
অন্টারিওর শিশুদের শিক্ষাগত অগ্রগতি পরিমাপের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার এডুকেশন কোয়ালিটি অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিসের পরীক্ষার ফলাফল এ বছর এখনও প্রকাশ করা হয়নি। সাধারণত সেপ্টেম্বরের শেষ কিংবা অক্টোবরের শুরুর দিকে যে ফলাফল প্রকাশিত হয়, ডগ ফোর্ড সরকারের নির্দেশে তা এখনও ‘বিশ্লেষণাধীন’। এতে অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষানীতি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে সরকার কি ইচ্ছাকৃতভাবে ফলাফল ধরে রেখে একটি অস্বস্তিকর বাস্তবতা আড়াল করতে চাইছে?
ইকিউএও প্রতিবছর গ্রেড ৩ ও ৬-এর রিডিং, রাইটিং ও গণিত এবং গ্রেড ৯ ও ১০-এর লিটারেসি পরীক্ষা নেয়। এই মূল্যায়নগুলিই স্কুলে শেখার মান এবং নীতিগত পরিবর্তনের প্রভাব বোঝার নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু এ বছর ফলাফল প্রকাশ না হওয়ায় সমালোচনা তীব্র হলে প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড জানান “আমরা স্কোর বিশ্লেষণ করছি। আরও ভালোভাবে বুঝতে চাইছি কেন স্কোরগুলো আপেক্ষিকভাবে কম। ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান STEM সেক্টরে, তাই শিক্ষার্থীদের দক্ষতা যাচাই করতে বিশদ বিশ্লেষণ প্রয়োজন।” সরকার দাবি করছে এটি কোনো ‘গোপনীয়তা’ নয় বরং ‘গভীর বিশ্লেষণের অংশ’। তবে সমালোচকদের মতে, পূর্বে কখনও এ রকম দীর্ঘ বিলম্ব দেখা যায়নি।
শিক্ষামন্ত্রী পল ক্যালান্দ্রা বলেন, ডেটা বিশ্লেষণের জটিলতার কারণে প্রকাশে দেরি হচ্ছে। তিনি যোগ করেন “আমি নিজেই দায় নিচ্ছি। আমরা খুব শিগগিরই ফলাফল প্রকাশ করব। তথ্য প্রস্তুত হলেই তা জনগণের সামনে আনা হবে।” তবে এই প্রতিশ্রুতির পরও কবে সেই ‘শিগগির’ আসবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
অন্টারিও এনডিপির শিক্ষা সমালোচক চন্দ্র পাসমা সরকারের ব্যাখ্যাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছেন। তার অভিযোগ “সরকার বলছে, স্কুলে তহবিল কমানো শিক্ষার মানে কোনো প্রভাব ফেলেনি। কিন্তু যদি EQAO স্কোর খারাপ আসে, তাহলে তাদের সেই দাবি ভেঙে পড়বে। তাই তারা সময় নিচ্ছে, যাতে জনসমক্ষে নেতিবাচক ফলাফল না আসে।” পাসমার মতে, সাম্প্রতিক কারিকুলাম পরিবর্তন এবং আর্থিক কাটছাঁটের নেতিবাচক প্রভাবই সরকারের কাছে স্পষ্ট, তাই ফলাফল গোপন রাখার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
শিক্ষাবিদরা বলছেন এডুকেশন কোয়ালিটি অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিস ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব তিনটি সম্ভাব্য সংকেত দিতে পারে –
১) গাণিতিক দক্ষতার পতন
কোভিড-পরবর্তী সময় থেকে অন্টারিওর গণিত স্কোর নিম্নমুখী। নতুন কারিকুলাম যথেষ্ট কার্যকর না-ও হতে পারে।
২) শিক্ষক সংকট ও ফান্ডিং ঘাটতি
শ্রেণিকক্ষে বাড়তি চাপ, কম তহবিল, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত সহায়তার অভাব এসব স্কোর কমে যাওয়ার কারণ হতে পারে।
৩) রাজনৈতিক চাপ
সরকার যদি স্কোর খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করে, তবে রাজনৈতিক ক্ষতি এড়াতেই ফলাফল বিলম্ব হতে পারে।
অনেক অভিভাবক সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের বক্তব্য “যেখানে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে, সেখানে ফলাফল সময়মতো না পাওয়া স্বচ্ছতার ঘাটতি তৈরি করছে।” স্কুল বোর্ডের অনেক কর্মকর্তাও বলছেন, এডুকেশন কোয়ালিটি অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিস ডেটা না পেলে তারা উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করতে পারছেন না।
ফোর্ড সরকার ফলাফল বিশ্লেষণের অজুহাতে এডুকেশন কোয়ালিটি অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিস ডেটা প্রকাশ স্থগিত রাখলেও সমালোচক, অভিভাবক ও শিক্ষাবিদরা মনে করছেন সরকার অস্বস্তিকর সত্যের মুখোমুখি দাঁড়ালেই তা জনসমক্ষে আনবে। এডুকেশন কোয়ালিটি অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিস ফলাফল অন্টারিওর শিক্ষা ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। তাই এর প্রকাশ নিয়ে অনিশ্চয়তা যত বাড়ছে, ততই স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন ঘনীভূত হচ্ছে।
সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ফলাফল “শিগগিরই” প্রকাশ পাবে। এখন শুধু অপেক্ষা—কখন সত্যটি সামনে আসে, এবং তা অন্টারিওর শিক্ষানীতিকে কোন দিকে পরিচালিত করে।

