স্কটিশ নারীর নাটকীয় প্রতারণা: গর্ভবতী সেজে জন্ম দিলেন পুতুলের!

স্কটিশ নারীর নাটকীয় প্রতারণা: গর্ভবতী সেজে জন্ম দিলেন পুতুলের! - the Bengali Times
কিরা কাজিনস গর্ভবতী হওয়ার অভিনয় করে জন্ম দিয়েছেন প্লাস্টিকের পুতুল

স্কটল্যান্ডের এয়ারড্রি শহরের ২২ বছর বয়সী এক তরুণী। তার নাম কিরা কাজিনস। সম্প্রতি এক অভিনব প্রতারণার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে গর্ভবতী হওয়ার অভিনয় করেন, প্লাস্টিকের পুতুলকে নিজের নবজাতক সন্তান হিসেবে পরিচয় দেন এবং পরবর্তীতে জানান- শিশুটি মারা গেছে।

জানা গেছে, কিরা এক কৃত্রিম বেবি বাম্প (গর্ভের বাহ্যিক আকৃতি) ব্যবহার করে দীর্ঘ সময় ধরে নিজেকে অন্তঃসত্ত্বা হিসেবে উপস্থাপন করেন। তিনি নকল আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যান রিপোর্ট শেয়ার করেন, ভুয়া হাসপাতালে যাতায়াতের তথ্য দেন এবং এমনকি একটি ‘জেন্ডার রিভিল’ পার্টিও আয়োজন করেন।

- Advertisement -

পরিবার এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা পুরো সময়টিতে তার কথায় বিশ্বাস রেখেছিল। তার মা, একদিন হঠাৎ কিরার ঘরে ঢুকে পড়েন এবং সে সেখানে দেখতে পান একটি প্লাস্টিকের পুতুল রাখা। যার নাম রাখা হয়েছিল ‘বনি-লে জয়েস’। সেখান থেকেই ফাঁস হয়ে যায় পুরো ঘটনাটি।

পরিবার তখনই বুঝতে পারে তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। কিরার জন্য কেনা হয়েছিল দামি উপহার, শিশুর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল নানা আয়োজন। সবাই ভেবেছিল সত্যিই একটি শিশু আসছে।

পরবর্তীতে কিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার স্বীকারোক্তিমূলক বিবৃতি দেন। টিকটকে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় কিরা বলেন, ‘এই ঘটনা শুরু হওয়ার পর কীভাবে থামাতে হবে তা তিনি জানতেন না। ঘটনাটি অনেক বড় হয়ে গিয়েছিল। আমি এক সময় নিজেই হারিয়ে গিয়েছিলাম।’

তিনি আরও জানান, ‘একদিন আমার মা ঘরে ঢুকে দেখে ফেলেন যে এটা আসলে একটা পুতুল। তখন সব কিছু ধরা পড়ে যায়। কেউ জানত না এটা ভুয়া ছিল। আমার পরিবার, শিশুর পিতা কেউ আমার করা এই মিথ্যা নাটক ধরতে পারে নি।’

ঘটনার পর থেকে কিরার বন্ধু এবং পরিচিতরা চরম ধাক্কা খেয়েছেন। কিরার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু, নিভ ম্যাকরবার্ট জানান, ‘তিনি প্রথম সন্দেহ করেন যখন ‘শিশুটির’ কান্না কখনো শোনা যায়নি এবং কিরা কাউকে শিশুটিকে ধরতে দিতেন না।’

ম্যাকরবার্ট আরও জানান, ‘কিরা আমাকে টেক্সট করে জানায়, ‘বনি-লে মারা গেছে’। আমি স্তব্ধ হয়ে যাই। আমরা সবাই এতদিন ধরে ওকে বিশ্বাস করছিলাম। এমনকি সে বলেছিল, শিশুর হৃদয়ে ছিদ্র রয়েছে।’

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিরার মানসিক অবস্থার বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই মনে করছেন, তাকে দ্রুত মানসিক চিকিৎসা দেওয়া জরুরি।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles