
কানাডার ফেডারেল কর্মীদের সপ্তাহে পাঁচ দিন অফিসে ফেরার সম্ভাব্য আদেশ নিয়ে সরকারি মহলে জোর গুঞ্জন চলছে। যদিও দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো পরিকল্পনার কথা জানেন না বলে দাবি করেছেন, তবু কর্মী ইউনিয়নগুলো বিষয়টি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
শুক্রবার কানাডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব প্রফেশনাল এমপ্লয়িজ ট্রেজারি বোর্ডের প্রেসিডেন্ট শাফকাত আলি-র কাছে একটি চিঠি পাঠায়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয় ফেডারেল সরকার নাকি খুব শিগগিরই কর্মীদের সপ্তাহে পাঁচ দিন অফিসে উপস্থিতির নির্দেশনা দিতে পারে। এই গুজবের সত্যতা সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছেন তারা।
এর পরদিন এক সাক্ষাৎকারে কানাডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব প্রফেশনাল এমপ্লয়িজ-এর প্রেসিডেন্ট নাথান প্রাইয়ের জানান, ট্রেজারি বোর্ডের ভেতরকার বহু সূত্র থেকে তিনি এমন ফিসফাস শুনছেন। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিফিকেশন পাননি। প্রাইয়ের স্মরণ করিয়ে দেন যে, কর্মীদের সপ্তাহে তিন দিন অফিসে আসার বর্তমান নিয়ম চালু করার সময়ও সরকার মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে কর্মীদের জানায়। তার ভাষায়, “টেলিওয়ার্কসহ নমনীয় কর্মব্যবস্থাকে বারবার সফল মনে করা হয়েছে। এই ব্যাবস্থা থেকে হঠাৎ সরে আসা হলে তা উৎপাদনশীলতা, কর্মীদের মনোবল এবং দক্ষ কর্মী আকৃষ্ট ও ধরে রাখার ক্ষেত্রে সুস্পষ্টভাবে পিছিয়ে যাওয়া হবে।”
এদিকে পাবলিক সার্ভিস অ্যালায়েন্স অফ কানাডার জাতীয় প্রেসিডেন্ট শ্যারন ডিসোসা বলেন, ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া একটি পাওয়ারপয়েন্ট স্লাইড তিনি দেখেছেন যেখানে নাকি ফেডারেল কর্মীদের পূর্ণসময়ের অফিসে ফেরানোর সম্ভাব্য কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। তবে স্লাইডটির সত্যতা সম্পর্কে সরকার কোনো নিশ্চয়তা দেয়নি।
গুজব নিয়ে অটোয়া সিটিজেন সংবাদমাধ্যম প্রশ্ন করলে মন্ত্রী শাফকাত আলির মুখপাত্র মোহাম্মদ কামাল সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। বরং তিনি সরকারি কর্মীদের “নিষ্ঠা, পরিশ্রম এবং বিদ্যমান টেলিওয়ার্ক নির্দেশিকা মেনে চলার জন্য ধন্যবাদ” জানান। এতে জল্পনা আরও বাড়লেও, সরকার নিশ্চিত না করায় পুরো বিষয়টি এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যেই ঝুলে আছে।
ফেডারেল কর্মক্ষেত্রে টেলিওয়ার্ক নীতি কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে ব্যাপকভাবে প্রচলিত হয় এবং অনেক কর্মীই এটিকে কাজ–জীবন সমন্বয়ের জন্য অপরিহার্য বলে মনে করেন। সম্ভাব্য নীতিপরিবর্তন নিয়ে সরকারি বিভাগগুলোতে অস্বস্তি বাড়ছে এবং ইউনিয়নগুলো স্পষ্ট নির্দেশনার জন্য সরকারের দিকে তাকিয়ে রয়েছে।

