
প্রাইভেট স্পন্সরশিপের মাধ্যমে শরনার্থী আনার নতুন আবেদন গ্রহণের ওপর আরোপিত স্থগিতাদেশ আরও ১২ মাস বাড়িয়েছে কানাডা সরকার। অভিবাসনমন্ত্রী লেনা ডিয়াব জানান, ইতোমধ্যেই জমে থাকা অনিস্পন্ন আবেদনের পাহাড় কমিয়ে আনা ছাড়া সরকারের কাছে আর কোনও বাস্তবসম্মত পথ নেই। ফলে স্থগিতাদেশের মেয়াদ আগামী ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে।
সরকারের এই নতুন নির্দেশনা শুক্রবার কানাডা গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে এবং একই দিন ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা তাদের ওয়েবসাইটে নোটিশ আকারে সিদ্ধান্তটি জানিয়েছে।
স্থগিতাদেশ বিশেষভাবে প্রযোজ্য হবে পাঁচ বা ততোধিক সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত কমিউনিটি অর্গানাইজেশন বা স্পন্সর গ্রুপ–এর জমা দেওয়া নতুন রিফিউজি স্পন্সরশিপ আবেদনের ক্ষেত্রে। স্পন্সরদের দায়িত্ব থাকবে শরনার্থী কানাডায় পৌঁছানোর পর প্রথম এক বছর, অথবা তারা নিজে নিজেদের ভরণপোষণে সক্ষম হয়ে ওঠা পর্যন্ত সহায়তা করা। কোনটি আগে ঘটে, তা-ই কার্যকর হবে।
ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা-র নোটিশ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৯ নভেম্বর স্থগিতাদেশ কার্যকর হওয়ার আগে জমা পড়া সব আবেদন আগের নিয়মেই প্রক্রিয়াকরণ করা হবে। ফলে হাজারো আবেদনকারী ও স্পন্সর পরিবার এখনো আশাবাদী যে দীর্ঘ অপেক্ষার পরও তাদের ফাইল এগোবে।
অভিবাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রেকর্ড সংখ্যক আবেদন জমা হওয়ায় প্রক্রিয়াকরণ সময় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। অতিরিক্ত চাপের কারণে নতুন আবেদন গ্রহণ করলে অনিস্পন্ন ফাইলের পরিমাণ আরও বাড়বে এবং ইতোমধ্যে অপেক্ষায় থাকা হাজারো শরনার্থীর ফাইল আরও দীর্ঘ সময় আটকে থাকবে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, এই স্থগিতাদেশের উদ্দেশ্য হলো ব্যাকলগ কমানো, প্রক্রিয়াকরণে স্থিতিশীলতা আনা, এবং বিদ্যমান স্পন্সরদের প্রতিশ্রুতি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা।
যদিও সরকারের ভাষ্য ব্যাকলগ কমানো, স্পন্সর গ্রুপগুলো এই সিদ্ধান্তকে দেখছে উদার কানাডিয়ান মূল্যবোধকে ক্ষুণ্ন করা হিসেবে। বহু বছর ধরে যারা নিজেদের অর্থ, সময় ও মানবিক দায়বদ্ধতার ভিত্তিতে শরনার্থী পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে কাজ করছেন, তাদের দাবি সরকার জনগণের ইচ্ছা ও মানবিক উদ্যোগ থেকে সংস্পর্শ হারিয়ে ফেলছে।
এক স্পন্সর গ্রুপের প্রতিক্রিয়া এভাবে উঠে এসেছে “এই সিদ্ধান্ত মূলত আমাদের কানাডিয়ান হিসেবে উদারতার চর্চার সামর্থ্যকে অস্বীকার করা। প্রাইভেট স্পন্সরশিপ কার্যক্রম এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে নাগরিকরা সরাসরি মানবিক সহায়তার অংশ হতে পারে। অথচ সরকারের এই পদক্ষেপে আমাদের সেই ভূমিকা উপেক্ষিত হচ্ছে।”
এই স্থগিতাদেশের ফলে নতুন শরনার্থী আনতে ইচ্ছুক হাজারো কানাডিয়ান নাগরিক ও কমিউনিটি গ্রুপকে অতিরিক্ত এক বছর অপেক্ষা করতে হবে। আন্তর্জাতিক মানবিক সংকট মোকাবিলায় কানাডার প্রাইভেট স্পন্সরশিপ মডেল যা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত সেটির কার্যকারিতা সাময়িকভাবে কমে যাবে। অভিবাসন নীতিতে সরকারের অগ্রাধিকার ও বাস্তব সক্ষমতা নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হবে।
সরকার বলছে এটি একটি প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সমন্বয়, কিন্তু সমালোচকরা মনে করছেন, এটি মানবতার প্রতি কানাডার অঙ্গীকারকে সাময়িক হলেও দুর্বল করছে। আগামী এক বছরে ব্যাকলগ কতটা কমে এবং স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি সরকার কতটা পালনে সক্ষম হয় সেটার ওপরই নির্ভর করছে পুরো উদ্যোগটির ভবিষ্যৎ।
This article was written by Sohely Ahmed Sweety as part of the LJI.

