হাদি হত্যায় নাটকীয় মোড়, অনেকের ঘুম হারাম

হাদি হত্যায় নাটকীয় মোড়, অনেকের ঘুম হারাম - the Bengali Times
ওসমান হাদি

আলোচিত ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে নতুন মোড় তৈরি হয়েছে। হত্যার সন্দেহভাজন প্রধান শ্যুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন ভারতে গ্রেপ্তার হওয়ার খবরে দেশজুড়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, তারা ভারতের পশ্চিমবঙ্গে লুকিয়ে ছিলেন এবং সেখান থেকেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খবরটি প্রকাশের পর বাংলাদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কারণ এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই দেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দেয়।

- Advertisement -

গত ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পরপরই ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও প্রার্থী ওসমান হাদি আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন। তিনি ঢাকা–৮ আসনে বিএনপির হেভিওয়েট নেতা মির্জা আব্বাস–এর বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন। ঠিক সেই সময়েই ঘটে যায় এই হত্যাকাণ্ড।

হত্যার পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিভিন্ন মহলে অভিযোগ ওঠে, ঘটনার সঙ্গে ভারতের কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। এ সময় রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় টানা বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে সিঙ্গাপুর থেকে খবর আসে যে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন হাদি মারা গেছেন। এরপর দেশজুড়ে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে।

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার কাছে আগেই তথ্য ছিল যে শ্যুটার মাসুদ ও আলমগীর পশ্চিমবঙ্গে আত্মগোপনে রয়েছে। তবে তখনকার সরকার সেই তথ্য গুরুত্ব দেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রশিদ চৌধুরী ভারত সফর করেন এবং সেখানে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্স এন্ড এনালাইসিস উইং এর প্রধান পরাগ জৈন–এর সঙ্গে বৈঠক করেন।

এই বৈঠকের পর দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান–প্রদানের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকা থেকে ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানা যায়। বর্তমানে বাংলাদেশ–ভারত বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় তাদের বাংলাদেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে এবং বাংলাদেশ ইতিমধ্যে কনস্যুলার অ্যাক্সেস চেয়েছে।

এদিকে তদন্ত এগোতে থাকায় ঢাকায় অনেক প্রভাবশালী মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে আলোচনা চলছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে বৃহত্তর কোনো রাজনৈতিক পরিকল্পনা থাকতে পারে—যার উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনকে অনিশ্চিত করা এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা। তদন্তের মাধ্যমে এর পেছনে কারা জড়িত ছিল তা সামনে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles