
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনর্বহাল করা উচ্চ শুল্ক নীতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে কানাডার অন্টারিও প্রদেশের সল্ট সেন্ট মেরিতে অবস্থিত অ্যালগোমা স্টিলে। যুক্তরাষ্ট্রে ইস্পাত রফতানির ওপর আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্কের কারণে মারাত্মক আর্থিক চাপের মুখে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় এক হাজার কর্মীকে ছাঁটাইয়ের নোটিশ দিতে বাধ্য হয়েছে। সোমবার কোম্পানি এই নোটিশ জারি করে।
অ্যালগোমা স্টিল অন্টারিওর অন্যতম বৃহৎ ইস্পাত উৎপাদনকারী। কোম্পানিটিতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন প্রায় ২,৭০০ জন। দীর্ঘদিন ধরে উত্তর আমেরিকার বাজারে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে, তাদের ইস্পাত পণ্যের চাহিদা ছিল স্থিতিশীল। কিন্তু মার্কিন শুল্কনীতি হঠাৎ করেই সেই বাজার কাঠামোকে অস্থির করে তুলেছে।
অ্যালগোমার মোট উৎপাদিত ইস্পাতের বড় অংশই যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি করা হয়। ফলে শুল্ক আরোপের পর সেখানকার বাজারে প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে সীমিত হয়ে যায়। কোম্পানির মুখপাত্র লরা ডেভোনি এক বিবৃতিতে জানান “উত্তর আমেরিকার ইস্পাত বাজার গভীরভাবে সংযুক্ত। যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত উচ্চ শুল্ক পুরো প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশকেই বদলে দিয়েছে এবং আমাদের মার্কিন বাজারে প্রবেশের সামর্থ্য ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিয়েছে।” তার মতে, এই পরিস্থিতি এমন চাপ সৃষ্টি করেছে যে, কোম্পানিকে বাধ্য হয়ে তাদের একাধিক ঐতিহাসিক উৎপাদন সুবিধা বন্ধ করতে হচ্ছে।
ইস্পাত উৎপাদনের সবচেয়ে ব্যয়সাপেক্ষ ও জটিল ধাপ ব্লাস্ট ফার্নেস এবং কোক-মেকিং ইউনিট। অ্যালগোমা ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের শুরুর দিকেই এসব কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে। ফলে সরাসরি প্রভাব পড়বে শ্রমিকদের ওপর ২০২৬ সালের ২৩ মার্চ থেকে ছাঁটাই প্রক্রিয়া কার্যকর হবে।
অ্যালগোমা স্টিল কয়েক বছর ধরেই ইলেকট্রিক আর্ক ফার্নেসভিত্তিক (EAF) উৎপাদন ব্যবস্থায় রূপান্তরের পরিকল্পনা করছিল, যা তুলনামূলক পরিবেশবান্ধব এবং কম ব্যয়সাপেক্ষ। তবে ডেভোনি জানিয়েছেন যে “অস্বাভাবিক ও বাহ্যিক বাজার চাপের কারণে আমরা আমাদের পরিকল্পনার এক বছর আগেই EAF-এ রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি। ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য এই পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি।”
অ্যালগোমার এই পরিবর্তন এবং বড় পরিসরের ছাঁটাই কানাডার ইস্পাত শিল্পে আরও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্পের শুল্ক নীতি একাধিক কানাডিয়ান ইস্পাত রফতানিকারকের উপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ডেভোনি নিশ্চিত করেছেন যে, কোম্পানি ভবিষ্যতেও কানাডিয়ান ইস্পাত শিল্পের জন্য ন্যায্য ও প্রতিযোগিতামূলক বাণিজ্য নীতির দাবি জানাবে।

