সান্তাবিরোধী পোস্টার অপসারণ

সান্তাবিরোধী পোস্টার অপসারণ - the Bengali Times
সান্তা ক্লজ প্যারেড উপভোগ করতে পরিবার ও শিশুদের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছিল টরন্টোর পশ্চিমাঞ্চলের শহর ব্র্যান্টফোর্ড

সান্তা ক্লজ প্যারেড উপভোগ করতে পরিবার ও শিশুদের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছিল টরন্টোর পশ্চিমাঞ্চলের শহর ব্র্যান্টফোর্ড। প্রায় ৫০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই বার্ষিক প্যারেডে এ বছর অংশ নেন প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। কিন্তু উৎসবের আনন্দের মাঝেই একটি বিতর্কিত সাইন ঘিরে তৈরি হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া, যার জেরে পুলিশের হস্তক্ষেপে সেটি দ্রুত অপসারণ করা হয়।

ডালহৌসি স্ট্রিট দিয়ে প্যারেড চলাকালে ক্রিসমাসের গান আর রঙিন সাজে মেতে ওঠে চারপাশ। ঠিক সেই সময় এক বাড়ির জানালায় লাগানো একটি রঙিন পোস্টার অনেক বাবা-মায়ের চোখে পড়ে এবং মুহূর্তেই ক্ষোভের সৃষ্টি করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, ওই পোস্টারে লেখা ছিল “সান্তা ভুয়া। তোমার বাবা-মাই সান্তা। সান্তা বাস্তব নয়। তোমার পরিবারই তোমার জন্য উপহার কেনে।”

- Advertisement -

অনেক অভিভাবকের অভিযোগ, এ ধরনের বার্তা শিশুদের আবেগ ও কল্পনার জগতে আঘাত হানতে পারে, বিশেষ করে এমন একটি অনুষ্ঠানে যেখানে মূল আকর্ষণই সান্তা ক্লজকে ঘিরে। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত ব্র্যান্টফোর্ড পুলিশের কাছে অভিযোগ পৌঁছায়।

ব্র্যান্টফোর্ড পুলিশ সার্ভিস জানায়, তারা ঠিক কতটি অভিযোগ পেয়েছে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি। তবে পুলিশের এক কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট বাড়ির দায়িত্বশীল ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন। আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত ওই সাইনগুলো নামিয়ে ফেলা হয়।

এ বিষয়ে ব্র্যান্টফোর্ড পুলিশ সার্ভিসের কর্পোরেট কমিউনিকেশন ম্যানেজার রবিন ম্যাথিউস-অসমন্ড বলেন, “আমরা সবাইকে মৌসুমের চেতনা ধারণ করতে উৎসাহিত করছি। বিশেষ করে সান্তা ক্লজ প্যারেডের মতো পারিবারিক ও শিশু-কেন্দ্রিক আয়োজনে সবাই যেন ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখে, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।”

এ ধরনের ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগেও অন্টারিওর কিংস্টনে একটি সান্তা ক্লজ প্যারেড চলাকালে এক ব্যক্তি শিশুদের উদ্দেশে ক্রিস ক্রিঙ্গেলের কোনো অস্তিত্ব নেই বলে মন্তব্য করেছিলেন। ২০১২ সালে ঘটে যাওয়া সেই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। সিটিভি নিউজ টরন্টোকে দেওয়া তথ্যে কিংস্টন পুলিশের একজন মুখপাত্র জানান, পরবর্তীতে ওই ব্যক্তি ঝামেলা তৈরির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।

এই সাম্প্রতিক ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে উৎসবের সময় ব্যক্তিগত মত প্রকাশের সীমা কোথায় হওয়া উচিত, বিশেষ করে যখন তা শিশুদের মানসিক আনন্দ ও সামাজিক অনুভূতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে। অনেকেই মনে করছেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকা সত্ত্বেও এমন আয়োজনে সংবেদনশীলতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বজায় রাখা জরুরি।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles