
কানাডায় নন-মর্টগেজ ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার হার চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছে ইকুইফ্যাক্স কানাডা। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ৯০ দিনের মধ্যে নন-মর্টগেজ ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার হার দাঁড়িয়েছে ১.৬৩ শতাংশ, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেশি। অর্থনৈতিক চাপ ও উচ্চ সুদের পরিবেশ এই উত্থানের মূল কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইকুইফ্যাক্স কানাডা আরও জানায়, তৃতীয় প্রান্তিকে সার্বিক ভোক্তা ঋণের পরিমাণ পৌঁছেছে ২.৬২ ট্রিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৩.৪ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া ভোক্তাপ্রতি গড় নন-মর্টগেজ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২,৩২১ ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ৫১১ ডলার বেশি অর্থাৎ ব্যক্তিগত ঋণের ভারও ক্রমশ বাড়ছে।
ইকুইফ্যাক্স কানাডার অ্যাডভান্সড অ্যানালিটিক্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট রেবেকা ওকস বলেন, “বছরের শুরুতে আমরা কিছুটা স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেখেছিলাম। কিন্তু তৃতীয় প্রান্তিকে নতুন করে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার হার বাড়তে শুরু করেছে। এর বড় অংশ এসেছে শহুরে কেন্দ্রের তরুণ পরিবার এবং বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে।”
ওকসের মতে, উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়, সুদের হার বৃদ্ধি এবং ঘরে ঘরে বেড়ে চলা আর্থিক চাপ তরুণদের জন্য ঋণ ব্যবস্থাপনা আরও কঠিন করে তুলছে। অনেক পরিবারই এখন ক্রেডিট কার্ডকে দৈনন্দিন ব্যয়ের সমাধান হিসেবে ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে, যা আসন্ন সময়কে আরও চ্যালেঞ্জিং করে তুলতে পারে।
বছরের শেষভাগে সাধারণত ক্রেডিট কার্ড ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এ প্রসঙ্গে ওকস সতর্ক করে বলেন, “ছুটির মৌসুমে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। তাই বহু কানাডিয়ানের জন্য সামনে কয়েক সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি ও উচ্চ সুদের ঋণের সমন্বয়ে আগামী প্রান্তিকগুলোতে আরও বেশি ঋণ পরিশোধ ব্যর্থতা দেখা দিতে পারে। আধুনিক কানাডিয়ান সমাজে আর্থিক চাপ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি, এবং ঋণ পরিস্থিতির এই পরিবর্তন দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

