তাই পো ডিস্ট্রিক্টের আগুনে নিহতদের স্মরণ করলেন জিটিএর বাসিন্দারা

তাই পো ডিস্ট্রিক্টের আগুনে নিহতদের স্মরণ করলেন জিটিএর বাসিন্দারা - the Bengali Times
গত ২৬ নভেম্বর হংকংয়ের তাই পো ডিস্ট্রিক্টের ওয়াং ফুক কোর্ট হাউজিং কমপ্লেক্সে এই ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত হয়

হংকংয়ের তাই পো ডিস্ট্রিক্টের ওয়াং ফুক কোর্ট সরকারি আবাসন কমপ্লেক্সে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের স্মরণে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে কানাডার গ্রেটার টরন্টো এরিয়ায় কয়েক শ মানুষ জড়ো হন। শনিবার বিকেলে আয়োজিত এই স্মরণসভায় অংশগ্রহণকারীরা নিহতদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশের পাশাপাশি বেঁচে যাওয়া মানুষ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সহায়তা প্রদর্শন করেন এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানান।

গত ২৬ নভেম্বর হংকংয়ের তাই পো ডিস্ট্রিক্টের ওয়াং ফুক কোর্ট হাউজিং কমপ্লেক্সে এই ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় অন্তত ১৫৯ জনের প্রাণহানি ঘটে এবং ৭৯ জন গুরুতর আহত হন। এছাড়া চার হাজারেরও বেশি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি হারিয়ে স্থানচ্যুত হয়েছেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখনো কয়েক ডজন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। নিহতদের বয়স ছিল মাত্র এক বছর থেকে শুরু করে ৯৭ বছর পর্যন্ত, যা এই দুর্ঘটনার ভয়াবহতা আরও গভীরভাবে তুলে ধরে। অগ্নিকাণ্ডে কমপ্লেক্সটির আটটি ভবন সম্পূর্ণভাবে ভস্মিভূত হয়ে যায়।

- Advertisement -

ঘটনার পর প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে জানা যায়, ভবনগুলো সংস্কারের কাজে ব্যবহৃত কনস্ট্রাকশন স্ক্যাফোল্ডিং নেট ও ফোম ছিল অত্যন্ত দাহ্য। অভিযোগ রয়েছে, এসব উপকরণ প্রয়োজনীয় সেফটি স্ট্যান্ডার্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হয়। ফলে আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। একই সঙ্গে কমপ্লেক্সে থাকা অগ্নি সতর্কতা অ্যালার্ম, হোজ এবং অন্যান্য অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম কার্যকরভাবে কাজ করেনি বলেও বিভিন্ন খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য দুর্নীতি ও অবহেলার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আলাদাভাবে একটি তদন্তও চলমান রয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে শনিবার বিকেলে কানাডা-হংকং লিঙ্ক, সিটি স্টেট লিগ্যাসি এবং টরন্টো হংকং প্যারেন্ট গ্রুপ যৌথভাবে নর্থ ইয়র্কের একটি মেমোরিয়াল কমিউনিটি হলে স্মরণসভার আয়োজন করে। স্মরণসভায় অংশগ্রহণকারীরা নিহতদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সহানুভূতি ও সহমর্মিতার বার্তা লিখে রাখেন। একই সঙ্গে তারা একটি পিটিশনে স্বাক্ষর করেন, যেখানে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ, স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানানো হয়।

আয়োজকরা বলেন, এই স্মরণসভা কেবল শোক প্রকাশের জন্য নয়, বরং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চাপ সৃষ্টি হলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ন্যায়বিচার পাবে এবং ভবিষ্যতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles