
অনেক সময় রান্নাঘরে না ঢুকেও আপনি দিব্যি বলে দিতে পারবেন কি রান্না হচ্ছে।
বাতাসের শ শ আওয়াজে চুলায় ভাজি হতে থাকবে পেঁয়াজের কলি। অদ্ভুত জিনিস; শুধু সামান্য তেল, লবন দিয়ে ভেজে ফেললেই জাদু। ভাত পাতে নিয়ে নলা শুরু করার প্রথম সারির আইটেম।
ছোটকালে সোয়েটার গায়ে, নাকে সর্দির বেলুন ফুলিয়ে নানির মাটির চুলার কয়লার ওপর রেখে দিতাম বেছে বেছে মোটাসোটা পেঁয়াজের কলিগুলো। সবুজ পতাকার গাড় রঙের কলি মিনিটখানেক রাখলেই পট পট আওয়াজে ফুটতো; শরীরে ফুটে উঠতো কালো ফোস্কা। হাল্কা করে ছিলে মুখে পুরলে সেদ্ধ, মিষ্টি স্বাদে, ধোঁয়ার সৌরভে মন ভরে উঠতো। কোনো কিছুর সাথেই তুলনাযোগ্য নয়। নেশা ধরে যেত; চুলায় ঢুকতো একটার পর আরেকটা..। এটাই বোধ হয় নিজের তৈরী প্রথম রান্না খাবার। বেশি খেলে চোখে ঝাঁঝ ঢুকে কান্না চলে আসতো; আনন্দের কান্না।
আর টমেটো দিয়ে কাঁচকী মাছ? বাসায় ঢোকার দুইশো গজ দূর থেকেই গন্ধ পাবেন সর্ষে তেলে সাঁতার কাটা শত শত, ঝাঁকে ঝাঁকে ধবধবে সাদা মাছের ব্যাকুল করা সৌরভ। আর কচি মুলার শাক ভাজি। পাতার সাথে পাওয়া যাবে কিছু শিশু মুলার অংশ। মাছগুলো কড়াই থেকে নেমেও সাঁতার কাটবে, আবার থালার ডালেও।

পুঁটি মাছ ভাজালেও একই কীর্তি।
কি তার বাসনা! কুড়মুড়ে লেজ, পাখনা, বুকের চিকন পর্শুকাগুলো দাঁতের তলায় নিমেষেই পিষে ফেলা যায়। মাথাটা কিঞ্চিৎ শক্ত থাকলেও ক্ষমার যোগ্য। চোখের ছোট্ট মনিগুলোও তেমন ঝামেলা করতে পারে না। আমি অর্ধেক করে দুইবারে পুঁটি খাই। প্রতি নলায় অর্ধেক, মসুরের ডাল দিয়ে।
সাথে অবশ্য খুব ঝাঁঝালো কাঁচামরিচ আর ধনেপাতা শীলপাটায় বাটা ভর্তা থাকবে। ধানের বীজতলার মতো উজ্বল সবুজ রঙ। সাদা ভাতে চলবে রঙের খেলা। যেন দিগন্তে ঐ দূরে সাদা মেঘ দূরের সবুজ ফসলের সাথে মিশে একাকার। ঝালে আবার আপনার চোখ দিয়ে বেরুবে সুখের জল।
ভোর হতেই মাইকে ভেসে আসবে বিজয় দিবসের দেশের গান, প্রকৃতির গান।
সোয়েটার গায়ে সোজা স্টেডিয়ামে!
স্কুল থেকে হাজারো ছেলে-মেয়েরা মার্চ করতে করতে এগুবে। প্রতিটি বাচ্চার চোখে মুখে ফুটে থাকবে দেশ গড়ার স্বপ্ন মেশানো অঙ্গীকার।
বিজয়ের আনন্দ আকাশে বাতাসে।
সবাই হাঁটবে ড্রামের ছন্দে, হাঁটবে তামাম বাংলাদেশের মানুষ। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। যেন কোনো অমঙ্গলই আমাদের রুখতে পারবে না!
আজীবন!
অটোয়া, কানাডা

