
কানাডায় কর ফাঁকি শনাক্ত ও দমন করতে তথ্যদাতা–নির্ভর গোপন টিপলাইনের কার্যকারিতা আরও একবার প্রমাণিত হয়েছে। কানাডা রেভিনিউ এজেন্সি (সিআরএ) ২০১৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৪৯ কোটি ডলারেরও বেশি অনাদায়ী কর ও জরিমানা আদায় করেছে যার পেছনে ছিল সাধারণ নাগরিকদের দেওয়া গোপন তথ্য। ব্ল্যাকলক’স রিপোর্টারের প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সিআরএর ইন-হাউজ গবেষণা বলছে, বেশিরভাগ কানাডিয়ান কর–সংক্রান্ত তথ্যদাতা হতে আগ্রহী নন। অনেকেই মনে করেন, ব্যক্তিগত কর পরিকল্পনা বা আর্থিক সিদ্ধান্তকে অন্যের বিষয়ে নাক গলানো হিসেবে দেখা হতে পারে। তবুও, যারা তথ্য দিয়েছেন, তাদের দেওয়া খবর সিআরএর কাছে আন্তর্জাতিক কর ফাঁকি শনাক্তের একটি বড় অস্ত্র হয়ে উঠেছে।
হাউস অব কমন্সে উপস্থাপিত ইনকোয়ারি মিনিস্ট্রির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিআরএর অফশোর ট্যাক্স ইনফরম্যান্ট প্রোগ্রাম প্রতিবছর গড়ে ১০৯টি গোপন তথ্য পায়। এই তথ্যের সূত্র ধরেই ২০১৮ সাল থেকে প্রায় ৯৫০ জন করদাতাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে যাদের বিরুদ্ধে ফেডারেল কর ফাঁকির অভিযোগ ওঠে। প্রতিবেদনটি কনজার্ভেটিভ এমপি এরিক লেফব্রের অনুরোধে প্রকাশ করা হয়।
টিপলাইন প্রোগ্রামের আওতায় উদ্ধার হওয়া করের ৫ থেকে ১৫ শতাংশ তথ্যদাতাকে পুরস্কার হিসেবে দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে সিআরএ এখনো পর্যন্ত ঠিক কত অর্থ তথ্যদাতাদের দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ করেনি। সিআরএর ভাষ্যমতে, পুরো কর আদায় প্রক্রিয়া এবং সম্ভাব্য আপিল নিষ্পত্তি হওয়ার পরেই কেবল তথ্যদাতাকে পুরস্কার প্রদান করা যায় যা কখনো কখনো কয়েক বছর সময় নেয়।
কানাডার মন্ত্রিপরিষদ ২০১৪ সালে টিপলাইনটি চালু করেছিল, মূলত বিদেশে সম্পদ লুকিয়ে কর ফাঁকি দেওয়া নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের ধরতে। সময়ের সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক কর ফাঁকিবিরোধী লড়াইয়ে সিআরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ টুলে পরিণত হয়েছে।
গোপন তথ্য দেওয়ার বিষয়ে জনগণের অনীহা থাকা সত্ত্বেও, কানাডায় কর ফাঁকি প্রতিরোধে টিপলাইনের অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই। তথ্যদাতাদের সহায়তায় উদ্ধার হওয়া ৪৯ কোটি ডলার শুধু রাজস্ব বাড়ায়নি, বরং আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকারের সক্রিয়তারও প্রমাণ দিয়েছে।

