
কানাডার অন্টারিও প্রদেশজুড়ে ফুড ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণে বেড়ে গেছে। নতুন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কর্মরত থাকা সত্ত্বেও বিপুল সংখ্যক বাসিন্দা এখন এতটাই আর্থিক চাপের মুখে যে, জীবনধারণের ন্যূনতম চাহিদা বিশেষ করে খাদ্য মেটাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফলে ফুড ব্যাংকের সাহায্য ছাড়া অনেকেরই উপায় থাকছে না।
ফিড অন্টারিও সোমবার তাদের বার্ষিক ক্ষুধা-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে বলা হয়েছে চাহিদা এমনভাবে বাড়ছে যে, ফুড ব্যাংকগুলোর সক্ষমতা দ্রুতই তার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। খাদ্যের জোগান যত দ্রুত বাড়ানো হচ্ছে, চাহিদা তার চেয়েও দ্রুতগতিতে উর্ধ্বমুখী।
সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যারোলিন স্টুয়ার্ট সিটিভি নিউজ টরন্টোকে জানান, অন্টারিওতে স্মরণকালের সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতি চলছে। তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি চাহিদার মুখোমুখি, যা অতীতে কখনোই দেখিনি। শুধু গত বছরেই প্রদেশের ফুড ব্যাংকগুলোতে ১০ লাখের বেশি মানুষ সহায়তা চাইতে এসেছে।”
ফিড অন্টারিওর তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত মোট ৮৭ লাখ মানুষ ফুড ব্যাংকের সাহায্য নিয়েছেন, যা ২০১৯ সালের তুলনায় ১৬৫% বেশি, কেবল চলতি বছরেই ফুড ব্যাংকের দ্বারস্থ হয়েছেন ১০,০৭,৪৪১ জন, যা সংস্থাটির উপাত্ত সংগ্রহ শুরুর পর থেকে সর্বোচ্চ। এই সংখ্যা শুধুই দারিদ্র্যের পরিসংখ্যান নয় এটি অন্টারিওর মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের পরিবারের আর্থিক ভঙ্গুরতার একটি গভীর সংকেত।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে ফুড ব্যাংকে আসা প্রতি তিনজনের একজন শিশু, প্রতি তিনজনের একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, প্রতি চারজনের একজন পূর্ণকালীন বা খণ্ডকালীন কর্মরত এবং ২০১৯ সালের তুলনায় কর্মরত মানুষের এই সংখ্যা ৮৩% বেশি।
অর্থাৎ, কাজ থাকা মানেই আর্থিক নিরাপত্তা এই ধারণা অন্টারিওতে আর সত্য নয়। জীবনযাত্রার ব্যয়, বাসাভাড়া, খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি এমন চাপে ফেলেছে যে, নিয়মিত আয়ের মানুষরাও এখন বাধ্য হয়ে দানকৃত খাবারের ওপর নির্ভর করছেন।
ক্যারোলিন স্টুয়ার্ট সতর্ক করে বলেন, “ফুড ব্যাংকে লোকজন আসে তখনই, যখন তাদের সব দরজা বন্ধ হয়ে যায়। যদি ফুড ব্যাংকগুলো নিজেই সেবা কমাতে বাধ্য হয়, তাহলে হাজারো মানুষ খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া বা একেবারেই না খেয়ে থাকার মতো ভয়াবহ সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হবে।”
ইতিমধ্যেই কয়েকটি ফুড ব্যাংক সেবা সীমিত করতে শুরু করেছে, কারণ তাদের স্টক ও অর্থায়ন দুটিই চাপের মুখে রয়েছে। জোগানের বাড়তি চাপ সামাল দিতে অনেক সংস্থাই অতিরিক্ত সময় কাজ করছে, কিন্তু চাহিদা এত দ্রুত বাড়ছে যে সেটা আর নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়েকটি কারণে এই সংকট তীব্র হয়েছে। যেমন – ১) মুদ্রাস্ফীতি – খাদ্যদ্রব্যের মূল্য আগের তুলনায় অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। ২) বাসাভাড়া বৃদ্ধি – আয় বাড়লেও ভাড়ার চাপ তার কাছাকাছি যায়নি। ৩) অস্থিতিশীল আয়ের উৎস – চুক্তিভিত্তিক চাকরি, পার্টটাইম কর্মসংস্থান যা স্থায়ী নিরাপত্তা দেয় না। এবং ৪) বিমা ও সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধার পর্যাপ্ততা না থাকা – অনেককেই চিকিৎসা, পরিবহন ও শিক্ষার ব্যয় মেটাতে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী এই প্রবণতা যদি চলতেই থাকে, তাহলে অন্টারিওর খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা এক নতুন সংকটের দিকে এগোতে পারে। ফুড ব্যাংকগুলোকে শুধুমাত্র জরুরি সহায়তার কেন্দ্র নয়, বরং দৈনন্দিন বেঁচে থাকার প্রধান ভরসা হিসেবে ব্যবহার করছেন বহু মানুষ যা একটি উন্নত দেশের অর্থনৈতিক স্থিতির জন্য উদ্বেগজনক সংকেত।
This article was written by Sohely Ahmed Sweety as part of the LJI.

