
এক. কারী আব্দুল হামিদ দীর্ঘদিন গোয়ালন্দের ঐতিহ্যবাহী বড় মসজিদের ইমাম ছিলেন। আমাদের পরিবারের খুবই ঘনিষ্ঠজন। উনার হাত দিয়ে আমাদের বাড়ির কুরবানী সম্পন্ন হয়েছে অনেক বছর। শরীরটা একটু অসুস্থ মনে হলো। তিনি তার নিজস্ব জমির উপর একটা মাদ্রাসা করেছেন, ছেলে মেয়ে সেখানে পবিত্র কোরান পড়া শিখে। দুঃখ করে অনেক কথা বললেন। দুজন শিক্ষক আছেন যাদের বেতন দিতে পারেন না। একবার জেলা পরিষদ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা অনুদান বরাদ্দ হলেও হাতে পেয়েছিলেন মাত্র ২৮ হাজার টাকা। পুরনো জনপ্রতিনিধিরা নানান কথা বললেও তেমন সাহায্য সহযোগিতা করেন নি, একজন সাবেক মেয়র কয়েক ট্রাক মাটির ব্যবস্হা করে দিয়েছিলেন বলে কৃতজ্ঞতা জানালেন। যাহোক এসব দুঃখ কম বেশী আমাদের সবারই রয়েছে যা প্রকাশ করার সময় হয় নি এখনো। আমার দেখা ও জানামতে তিনি তাঁর পরিবার খুবই ভাল মানুষ। যদি কোন সহৃদয় ব্যক্তি বা পরিবার কোন মাদ্রাসায় দান করতে আগ্রহী হন তাহলে আমি এটার জন্যে সুপারিশ করবো। দোয়া করি তিনি সুস্হ্য হয়ে উঠুন এবং তাঁর মাদ্রাসা আরো সফলতা লাভ করুক। মাদ্রাসায় অনুদানের যাবতীয় তথ্য সম্বলিত ফ্লায়ার এখানে দেয়া হলো। অপর ছবিটিতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি কুশাহাটার পুরনো মানুষ, দাবী করলেন ৯৮ বছর বয়স, আইডি আছে। মাঝে মাঝেই আসেন তবে আজ বললাম উনার কাছ থেকে কুশাহাটার পুরনো ইতিহাস একদিন শুনবো এবং পোস্ট করবো। তবে তিনি মাশাআল্লাহ এখনো অনেক সুস্হ্য সবল আছেন বলে মনে হলো। উনার জন্যেও দোয়া রইলো।
দুই. ৪৫ বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম মিছিলেই যার সাথে পরিচয় সেই বন্ধু মাহফুজ গাজীপুরের কাপাসিয়ায় প্রায় ষাট বিঘা জমির উপর গড়ে তুলেছে পরিবেশ বান্ধব ও শ্রমিক বান্ধব ফ্যাক্টরি “সাফাত ব্যাটারি এন্ড লিড রিফাইনিং”। গত শুক্রবার ৫ই ডিসেম্বর সপরিবারে গিয়েছিলাম সেই ফ্যাক্টরি ভিজিট করতে। ফ্যাক্টরি নিয়ে পরের পর্বে লিখবো, আজ শুধু তার খামার নিয়ে পোস্ট করছি যেখানে বন্ধু মাহফুজ ও তার স্ত্রী আমাদের সেলিনা ভাবী অসাধারণভাবে শাক সবজি, আখ, ফলমুল এমনকি ধান ক্ষেতের সমাহার ঘটিয়েছে যা থেকে শুধু নিজেরা নয় ফ্যাক্টরিতে কর্মরত পাঁচ ছয়শত শ্রমিক ও ঢাকা কুমিল্লার আত্মীয় স্বজন ও বন্ধুদের মধ্যে বন্টন করা হয়। আমরা ফেরার সময় গাড়ি ভর্তি সুগন্ধি চাউল, আখ, লাউ, কলা, মূলাশাক ইত্যাদি দিয়ে বিদায় করলো। বন্ধু মাহফুজ ও আমি একসময় বাম রাজনীতি করতাম, সেই সুবাদে মাহফুজের এখনো শ্রমিকদের প্রতি যথেষ্ট টান লক্ষ্য করে মুগ্ধ হলাম। পরিশ্রম মানুষকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে তাঁর অন্যতম উদাহরণ মাহফুজ। আমাদেরকে অবশ্যই ভাবতে হবে আমরা সুবিধাবাদী রাজনীতির নামে অন্যের পেছনে শ্লোগান দিয়ে সামান্য কিছু নগদ প্রাপ্তির লোভে মুল্যবান এই ছোট্ট জীবন নষ্ট করে ফেলবো নাকি সততার সাথে পরিশ্রম করে আত্মসম্মানের সাথে নিজে বাঁচবো এবং অন্যকে বাঁচতে সাহায্য করবো।

তিন.আজ ১৭ই ডিসেম্বর আমার একমাত্র ছোট ভাই আবু হেনা সাইদুর রহমানের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০২৪ এর এই দিনে আমি গোয়ালন্দেই ছিলাম, সন্ধ্যায় একটা মিটিং এ থাকা অবস্থায় জানতে পারি ঢাকার একটা হাসপাতালে তার পরলোকগমনের কথা। তার মাত্র দুদিন আগে আমার চোখের সামনে দিয়ে বাসা থেকে হেঁটে চলে গেল, বললো, কক্সবাজারে যাবে, ডাক্তার বলেছে। পরেরদিনই সে হাসপাতালে ভর্তি হলো অথচ আমাকে একবার কথা বলার সুযোগও দিল না। যে কয়েকদিন বাড়িতে ছিল, পাশের রুমেই থাকতো, তেমন কথা হতো না বললেই চলে।
যাহোক আজ খুবই ছোট পরিসরে বাসায় একটু দোয়ার আয়োজন করা হয়েছিল। আবু হেনা একসময় বিএনপির উপজেলা কমিটির সভাপতি ছিল সেই হিসেবে অনেক শুভাকাংখি সমর্থক রয়েছে তার, সবাইকে নিয়ে আয়োজন করার মত লোকবল না থাকায় ও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে একেবারেই পারিবারিকভাবে ছোট পরিসরে দোয়ার আয়োজন করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন মাগুরার দারিয়াপুর পীর সাহেবের নাতি মিঠু ভাই। পাশাপাশি একটি মাদ্রাসার এতিমদের মধ্যে কিছু খাবার বন্টন করার ব্যবস্থা করে আবু হেনার পরিবার। সকলেই দোয়া করবেন যাতে মহান আল্লাহ তার সকল প্রকার গোণাহ ক্ষমা করে তাকে জান্নাত নসীব করেন।

