
কানাডায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ব্রেডের মূল্য কারসাজি সংক্রান্ত ক্লাস-অ্যাকশন মামলায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার শেষ সুযোগের কথা জানানো হয়েছে। লবল কোম্পানিজ লিমিটেড এবং তাদের মূল কোম্পানি জর্জ ওয়েস্টন লিমিটেডের বিরুদ্ধে করা ৫০ কোটি ডলারের এই মামলার আওতায় ক্ষতিপূরণ পেতে আগ্রহী কানাডিয়ানদের অনলাইনে আবেদন করার জন্য শুক্রবার পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।
মামলার বন্দোবস্ত অনুযায়ী, ২০০১ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যারা লবল থেকে প্যাকেটজাত ব্রেড কিনেছেন এবং ২০১৮ সালে শুরু হওয়া কোম্পানির গিফট কার্ড কর্মসূচির আওতায় কোনো গিফট কার্ড গ্রহণ করেননি, তারা ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ক্ষতিপূরণ দাবি করতে ক্রয়ের কোনো রসিদ বা প্রমাণপত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই—বন্দোবস্তের জন্য খোলা অনলাইন পেজে এমনটাই জানানো হয়েছে।
যারা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন না, তারাও পুরোপুরি বঞ্চিত হবেন না। তবে সেক্ষেত্রে তাদের ৬ থেকে ১২ মাস অপেক্ষা করতে হবে এবং তারা সর্বোচ্চ ২৫ ডলার করে ক্ষতিপূরণ পাবেন।
কানাডার অন্টারিও সুপ্রিম কোর্ট চলতি বছরের মে মাসে এই ৫০ কোটি ডলারের বন্দোবস্ত অনুমোদন করে। বন্দোবস্তের শর্ত অনুযায়ী, লবল কোম্পানিজ লিমিটেড এবং জর্জ ওয়েস্টন লিমিটেড যৌথভাবে মোট ৪০ কোটি ৪০ লাখ ডলার পরিশোধ করবে। বাকি ৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার ধরা হয়েছে ২০১৮ সালে লবল যে গিফট কার্ড কর্মসূচি চালু করেছিল, তার মাধ্যমে দেওয়া ক্ষতিপূরণ হিসেবে। ওই কর্মসূচি ২০১৯ সাল পর্যন্ত চালু ছিল।
আইনি ফি ও আদালত-সংক্রান্ত অন্যান্য ব্যয় পরিশোধের পর অবশিষ্ট তহবিলের প্রায় ৭৮ শতাংশ অন্টারিও প্রদেশের ভোক্তাদের জন্য বরাদ্দ করা হবে। বাকি অর্থ পাবে কুইবেক প্রদেশের বাসিন্দারা। এরপরও যদি কোনো অর্থ অবশিষ্ট থাকে, তাহলে তা আগেই গিফট কার্ড দাবি করা ক্রেতাদের মধ্যে পুনরায় বণ্টন করা হবে।
এই বন্দোবস্তের মধ্য দিয়ে কানাডার গ্রোসারি খাতে বহুল আলোচিত একটি অধ্যায়ের কার্যত অবসান ঘটছে। এই অধ্যায়ে লবল ও জর্জ ওয়েস্টনের পাশাপাশি মেট্রো, সবিস, ওয়ালমার্ট কানাডা, কানাডা ব্রেড এবং জায়ান্ট টাইগারের মতো দেশের বড় বড় গ্রোসারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্রেডের দাম কারসাজির অভিযোগ আনা হয়েছিল।
স্ট্রসবার্গ উইংফিল্ড সাসো এলএলপি নামের একটি আইন সংস্থা ২০২১ সালের ডিসেম্বরে এই ক্লাস-অ্যাকশন মামলা দায়ের করে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর গত বছর সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ৫০ কোটি ডলারের বন্দোবস্তে পৌঁছাতে সক্ষম হয়, যা এখন আদালতের অনুমোদনের মাধ্যমে চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে।
ভোক্তা অধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বন্দোবস্ত শুধু ক্ষতিপূরণের প্রশ্নেই নয়, বরং ভবিষ্যতে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে।

