
অন্টারিও প্রদেশেরও কুইবেকের পথ অনুসরণ করে সংঘবদ্ধ অপরাধী গোষ্ঠীর নাম ও লোগো প্রকাশ্যে ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত এমন মত দিয়েছেন একজন সংঘবদ্ধ অপরাধ বিশেষজ্ঞ। কুইবেক সরকার সম্প্রতি এ ধরনের একটি আইন প্রস্তাব উত্থাপন করায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
গত মাসে কুইবেকের জননিরাপত্তামন্ত্রী ইয়ান ল্যাফ্রেনিয়ের জননিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে একটি নতুন আইন উপস্থাপন করেন। ‘বিল ১৩’ নামে পরিচিত এই প্রস্তাবিত আইনের আওতায় অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে গঠিত সংগঠনগুলোর নাম ও প্রতীক প্রকাশ্যে প্রদর্শন নিষিদ্ধ করার বিধান রাখা হয়েছে। বিশেষ করে বেআইনি মোটরসাইকেল গ্যাংগুলোর সদস্যরা যদি তাদের ক্লাবের নাম বা লোগো সংবলিত ভেস্ট, জ্যাকেট বা প্যাচ জনসমক্ষে পরিধান করেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে এক হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করা হতে পারে।
বিল ১৩–তে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ যৌন অপরাধীদের একটি সরকারি তালিকা তৈরি এবং রাজনীতিকদের বাসভবনের আশপাশে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা। প্রস্তাবিত আইনে জননিরাপত্তামন্ত্রীকে অপরাধী গোষ্ঠীর একটি তালিকা প্রণয়নের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো গোষ্ঠীকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ না আসা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সংগঠনটি ওই তালিকায় বহাল থাকবে।
সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ে একাধিক বইয়ের লেখক ও তথ্যচিত্র নির্মাতা জেমস দুব্রো কুইবেক সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের আইন সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, অন্টারিও সরকারেরও কুইবেকের পদাঙ্ক অনুসরণ করা উচিত।
দুব্রো বলেন, “এটা সত্যিই দারুণ একটি পদক্ষেপ। এর মধ্যে নেতিবাচক কিছু নেই। বাইকার গ্যাংগুলো তাদের ক্লাবের লোগো সংবলিত ভেস্ট ও প্যাচ পরিধান করে প্রতিপক্ষ এবং সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করে। এই প্রদর্শন বন্ধ করা গেলে ভয়ভীতি কমবে এবং জননিরাপত্তা বাড়বে।”
তবে অন্টারিও সরকার একই ধরনের আইন প্রণয়নের কথা ভাবছে কিনা এ বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। বিষয়টি জানতে চাইলে অন্টারিও পুলিশের নেতৃত্বাধীন বাইকার এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের একজন মুখপাত্র মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, “আইন প্রয়োগ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশের দায়িত্ব।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘবদ্ধ অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর প্রতীক ও নাম প্রকাশ্যে ব্যবহারের মাধ্যমে যে ভয়ভীতি ও প্রভাব বিস্তার করা হয়, তা বন্ধ করতে এ ধরনের আইন কার্যকর হতে পারে। কুইবেকের বিল ১৩ পাস হলে এর প্রভাব অন্য প্রদেশগুলোতেও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

