
পরকীয়া করছিলেন এক নারী। তা জেনে যান তার স্বামী। এ জন্য প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে তিনি তার স্বামীকে হত্যা করেছেন। এখানেই শেষ নয়। স্বামীর মৃতদেহ কাঠ কাটার গ্রিন্ডার দিয়ে টুকরো টুকরো করেছেন। তারপর তা ফেলে দিয়েছেন নালায়। এ অভিযোগে ভারতের উত্তরপ্রদেশের সম্বল জেলায় এক নারী ও তার প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা পিটিআই। সম্বলের পুলিশ সুপার (এসপি) কে কে বিষণোই জানান, অভিযুক্তদের নাম রুবি ও গৌরব। তাদের ২০ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চাঁদৌসির মোহল্লা চুন্নির বাসিন্দা রুবি ১৮ নভেম্বর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, তার স্বামী রাহুল (৩৮) নিখোঁজ। এর কয়েক দিন পর ১৫ ডিসেম্বর ঈদগাহ এলাকার কাছে একটি নালা থেকে একটি বিকৃত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই মরদেহটির মাথা, হাত ও পা ছিল না।
এসপি বিষনোই বলেন, মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করা হয়। ফরেনসিক দল বিস্তারিত পরীক্ষা চালায় এবং ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তদন্তে পুলিশ দেখতে পায়, মৃতদেহের গায়ে ‘রাহুল’ নাম লেখা ছিল। আশপাশের থানাগুলোর নিখোঁজ ব্যক্তিদের রিপোর্ট পর্যালোচনা এবং প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে জানা যায়, রাহুলের মোবাইল ফোনটি ১৮ নভেম্বর থেকেই বন্ধ ছিল।
পরবর্তী তদন্তে পুলিশের সন্দেহ যায় রুবির দিকে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি স্বীকার করেন যে, স্বামী রাহুল তাদের অবৈধ সম্পর্ক ধরে ফেলায় তিনি প্রেমিক গৌরবের সহায়তায় তাকে হত্যা করেন। এসপি আরও বলেন, অভিযুক্তরা পুলিশকে জানিয়েছে, তারা লোহার রড ও লোহার খুন্তি দিয়ে রাহুলকে আঘাত করে ঘটনাস্থলেই হত্যা করে। এরপর একটি গ্রিন্ডার এনে দেহটি টুকরো টুকরো করে। তিনি জানান, দেহের একটি অংশ যে নালায় পাওয়া গেছে সেখানে ফেলে দেয়া হয়। বাকি অংশগুলো রাজঘাটে নিয়ে গঙ্গা নদীতে ফেলে দেয়া হয়। পুলিশ দেহ কাটতে ব্যবহৃত গ্রিন্ডার, লোহার হাতুড়ি ও হামলায় ব্যবহৃত অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে।
এসপি বলেন, মৃত ব্যক্তির ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং পরিচয় চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করতে ও মামলাকে শক্তিশালী করতে তার সন্তানদের ডিএনএর সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। এ ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (ভারতীয় দণ্ডবিধির নতুন সংস্করণ) সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

