দক্ষিণ অন্টারিওতে বাড়ি নির্মাণের গতি কমেছে

দক্ষিণ অন্টারিওতে বাড়ি নির্মাণের গতি কমেছে - the Bengali Times
গ্রেটার টরন্টো এরিয়া জিটিএ এবং গ্রেটার গোল্ডেন হর্সশু জিজিএইচ অঞ্চলে নতুন আবাসিক নির্মাণ কাজ উদ্বেগজনকভাবে কমে গেছে ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে

গ্রেটার টরন্টো এরিয়া (জিটিএ) এবং গ্রেটার গোল্ডেন হর্সশু (জিজিএইচ) অঞ্চলে নতুন আবাসিক নির্মাণ কাজ উদ্বেগজনকভাবে কমে গেছে ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে। সাম্প্রতিক বছরের তুলনায় এই ধস স্পষ্টভাবে বোঝাচ্ছে, আবাসন বাজারে চাপ আরও বাড়ছে। রেসিডেন্সিয়াল কনস্ট্রাকশন কাউন্সিল অব অন্টারিও (রেসকন) প্রকাশিত নতুন উপাত্তে এই চিত্র উঠে এসেছে।

ইউনিভার্সিটি অব অটোয়ার মিসিং মিডল ইনিশিয়েটিভ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অঞ্চলটির ৩৪টি মিউনিসিপালিটিতে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর এই তিন প্রান্তিকে নতুন বাড়ি নির্মাণ শুরু হয়েছে গত ২০২১ ও ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ কম।

- Advertisement -

সবচেয়ে বড় ধস দেখা গেছে কন্ডোমিনিয়াম নির্মাণে। যেমন – কন্ডো নির্মাণ শুরু কমেছে ৫১%, গ্রাউন্ড-ওরিয়েন্টেড বাড়ি নির্মাণ কমেছে ৪৩%, বিপরীতে, পারপাস-বিল্ট রেন্টাল নির্মাণ বেড়েছে ৪২%। এই বিপরীতধর্মী প্রবণতা দেখাচ্ছে যে উন্নয়নকারীরা বিক্রির অনিশ্চয়তার কারণে কন্ডো প্রকল্প পিছিয়ে দিচ্ছেন, তবে ভাড়ার চাহিদা বাড়ায় রেন্টাল অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ তুলনামূলক সক্রিয়।

রেসকন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড লায়াল বলেন, বর্তমান উপাত্ত শিল্পের গভীর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। “উপাত্ত বলছে, আবাসিক ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে আমরা তলানিতে অবস্থান করছি। প্রতিবেদনে উঠে আসা পরিসংখ্যান উদ্বেগজনক, তবে এটি আমাদের ডেভেলপার ও নির্মাণ শিল্প কোন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তার বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে।” চাহিদা বৃদ্ধি, নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যাওয়া, উচ্চ সুদের হার এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া ধীরগতির কারণে প্রকল্প শুরুতে বিলম্ব হচ্ছে বলেই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

ঠিক এমন সময়েই এই উদ্বেগজনক খবর সামনে এল যখন ফেডারেল সরকার আবাসন সংকট মোকাবিলায় বড় অংকের বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। গত মাসের বাজেটে আগামী পাঁচ বছরে আবাসন প্রকল্পে ২.৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের অঙ্গীকার করা হয়েছে।

বাজেটে উল্লেখ করা হয়, কানাডা মর্টগেজ অ্যান্ড হাউজিং কর্পোরেশন-এর হিসাব অনুযায়ী ২০১৯ সালের মতো ক্রয়ক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে হলে আগামী দশকে প্রতি বছর ৪ লাখ ৩০ হাজার থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার নতুন বাড়ি নির্মাণ করতে হবে।

কিন্তু বাস্তবতা বলছে জিটিএ ও জিজিএইচ-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ আবাসন বাজারে নির্মাণ শুরুর বর্তমান মন্দা সেই লক্ষ্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।

শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, কন্ডো বাজারে ক্রেতার সক্ষমতা কমে যাওয়া ও সুদের হার দীর্ঘদিন উচ্চ থাকার কারণে ডেভেলপাররা ঝুঁকি নিতে অনীহা প্রকাশ করছেন। নতুন প্রকল্প অনুমোদন ও ফাইন্যান্সিং দুটিই কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে ভাড়ার ঘাটতি তীব্র হওয়ায় ডেভেলপাররা ভাড়া-ভিত্তিক প্রকল্পে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

ফলে সামগ্রিকভাবে আবাসন বাজারে সরবরাহ কমে যাচ্ছে, যার প্রভাব আগামী কয়েক বছরে আরও গভীর হতে পারে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles