
দুই বছর আগে পাস হওয়া কানাডার সংশোধিত আগ্নেয়াস্ত্র আইনের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিধান বাস্তবায়নে লিবারেল সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করেছে অন্তত এক ডজন উইমেন’স অ্যাডভোকেসি গ্রুপ। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে তারা জানায়, আইনটি যথাযথভাবে কার্যকর হলে সুরক্ষা আদেশ জারি হওয়া ব্যক্তিদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স গ্রহণের অযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হতো যা গৃহস্থালী সহিংসতার ঝুঁকি কমাতে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
নারী অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, গৃহস্থালী সহিংসতার মামলায় সুরক্ষা আদেশ প্রায়ই দেওয়া হয়, এবং এসব পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র হাতে থাকলে তা ভুক্তভোগীর জীবনের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। তাদের বক্তব্য, এই বিধান বাস্তবায়ন হলে অপব্যবহারকারী বা সহিংসতার অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র দ্রুত সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হতো যা অনেক ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি প্রতিরোধ করতে পারত।
বিবৃতিতে সংগঠনগুলো উল্লেখ করে, “যখন একজন অপব্যবহারকারী অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে ওঠে, তখন তার হাত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র দ্রুত সরিয়ে নেওয়া জীবন রক্ষার জন্য অপরিহার্য। অথচ আইন পাস হওয়ার পরও বাস্তবায়নের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই।”
এই প্রতিবাদী সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব উইমেন অ্যান্ড দ্য ল, উইমেন’স শেল্টার্স কানাডা, ওয়াইডব্লিউসিএ কানাডা, কানাডিয়ান কাউন্সিল অব মুসলিম উইমেন, উইমেন’স লিগ্যাল এডুকেশন অ্যান্ড অ্যাকশন ফান্ড। ফেডারেল জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের কাছে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবসের ঠিক পরেই এবং মন্ট্রিয়লের ঐতিহাসিক ইকোল পলিটেকনিক গণহত্যার বার্ষিকীর কয়েক সপ্তাহ আগে এই বিবৃতি প্রকাশ করে গ্রুপগুলো। ১৯৮৯ সালের ৬ ডিসেম্বর ঘটে যাওয়া ওই মর্মান্তিক ঘটনায় ১৪ জন নারী বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হন। এই দিনটি কানাডায় এখন ন্যাশনাল ডে অব রিমেম্ব্র্যান্স অ্যান্ড অ্যাকশন অন ভায়োলেন্স এগেইনস্ট উইমেন, অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে হোয়াইট রিবন ডে নামে পরিচিত।
গণহত্যার পর গড়ে ওঠা অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ গ্রুপ পলিসেসোভিয়েন্টও সরকারকে একই বিষয়ে লিখিতভাবে জানিয়েছে তাদের উদ্বেগ। তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করে, “যখন লিবারেল এমপিরা ৬ ডিসেম্বর সাদা ফিতা পরেন, অথচ একইসঙ্গে আইনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাস্তবায়নে সরকারের ব্যর্থতা চলতে থাকে তা ভুক্তভোগী নারীদের প্রতি অসম্মানজনক, এমনকি শঠতাও।”
২০২৩ সালে পাস হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র আইনে আরও কঠোরতা আনার জন্য গত মার্চে নতুন নীতিমালা প্রস্তাব করেছিল লিবারেল সরকার। তবে নারী অধিকার সংগঠনগুলোর বক্তব্য, আইন সংশোধন বা নতুন প্রস্তাব নয়, বরং ইতিমধ্যেই পাস হওয়া বিধানগুলো বাস্তবায়ন করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
বিশ্লেষকদের মতে, গৃহস্থালী সহিংসতার মামলায় আগ্নেয়াস্ত্র জড়িত থাকলে প্রাণহানির ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই এই বিধান বাস্তবায়নে বিলম্ব ভুক্তভোগীদের জন্য বাস্তব ও তাৎক্ষণিক ঝুঁকি তৈরি করছে।
নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে সরকার কী পদক্ষেপ নেবে এখন সেই দিকেই তাকিয়ে আছে অধিকার কর্মীরা।
This article was written by Sohely Ahmed Sweety as part of the LJI.

