি সরকারের বিস্তৃত ব্যয় পর্যালোচনা কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত ব্যয় সাশ্রয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ফেডারেল বিভাগ ও সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে একটি বিস্তারিত রূপরেখা তৈরি করেছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই কর্মীসংখ্যা কমানোর বিষয়টি সামনে এসেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, শুধুমাত্র পূর্ণকালীন চাকরি নয় অনেক খণ্ডকালীন পদকে একত্রে পূর্ণকালীন সমতুল্য হিসেবে গণনা করে এই সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে।

- Advertisement -

সব বিভাগকে ২০২৮-২৯ অর্থবছর পর্যন্ত ব্যয় সাশ্রয়ের একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছিল। এসব প্রতিবেদনে কীভাবে ব্যয় কমানো হবে, কোথায় কর্মীসংখ্যা হ্রাস করা হবে এবং পূর্ববর্তী বাজেটে উল্লেখ না থাকা নতুন পদক্ষেপগুলো কী সেসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সংস্থায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পদ কমানো হবে। যেমন – পাবলিক সার্ভিসেস অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট কানাডা: ১,৭৯৩ পদ, স্ট্যাটিস্টিকস কানাডা: ৯০০ পদ এবং হেলথ কানাডা: ৯৪২ পদ। এই সংখ্যাগুলো থেকে বোঝা যায়, প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতেও সংকোচন নীতি প্রয়োগ করা হচ্ছে।

ট্রেজারি বোর্ডের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের বাজেটে ঘোষিত নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই কর্মীসংকোচন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সরকার সরাসরি ছাঁটাইয়ের পথ এড়িয়ে ‘স্বাভাবিক হ্রাস’  পদ্ধতির ওপর জোর দিচ্ছে। অর্থাৎ – অবসর গ্রহণ এবং স্বেচ্ছায় চাকরি ত্যাগ। এই দুই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ধীরে ধীরে কর্মীসংখ্যা কমানো হবে। ইতোমধ্যে প্রায় ৬৮ হাজার সরকারি কর্মচারীকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকেই চাকরির মেয়াদের ভিত্তিতে আগাম অবসরের জন্য যোগ্য হতে পারেন। সরকার জানিয়েছে, আগাম অবসর গ্রহণকারীদের কোনো আর্থিক জরিমানার সম্মুখীন হতে হবে না। ট্রেজারি বোর্ড নির্ধারিত নীতিমালার আলোকে তাদের সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ শুধু ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নয় এটি সরকারের প্রশাসনিক পুনর্গঠনের একটি বড় ইঙ্গিত। কোভিড-পরবর্তী সময়ে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি এবং ঋণের চাপ মোকাবিলায় এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এর কিছু সম্ভাব্য প্রভাবও রয়েছে – সরকারি সেবার মান সাময়িকভাবে প্রভাবিত হতে পারে, কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে ডিজিটালাইজেশন ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করা হবে।

সরকার জানিয়েছে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট দেওয়া হবে। আরও তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মীদের অবহিত করা হবে এবং প্রয়োজনে নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হতে পারে। সব মিলিয়ে, কানাডার এই পদক্ষেপ একটি বড় অর্থনৈতিক কৌশলের অংশ, যা একদিকে ব্যয় কমাতে সাহায্য করবে, অন্যদিকে সরকারি কাঠামোকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যও বহন করছে।

সোহেলি আহমেদ সুইটি : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles