
কানাডার অন্টারিও প্রদেশে কোভিড–১৯ মহামারির সময়কার অন্যতম আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ছিল টরন্টোর ইটোবিকোক এলাকায় অবস্থিত অ্যাডামসন বারবিকিউ রেস্তোরাঁকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক। দীর্ঘ সময় পর সেই ঘটনাকে ঘিরে আইনি লড়াই আবারও আদালতে ফিরছে। চলতি সপ্তাহে টরন্টোর ইউনিভার্সিটি অ্যাভিনিউ আদালতে এই মামলার শুনানি শুরু হতে যাচ্ছে, যা বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত চলবে বলে জানা গেছে।
২০২০ সালের নভেম্বর মাসে কানাডায় কোভিড–১৯ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর লকডাউন জারি করা হয়। সেই সময় অন্টারিও প্রদেশের সরকার রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। কিন্তু ইটোবিকোকের অ্যাডামসন বারবিকিউ রেস্তোরাঁর মালিক অ্যাডাম স্কেলি প্রকাশ্যে সেই নির্দেশ অমান্য করে রেস্তোরাঁ খোলা রাখেন এবং খাবার পরিবেশন অব্যাহত রাখেন।
স্কেলির এই পদক্ষেপ দ্রুতই সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে পরিণত হয়। অনেকেই একে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার পক্ষে প্রতিবাদ হিসেবে দেখলেও অন্যরা এটিকে জনস্বাস্থ্য বিধি লঙ্ঘনের গুরুতর উদাহরণ বলে আখ্যা দেন। ঘটনাটি পরবর্তীতে “বারবিকিউ বিদ্রোহ” নামে পরিচিতি পায়।
সরকারি নির্দেশনা অমান্য করার পর স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। রেস্তোরাঁটি বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং স্কেলির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর কিছুদিন পর তিনি হঠাৎ করে অন্টারিও ছেড়ে আলবার্টা প্রদেশে চলে যান। সেই সময় থেকেই তার আইনজীবীরা দাবি করে আসছেন যে, কোভিড লকডাউনের সময় সরকারগুলো তাদের ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে এবং নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করেছে।
এখন সেই বিতর্কই নতুন করে আদালতে উঠছে। স্কেলির প্রতিনিধিত্বকারী টরন্টোর আইনি প্রতিষ্ঠান পেরিস এলএলপি নিশ্চিত করেছে যে, এই সপ্তাহে মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
স্কেলির আইনজীবীরা টরন্টো সানের কাছে আদালতে জমা দেওয়া একটি নথির কপি সরবরাহ করেছেন। সেখানে চারটি পক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। অভিযুক্ত পক্ষগুলো হলো অন্টারিও প্রদেশের সরকার, সিটি অব টরন্টো, টরন্টো বোর্ড অব হেলথ এবং টরন্টো জনস্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক মেডিকেল অফিসার এইলিন ডি সিলভা।
নথিতে দাবি করা হয়েছে যে, স্কেলির ক্ষেত্রে কানাডার চার্টার অব রাইটস অ্যান্ড ফ্রিডমস–এর একাধিক ধারা লঙ্ঘন করা হয়েছে। বিশেষ করে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং জবরদস্তিমূলক আটক সংক্রান্ত অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। স্কেলির আইনজীবীদের মতে, মহামারির সময় আরোপিত কিছু বিধিনিষেধ ছিল অতিরিক্ত কঠোর এবং তা নাগরিকদের মৌলিক অধিকারকে সীমাবদ্ধ করেছে।
তবে বিষয়টি এখনো বিচারাধীন থাকায় স্কেলির প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবী পেরি এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। একইভাবে অন্টারিওর অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরের কাছেও প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আদালতের শুনানি শেষে বিচারক কী সিদ্ধান্ত দেন, তা নির্ধারণ করবে এই বিতর্কিত ঘটনার আইনি পরিণতি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলার রায় শুধু অ্যাডাম স্কেলির ব্যক্তিগত আইনি লড়াইয়ের ফলাফলই নির্ধারণ করবে না; বরং কোভিড মহামারির সময় সরকার আরোপিত বিধিনিষেধের বৈধতা ও নাগরিক স্বাধীনতার সীমা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। ফলে কানাডার আইনি ও রাজনৈতিক মহলে মামলাটি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

