স্কুলগামী শিশুদের নিয়ে বিপাকে জিটিএর বাবা-মায়েরা

স্কুলগামী শিশুদের নিয়ে বিপাকে জিটিএর বাবা-মায়েরা - the Bengali Times
স্কুলপূর্ব ও স্কুলপরবর্তী সেবা প্রদানকারী একাধিক সংগঠন স্কুল বোর্ড এবং সিটি পরিচালিত বিভিন্ন কর্মসূচি জানিয়েছে বর্তমানে তাদের অপেক্ষমাণ তালিকায় কয়েকশ শিশু রয়েছে

গ্রেটার টরন্টো এরিয়া (জিটিএ)-তে ধীরে ধীরে আরও বেশি কর্মী পূর্ণকালীনভাবে অফিসে ফিরতে শুরু করায় নতুন করে সংকটে পড়েছেন বহু কর্মজীবী বাবা-মা। বিশেষ করে যেসব পরিবারে স্কুলপড়ুয়া শিশু রয়েছে, তাদের জন্য স্কুলপূর্ব ও স্কুলপরবর্তী সময়ের লাইসেন্সপ্রাপ্ত চাইল্ড কেয়ার সেবা পাওয়া দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।

স্কুলপূর্ব ও স্কুলপরবর্তী সেবা প্রদানকারী একাধিক সংগঠন, স্কুল বোর্ড এবং সিটি পরিচালিত বিভিন্ন কর্মসূচি জানিয়েছে, বর্তমানে তাদের অপেক্ষমাণ তালিকায় কয়েকশ শিশু রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সেবার চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, কিন্তু সে তুলনায় নতুন আসন বা সুযোগ বাড়েনি।

- Advertisement -

এই দীর্ঘ অপেক্ষমাণ তালিকা বাবা-মায়েদের সামনে কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরছে। অনেক ক্ষেত্রেই তাদেরকে চাকরি চালিয়ে যাওয়া আর সন্তানদের নিরাপদ দেখাশোনার মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অন্টারিও কোয়ালিশন ফর বেটার চাইল্ড কেয়ারের পাবলিক পলিসি বিষয়ক সমন্বয়ক ক্যারোলিন ফার্নস বৃহস্পতিবার সিটিভি নিউজ টরন্টোকে এ কথা জানান।

ফার্নস বলেন, “এটা পরিবারগুলোর জন্য ভীষণ কঠিন সময়। শিশুদের জন্য নির্ভরযোগ্য জায়গা খুঁজে পেতে বাবা-মায়েরা প্রচণ্ড চাপের মধ্যে রয়েছেন। অনেকেই একাধিক চাইল্ড কেয়ার সেন্টারে যোগাযোগ করছেন, বিভিন্ন বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবছেন সবকিছু সামলানোর চেষ্টা করছেন।”

তিনি আরও বলেন, সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে তারা যা শুনছেন, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। “প্রায় সব সেন্টারের অপেক্ষমাণ তালিকা খুবই দীর্ঘ। কিছু ক্ষেত্রে পরিবারগুলো স্কুলপূর্ব কিংবা স্কুলপরবর্তী সময়ে সন্তানদের রাখার মতো কোনো জায়গাই খুঁজে পাচ্ছেন না,” যোগ করেন তিনি।

এই সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা, কারণ ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে অন্টারিও পাবলিক সার্ভিসের প্রায় ৬০ হাজার কর্মীকে পূর্ণকালীনভাবে অফিসে ফিরে কাজ করতে হবে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি বড় ব্যাংক তাদের কর্মীদের সপ্তাহে অন্তত চার দিন অফিসে এসে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। ফলে কর্মস্থলে উপস্থিতির চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাইল্ড কেয়ারের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে ফার্নস বলেন, “আমার নিজেরও স্কুলপড়ুয়া একটি সন্তান আছে। আমি স্কুলপূর্ব সময়ে স্কুল প্রাঙ্গণে অনেক শিশুকে দেখি, যাদের ক্লাস শুরু হওয়ার অনেক আগেই সেখানে রেখে যাওয়া হচ্ছে। শীতের তীব্রতা বাড়ার সময় এটা আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। আমাদের শিশুদের জন্য এমন পরিস্থিতি আমরা কেউই চাই না।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মজীবী পরিবারগুলোর বাস্তবতা ও শিশুদের নিরাপত্তা এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে হলে সরকার, স্কুল বোর্ড এবং চাইল্ড কেয়ার সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। নইলে অফিসে ফেরার নীতির চাপের সঙ্গে চাইল্ড কেয়ার সংকট মিলিয়ে বহু পরিবার আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

This article was written by Sohely Ahmed Sweety as part of the LJI.

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles