
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির আসন্ন বেইজিং সফরের আগে দেশটির চীন নীতি নিয়ে কোনো ধরনের কূটনৈতিক বিতর্ক এড়াতে তাইওয়ান সফর বাতিল করেছেন দুইজন লিবারেল পার্টির সংসদ সদস্য (এমপি)। অন্টারিও থেকে নির্বাচিত লিবারেল এমপি হেলেনা জাজেক এবং ম্যারি-ফ্রান্স লালোন্দ সরকারের পরামর্শ অনুযায়ী তাইওয়ান সফর সংক্ষিপ্ত করে কানাডায় ফিরে এসেছেন।
এক যৌথ বিবৃতিতে জাজেক ও লালোন্দ জানান, এই সিদ্ধান্তের ফলে তাইওয়ান বিষয়ে কানাডার অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসবে না। তারা বলেন, “সফরের এই পর্যায়ে আমরা দেশে ফিরে আসছি। সরকারের কাছ থেকে পরামর্শ পাওয়ার পরই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কানাডার পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে যেন কোনো ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি না হয়, সেটিই আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
বিবৃতিতে তারা আরও উল্লেখ করেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে টেকসই ও বৈচিত্র্যপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণে প্রধানমন্ত্রী কার্নির যে উদ্যোগ, তার প্রতি তারা সম্পূর্ণ অঙ্গীকারাবদ্ধ। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাইওয়ান সফরের উদ্দেশ্য ছিল মূলত বাণিজ্য, সংস্কৃতি এবং মানুষে মানুষে সম্পর্ক জোরদার করা।
অন্যদিকে, লিবারেল এমপিদের এই সিদ্ধান্তের বিপরীতে কনজার্ভেটিভ পার্টির এমপিরা এখনো তাইওয়ান সফর চালিয়ে যাচ্ছেন। দলটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সফরটি সম্পন্ন করতে চান। কনজার্ভেটিভ পার্টির পক্ষ থেকে সফরকারী দলে রয়েছেন ডেপুটি লিডার মেলিসা ল্যান্টসম্যান, অ্যাডাম চেম্বার্স এবং শেলবি ক্র্যাম্প-নিউম্যান। তারাও সবাই অন্টারিও থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য।
এ বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। কনজার্ভেটিভ ফরেন অ্যাফেয়ার্স ক্রিটিক মাইকেল চং লিবারেল এমপিদের সফর বাতিলের সিদ্ধান্তকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “লিবারেল এমপিদের সফরকারী দল ত্যাগ করা বেইজিংয়ের কর্তৃত্ববাদের কাছে মাথা নত করা ছাড়া আর কিছুই নয়।”
চং আরও জানান, তার ককাসের কোনো সদস্যকে কানাডায় ফিরে আসতে বলা হয়নি। তার মতে, “কর্তৃত্ববাদী শাসনের সঙ্গে অস্বস্তি বা ঝামেলা এড়াতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দেশে ফিরে আসতে বলার মধ্যে একটি স্পষ্ট বার্তা রয়েছে এখানে নীতির চেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”
প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফরের প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কানাডার পররাষ্ট্রনীতি, বিশেষ করে চীন ও তাইওয়ান বিষয়ে সরকারের অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা, অন্যদিকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও রাজনৈতিক অবস্থান এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন কানাডার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

